স্বর্ণদ্বীপের শুঁটকি

 

Coxs-Sonadia-04
মহেশখালীর উপজেলার স্বর্ণদ্বীপখ্যাত সোনাদিয়ায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শুরু হয়েছে শুঁটকি উৎপাদন মৌসুম। এ দ্বীপের শুঁটকি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে বিদেশেও।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই দ্বীপে ৬ মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়।

মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এ দ্বীপ। সোনাদিয়ায় রয়েছে দুটি চর। একটি বড়চর, অপরটি মগচর। এর মধ্যে মগচরে চলে শুঁটকি উৎপাদন।

সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য ব্যবসায়ীরা এখানে তৈরী করেন অস্থায়ী বাসা। এ বছর মাছ শুকানোর জন্য ৪০টিরও বেশী বাসা তৈরী করা হয়েছে।

বাসার পাশে বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরী ঘেরগুলোতে পসরা সাজানো হয়েছে নানারকম মাছের। এখানে ছুরি, লইট্যা, পোহা, ফাইস্যা, লায়োক্কা, মাইট্যা মাছসহ বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি উৎপাদিত হয়। দ্বীপের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে চায়ের ১০টি দোকান। নামাজের জন্য রয়েছে মসজিদও।

ব্যবসায়ী আলী আজগর সওদাগর (৫০) জানান, সাগর থেকে মাছ আহরণ করে জেলেরা সোনাদিয়ার চরে নিয়ে আসেন। সপ্তাহ পর পর নৌকাগুলো মাছ নিয়ে চরে আসে। এ সময় বহু মানুষের সমাগম হয়। ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে মাছ কিনে নেন। পরে তা শুকিয়ে বিক্রি করেন।

দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও কক্সবাজার সদর, খুরুশকূল, চৌফলদণ্ডী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর লোকজন এখানে ব্যবসা করতে আসেন।

আহম্মদ বহদ্দার, ছৈয়দ কাদের এবং শুক্কুর বহদ্দার জানান, সোনাদিয়ার সঙ্গে কক্সবাজার ও মহেশখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত, যে কারণে তাদের পরিবহন খরচ বেশী গুনতে হয়।

ব্যবসায়ী আবদুল করিম (৩৩) জানান, সোনাদিয়ার শুঁটকিতে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। ফলে এই শুঁটকি এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়। বিদেশে এই শুঁটকির বেশ চাহিদা রয়েছে।

শুঁটকি উৎপাদনকারী মঞ্জুর মিয়া (৪০) জানান, দীর্ঘ ৬ মাসে এখানে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত শুঁটকি উৎপাদনকারীরা পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে দেন। পরে তা ছড়িয়ে যায় দেশ-বিদেশে।

সোনাদিয়ার এই শুঁটকিমহাল কেবল বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়; এটি একটি পর্যটন স্পটও। শুঁটকি মৌসুমে এখানে ভ্রমণে আসেন দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক। পর্যটকরা সরাসরি শুঁটকিমহাল থেকেই কিনে নেন পছন্দের শুঁটকি।

স্থানীয় চা দোকানের মালিক মনি উল্লাহ (৩২) জানান, শুঁটকি মৌসুমে প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে আসেন। পর্যটকরা এখানকার শুঁটকি বেশ পছন্দ করেন।
আব্দুল্লাহ নয়ন, কক্সবাজার।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন