হরতাল-অবরোধে হাসপাতালগুলোতে ঔষধের সংকট

 

olionহরতাল-অবরোধের কারণে সরবরাহ না থাকায় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ঝিনাইদহের হাসপাতালগুলোতে। ওষুধ না পেয়ে রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। গত রোববার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কালিকাপুর এলাকার মাজেদা খাতুন বলেন, হাসপাতাল থেকে তাঁকে সব ওষুধ দেওযা হযনি। বলা হয়েছে, হাসপাতালে ওষুধ আর নেই। গত সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আড়পাড়া এলাকার মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে হাসপাতাল থেকে যতটুকু ওষুধ পাওয়া যেত, এখন তা পাওযা যাচ্ছে না। সেবিকারা বলেছেন ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে।স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলায় একটি সদর হাসপাতাল, পাঁচ উপজেলায় পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১৩টি উপকেন্দ্র (সাব-সেন্টার) রয়েছে। এগুলোতে বছরে প্রায় সাত লাখ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থাকে প্রায় এক লাখ রোগী। রোগীদের জন্য বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, মেট্রোনিডাজল, পেনিসিলিন-ভি, ওমিপ্রাজল, টেট্রাসাইক্লিন।ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া ওষুধ বগুড়ার ঠনঠনিয়ায় অবস্থিত ইডিসিএলের (এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড) কারখানা থেকে আনা হয় প্রতিবছর তিন দফায় ওষুধ এনে জেলার সব হাসপাতাল ও উপকেন্দ্রে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা রোগীদের মধ্যে ওষুধ বিতরণ করেন। তিনি আরও জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওষুধ আনা হয়। ফেব্রয়ারী মাস পর্যন্ত ওষুধ সরবরাহ ঠিক ছিল। এরপর তাঁরা আর ওষুধ আনতে যেতে পারছেন না।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা আরও বলেন, দুটি ট্রাক প্রয়োজন হয় ওষুধ আনতে। বাইরে থেকে গাড়ি ভাড়া করা হয় কিন্তু হরতাল আর অবরোধের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে ওষুধের সংকট শুরু হয়েছে। তবে দ্রুত ওষুধ আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুদামরক্ষক শহিদুল আলম বলেন, সংকট শুরু হওয়ায় তাঁরা চাহিদার অর্ধেক ওষুধ রোগীদের মধ্যে সরবরাহ করছেন। প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজলসহ কয়েকটি ওষুধ একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। অনেক রোগী ওষুধ কম পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। আবার অনেকে প্রতিবাদ শুরু করছে। তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুদামরক্ষক আবদুর রাজ্জাক জানান, এ সংকট আর কিছুদিন চললে ওষুধ দেওয়া পরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।সিভিল সার্জন আবদুস সালাম বলেন, এটাকে সংকট বলা যাবে না। হাসপাতালগুলোতে কিছু ওষুধ না থাকায় তাঁরা সেগুলো দিতে পারছেন না। নতুন করে ওষুধ না আনা পর্যন্ত বিতরণ করা সম্ভব হবে না। বিষয়টি দ্রুত দেখবেন বলে জানান তিনি।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন