হাইব্রিড সাংবাদিক অতঃ পর …

 

এ,এম, হোবাইব সজীব,
বর্তমানে রাজনৈতিকে হাইব্রিডের সংখ্যা সচারাচর হলেও তা সীমাবদ্ধ নেই, মহেশখালীতে সাংবাদিকতা পেশা আজ আতংকের একটি নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্রে। সাংবাদিকতা পেশা সেবামূলক পেশা হলেও হাইব্রিড সাংবাদিক”র দৌরাত্ম্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাংবাদিকতা আর চাঁদাবাজ ক্রমে সর্মথক হয়ে পড়েছে। আসলে সাংবাদিকরা কি চাঁদাবাজ ? না কি চাঁদাবাজরাই এখানে সাংবাদিক হয়ে গেছে? মাত্র কয়েক হাজার টাকার বেতনের একটা চাকুরী জোটভার যার মুরুদ নেই, অথবা যে ভাগ্যের কাজের সন্ধানে মহেশখালীতে আর কোনো উপায়ন্তর না দেখে সাংবাদিক হয়েছে। তার যদি চাঁদাবাজির খাসলত তাকে, তবে কোন যুক্তিতে সাংবাদিক বলি? বরন লেবাজধারী ভিক্ষুক বললেই তাকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে।

হাইব্রিড সাংবাদিক”র আনাগোনা কারনে কলুষিত হচ্ছে মহৎ এ পেশা। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে প্রাজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। হাইব্রিডরা বিজ্ঞ সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে নিজেরাই যেন সিনিয়রদের সিনিয়র। অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ এ পেশায় হাইব্রিডের নেই কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ, নেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যাতা। দেশের সাংবাদিক সমাজ যখন ভাল পথ দিয়ে উচ্চ শিখরে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক এসময় মহেশখালীতে হাইব্রিডের কারনে ক্রমাবনতি ঘটতে যাচ্ছে এ পেশা।

তবে মহেশখালীতে সাংবাদিক নামধারী এক শ্রেণীর ভিক্ষুকের এই জাতীয় কর্মকান্ড আমার অজানা নয়। এরা তো সাংবাদিকতার দন্তস্য ও জানে না। এরা তো জানবার প্রয়োজন ও বোধ করেনা। এদের যারা নিয়োগ দেন, তারা ও এদের কাছ থেকে এমন রিপোর্ট চান, যেনো পরদিন একটা প্রতিবাদ আসে। আন্ডারগ্রাউন্ড কথিত সাংবাদিকদের দৌঁড় ফলের দোকানদার, ভূমি অফিসের বারান্দা, পতিতালয়, মাদকের ডেরা কিংবা থানার কম্পাউন্ড। কিন্তু চাঁদার রেট বেশী নেয়ার কৌশল ও খান্দানী এমন বড় সাংবাদিক ও মহেশখালীতে আছেন।

একজন সাংবাদিকের দায়িত্বও কর্তব্য কি! দায়বদ্ধতা কতটুকু! নীতিনৈতিকতা বলতে কোন ধরনের ! সহপাটির সম্পর্কে কোন ধরনের মনোভাব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকতা পেশায় স্বাধীনতা থাকতে পারে কিন্তু স্বেচ্ছচারিতা অপসাংবাদিকতা বা হলুদ সাংবাদিকতার কোনো অবকাশ নেই। সুস্থ সমাজ ঘটনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা থাকতে হবে যা একজন সাংবাদিককে দেবে সঠিক পেশাদারিত্ব। পেশাদারিত্বের প্রথম কথা হল পেশায় সত্যচর্চা। মিথ্যা কোনো আশ্রয় নেয়ার অবকাশ নেই।

এখন মহেশখালী উপজেলাতে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি অংশ সত্য তথ্য বহুল সংবাদ পরিবেশন করার দুরের কথা অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে সহপাটিদের পেশাগত দায়িত্বে পালনে সন্ত্রাসী বিরোধী রিপোর্ট করলে সুকৌশলে সন্ত্রাসীরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিলে ও তারা কোন পত্রিকায় নিন্দা ও বিবৃতি দেওয়াসহ মানবন্ধন করার দৃশ্য লক্ষ করা যায় না। সেবাধর্মী এ পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, ও যোগ্যতা না থাকায় আস্থা হারাচ্ছে সিনিয়র জ্ঞানী সাংবাদিকরা। এর মূলকারণ আন্ডারগ্রাউন্ড।
hobaib sajjib://teknafnews71.com/wp-content/uploads/2015/10/hobaib-sajjib.jpg”>hobaib sajjib
“ঢাল নেই তলোয়ার নাই, বিধিরাম সর্দার” খুব নিচে মনের লোক এরাই আন্ডারগ্রাউন্ড। যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। তাদেরকে আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে এক শ্রেণীর সুবিধাবাধী ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধকারী সাংবাদিক। তবে প্রাজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিকরা মোটেই পছন্দ বা প্রশ্রয় দেননা আন্ডারগ্রাউন্ডদেরকে। এখন প্রশ্ন আন্ডারগ্রাউন্ড রোধ বা এর থেকে প্রতিকার কি! তাদের কাছে নেই কোনো নীতিমালা বা নিয়ম কানুন। এ পেশার সাথে রয়েছে নৈতিকতাবোধ ও নীতিমালা ঘনিষ্ট সর্ম্পক। আজ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সততা ও নীতির ভেদ রেখাটা কোথায় তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন? উত্তর একটাই “আন্ডারগ্রাউন্ড”। যততত্র কার্ডধারী সাংবাদিকদের দাপট! যে বা যারা সংবাদের শিরোনাম বা ইনট্রু পর্যন্ত লিখতে জানানে সে আন্ডারগ্রাউন্ডের কাছে পুরো পেশা জিম্মি। এর উত্তর ঘটবে কি!
প্রকৃত পেশাদারী সাংবাদিক যিনি পরকালকে ভয় করে, যোগ্যতার সঙ্গে সততা ও ন্যায়নিষ্টা সহকারে সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ-প্রতিবেদন রচনা। সত্য ও সঠিক সংবাদ যথাসম্ভব নির্ভূল ভাষায় পাঠকের কাছে উপস্থাপনা এর জন্য প্রয়োজন সৎ সাহস এবং নীতির কাছে অবিচল। দুনীতি-অনিয়ম সন্ত্রাসীদের চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা অর্থাৎ সত্য ঘটনাটাই জানাই হচ্ছে নীতি-নৈতিকতার পরিচায়ক।
অর্থা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সত্য অনুদঘটিত থাকলে সমাজে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই সত্যর কাছে কোন আপোষ নেই। সত্য লিখতে গিয়ে মিথ্যা মামলা হামলাকে ভয় না করে আতœীয়, স্বজন দলীয় আর্দশের উর্ধেŸ উঠে সত্য ঘটনা লিখনই নীতিবান সাংবাদিকের পরিচয়। এক পেশে, মনগড়া, ভুল ভরা তথ্য, অর্থের জন্য মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা এগুলো সাংবাদিক পেশাকে কলংকিত করছে। আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিক মানে ভাড়াটিয়া, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা, চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ, কৃত্রিম সাংবাদিক,কোনো স্বাদ নেই, আর নেই প্রোটিন। যাদেরকে সমাজে বিদ্রুপ করে সাংঘাতিক বলা হয়।

যাদেরকে জাতীর বিবেক বলে সাধারন লোকজন চিনেন এবং জানেন তাদের কাছে সাধারন মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে কেন? সাংবাদিক আজ “আতংকের” একটি নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের মত সকলের কাছে প্রিয় নাম” প্রিয় শব্দ আর নেই। কক্সবাজার জেলায় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের যখন ছড়াছড়ি আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিকদের তখন পোয়াবারে। শুধু পোয়াবারে নয় এখন তারা বেপরোয়া ও। তাদেরকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী। এ ক্ষেত্রে প্রাজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিক মহল ও সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক মহোদয়কে এ গিয়ে আসতে হবে। শেষ করতে হবে অপসাংবাদিকতা আন্ডারগ্রাউন্ডারকে। মহেশখালী উপজেলা এখন আন্ডারগ্রাউন্ডের সয়লাব। ভিবিন্ন সভা -সমাবেশে তারা জোর দখল নেয় সিনিয়রদের আসন।

সিনিয়রদের সম্মানের পরিবর্তে অবমূল্যায়ন ও উপেক্ষা করা। কার্ডধারী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও কপিরাইট সাংবাদিকতা আজ সাংবাদিক পেশাকে করেছে কলুষিত। আস্থা ও সুনাম হারাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ পেশা। দলীয় আর্দশের ভিত্তিতে পত্রিকায় নিয়েগ, আত্মীয়তা, ও বন্ধুত্বের খাতিরে নিয়োগই আন্ডারগ্রাউন্ডের নামে অপসাংবাদিকতার ছড়াছড়ি। মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্থ সাংবাদিকও যে নেই তা বলা যাবে না। বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন নেই আছে শুধু কর্মাশিয়াল, দলীয় আনুগত্য ও ব্যাক্তিগত আক্রোশের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনা। পেশাগত অভিজ্ঞাতা না থাকার পর চাঁদাবাজির করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আন্ডার গ্রাউন্ডরা”

বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্টানের কাছে হুমকি-ধমকি দিয়ে মোটা অংকের চাঁদাবাজির বদনামও অহরহ শুনা যাচ্ছে। রাতারাতি বিত্ত-বৈভের মালিক হওয়ার আশায় বেছে নিচ্ছে এ পেশা। ব্যবসাায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধ হাসিল করার কুমানসেও এ পেশার আশ্রয় গ্রহন করেছে। সংবাদ পত্র সমাজের দর্পণ হলে ও আজ ব্যাক্তিগত অর্জন! হিসেবে বেছে নিয়েছে অনেকে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে সিন্ডিকেট মেইল সেন্ট বা কপি সাংবাদিকতা চলছে অহরহ্।
অনলাইন মাধ্যম থেকে কপি করে নিজের নাম ছাপিয়ে সংবাদ পরিবেশন কি আন্ডারগ্রাউন্ড বুঝায় না! অনলাইন সাংবাদিক ও আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিক ও কম নেই। আমি চ্যালঞ্জ করে বলতে পারি কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আমাদের কক্সবাজারে আমার প্রকাশিত সন্ত্রাস বিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অন্য কোন প্রত্রিকায় একই দিন সিন্ডিকেট করে ছাপানের কোউ প্রমান দিতে পারলে আমি সাংবাদিকতা পেশা থেকে স্বইচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য থাকিব। এ সমস্ত সাংবাদিক নামক কলংকরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান থেকে মাসিক মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ ও কম নয়। বিজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিকরা তাদের দৌরত্ম্যের ব্যাপারে আক্ষেপ করে বলেন, এ পেশার মান আজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সমস্ত সাংবাদিকদের ব্যাপারে বিচলিত হন তারা। বিভিন্ন জনকে হয়রানী ও চাঁদাবাজি করার কারণে ভাল চোখে দেখছেনা লোকজন ও মহৎ এ পেশাকে। এ দুর্নাম গোঁছাতে আন্ডারগ্রাউন্ডদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সিনিয়রদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনকে দিতে হবে তাদেরকে। তাদের চাহিদা না পেলে যেন তেন লিখে এ পেশাকে করছে কলংকিত। মহেশখালী উপজেলা আন্ডারগ্রাউন্ড কথিত সাংবাদিক মুক্ত হবে কি! এছাড়া ইকবাল উদ্দিন এর সম্পাদনায় দৈনিক দৈনন্দিন” দৈনিক আপন কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ্ব রুহুল আমিন সিকদার”বর্তমানে কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আজকের কক্সবাজার বার্তার”ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুর রহিম শাহীন, দৈনিক সাগর দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফা সরওয়ার, দৈনিক কক্সবাজারের সিনিয়র স্টাপ রিপোর্টার মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে ২০০৫ সালে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি, পত্রিকায় আমি যখন কাজ শুরু করি তখন আন্ডারগ্রাউন্ড, ভুঁইফুড ও কপি সাংবাদিকের আনাগোনা ছিল না। আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিক এখন এ পেশায় অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাই সাধুরা সাবধান! প্রিয় পাঠক। লেখাটি অনেকের জন্য অপ্রিয় হতে পারে। এজন্য ক্ষমার দৃষ্টিতে প্রত্যাশা করা ছাড়াই কিছুই নেই। বিষয়টি বাস্তবতার নিরেখে লেখা।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন