হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিনে অালমগীর অালম নিসার শুভেচ্ছা

 

Screenshot_2016-02-23-23-41-56

১৭ ই মার্চ, ২০১৬ বাংলাদেশের স্বাধীনতা
আন্দোলনের মহা নায়ক হাজার বছরের
শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন আজ।আওয়ামীলীগের সভাপতি ও
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে
শুভেচ্ছা।শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭মার্চ তদানীন্তন ভারতীয়
উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত
ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার
পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান
গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের
সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের
হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং
মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা
এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি
ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন
ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া
বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন
লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ
আবু নাসের।
১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু
করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে।তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ
পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই
১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ
ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম
শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার
বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে
যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে
জটিল রোগের কারণে সার্জারি
করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ
সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল।
গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে
তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে শেখ
মুজিবুর রহমানের সাথে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়।
কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ
রেহানা। আর পুত্রদের নাম শেখ
কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ
রাসেল।১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্পূতী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক
পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন
ছাত্রনেতা। ক্রমে তিনি আওয়ামী
লীগের জাতীয় নেতৃত্বের উচ্চপদে
আসীন হয়েছিলেন। তার বড় গুণ ছিল
তুখোড় বক্তৃতা প্রদানের ক্ষমতা।
সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন
অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন
পূর্ব পাকিস্তনের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল
ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন
গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা
স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব
করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে
একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা
হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয়
দফা দাবীর মধ্যে প্রধান ছিল বর্ধিত
প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন যার কারণে
তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের
অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮
খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে
যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে
তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে
তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার
নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল
বিজয় অর্জন করে।
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান
এবং পশ্চিম পাকিস্তানের
রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর
সাথে শেখ মুজিবে আলোচনা বিফলে
যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চ ২৫
মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী
ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে।
একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়
এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম
পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে
তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে তবে তা
কার্যকরা হয় নি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী
মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর
কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী
আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ
নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়।
১০ এপ্রিল ১৯৭২ শেখ মুজিব
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত
হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি
হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান
রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান
পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা
ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের জাতির
জনক হিসেবে বিবেচিত। তিনি
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি,
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং
পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর
দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের
কাছে তিনি “শেখ মুজিব” এবং “শেখ
সাহেব” হিসাবে বেশি পরিচিত এবং
তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে
ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে
অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা
সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব,
সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে
ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি
কঠিন সময় অতিবাহিত করেন।১৯৭৫ সালের ১৫
আগস্ট তারিখে একদল বিপদগামী
সামরিক কর্মকর্তার হাতে বঙ্গবন্ধু
সপরিবারে নিহত হন। বঙ্গবন্ধু
হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর কন্যাদ্বয়
বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে
গেলেও বঙ্গবন্ধুর তিনজন পুত্রই ঐ রাতে
বিপদগামী সামরিক কর্তকর্তাদের
হাতে নিহত হন। তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা
বর্তমানে বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
জাতির জনকের ৯৩তম জন্মদিনে তাঁকে
স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসায়।
শুভেচ্ছান্তেঃ
অালমগীর অালম নিসা
সভাপতি
উখিয়া কলেজ ছাত্রলীগ
উখিয়া,কক্সবাজার।
০১৮৩১৫২৫২০৬

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন