হ্নীলায় ইয়াবা চোরাচালান করে কোটিপতি এক জেলে!

 

টেকনাফের হ্নীলায় ইয়াবা চোরাচালানের ছোঁয়ায় বদলে গেছে এক মাছ শিকারী এবং বিক্রেতা জেলের। মাদক দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে উক্ত জেলের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পশ্চিম লেদার মৃত আবুল হাছিমের পুত্র আব্দুর রহমান (৩০) বিগত ৩বছর আগে দারিদ্রতার কারণে জীবিকার প্রয়োজনে অংশীদার ভিত্তিতে টানা জাল করত। এই পেশাতে তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় টেকনাফ ও হ্নীলা বাজার, নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাছ বিক্রি করত। বড় বড় ইয়াবা চোরাকারবারীদের বাড়িতে মাছ দেওয়ার সুবাদে তাদের সাথে এই মাছ বিক্রেতার সখ্যতা গড়ে উঠে। এরপরই হঠাৎ নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে দ্রুত বড় লোক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইয়াবা চোরাচালানে পা দেয়। আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জেলে,পাহারাদার নিয়ে গড়ে তোলে ৩জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সীমান্তের দূর্গম অবস্থা আর মাদকের চালান সরবরাহে সহজলভ্যতার কারণে বছর পার হতেই ঘুরে যায় এই সিন্ডিকেটের ভাগ্যের চাকা। জেলে আব্দুর রহমানের স্বাভাবিক জীবনে আসে আধূনিকতার ছোঁয়া। ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স টাকা লেন-দেনের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের নিকট আসছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রশাসনের ইয়াবা বিরোধী অভিযানে সর্তক অবস্থানে থাকায় আধূনিক বাড়ি না করলেও উক্ত জেলে পরিচয়ী ইয়াবা গডফাদার জীপ, চান্দের গাড়ি আর সিএনজিতে করে চলার পরিবর্তে এখন কিনে নিয়েছে লেটেস্ট মডেলের মোটর বাইক। তাতেও তার তৃপ্তি না হওয়ায় দৈনিক, সাপ্তাহিক গাড়ি পরিবর্তন করে চলতে দেখা যায়। তার বৈধ কোন আয়ের উৎস দেখা না গেলেও রাজার হালতে চলাফেরা এলাকাবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে রসাতœক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় লেদা বিওপি জওয়ানেরা উক্ত ইয়াবা গডফাদারের বাড়িতে ইয়াবার চালান মওজুদের খবর পেয়ে অভিযানে গেলেও আগে খবর পাওয়ায় চালানটি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। স্থানীয় এক ঠেলা জেলে জানায়,গত এক সপ্তাহ আগে আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ৬/৭ বস্তা মাদকের চালান স্বশস্ত্র অবস্থায় খালাস করে বলে দাবী করেন। বর্তমানে লেদা এলাকায় উক্ত আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ইয়াবা চোরাকারবারী চক্র নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সুত্র দাবী করছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে সুচতুর অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি আগে থেকে টাকাওয়ালা। একটু ভালভাবে চলাফেরা করি বিধায় এলাকার লোকজন শত্রুতামুলকভাবে এসব অভিযোগ আনছে বলে দাবী করেন। এদিকে এলাকার মাদক বিরোধী মহল পেশায় একজন জেলের জীবনযাপনের অভাবনীয় পরিবর্তন এবং ব্যাংক একাউন্ট তদন্তপূর্বক ঐ ব্যক্তির প্রকৃত কৃতকর্ম বের করার জন্য সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন