হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

 

সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা:

টেকনাফ উপজেলায় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন হচ্ছে হ্নীলা। উক্ত ইউনিয়নে রাজনীতিতে যুবলীগ পিছিয়ে পড়লে দলকে সুসংগঠিত করতে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। উক্ত আহবায়ক কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইয়াবা চোরাকারবারী, আদম পাচার ও দালালী অপতৎপরতার ভিড়ে আগামী দিনের জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা দলের জন্য ত্যাগী, চরিত্রবান ও সৎ নেতা নির্বাচনের জন্য জেলা ও উপজেলা যুবলীগের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,টেকনাফ উপজেলা যুবলীগ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে শক্তিশালী কলার লক্ষ্যে চলতি বছরের গত ৭ জুলাই হ্নীলা ইউনিয়ন শাখার মমতাজুল ইসলাম কালাম ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত করে মাহবুর রহমান মাবুকে আহবায়ক এবং অপর ৮ জনকে যুগ্নআহবায়ক করে ৩ মাসের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। উক্ত আহবায়ক কমিটি এই ৩ মাসের মধ্যে সংগঠনকে সংগঠিত করা তো দূরের কথা একটি ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি। গত ৭ অক্টোবর উক্ত আহবায়ক কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পরই হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন পদ প্রত্যাশী নেতা ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে বিগত সময়ে দল বিরোধী দলে থাকাকালীন দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলনা কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই তালিকাভূক্ত ইয়াবা চোরাকারবারী, আদম পাচার ও দালাল চক্রের সদস্যরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করে প্রশাসনের ধড়-পাকড় থেকে রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেয়। অনেকে ইতিমধ্যে দলীয় সুবিধা নিয়ে প্রশাসনের আটক থেকে রক্ষাও পেয়েছে। এই চক্রটি এখন মোটাংকের মিশন নিয়ে দলীয় পদ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ায় সাধারণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এই ব্যাপারে হ্নীলা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান ওমর ফারুক বলেন, যারা ছোটকাল থেকে আওয়ামী লীগের আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী কাজে জড়িত নই তাদেরই হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগে স্থান দিতে হবে। ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী রবিউল আলম বলেন, যারা সময়-অসময়ে দল ও দলীয় লোকজনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে তাদেরই ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃত্বে স্থান দিলেই ভাল হয়। ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আলম বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি করি। ইয়াবা, মানব পাচারকারী ও কোন দালালকে দলীয় পদে স্থান দেওয়া ঠিক হবেনা। আর যেসব নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর টাকা ছাড়া বিপদে এগিয়ে আসেন তাদের মূল্যায়ন করা দরকার।

হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিঃ সহসভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,এখন দলে বৈধ হোক আর অবৈধ হোক টাকাওয়ালা ছাড়া ভাল লোকের স্থান নেই। টাকার কাছে যোগ্যরা অনেক আগে হারিয়ে গেছে। উপজেলা যুবলীগ বড় আশা নিয়ে ৩ মাসের জন্য আহবায়ক কমিটি দিয়েছিল। উক্ত আহবায়ক কমিটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে এখন ৩ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলের জন্য মানহানিকর কাজে লিপ্ত রয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মাহবুর রহমান বলেন, ইয়াবামুক্ত, সৎ, ত্যাগী ও মেধাবীদের দলীয় নেতৃত্বে আনলে দল উপকৃত হবে। উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটিকে ওয়ার্ড সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা সম্মেলন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। তাই জেলা কমিটির সুপারিশে শীঘ্রই টেকনাফ উপজেলা যুবলীগ হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করবে।

হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের সম্ভাব্য কমিটিতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সৎ, মেধাবী ও দলের জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে কমিটি দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন