হ্নীলা জামিয়া দারুসসুন্নাহ’র অভাবনীয় সাফল্য

 

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ
দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীণতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান স্থাপিত (১৯২৭ খৃস্টাব্দ) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সমাপণী ও বৃত্তি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানা গেছে।

সমাপণী পরিক্ষায় ৭ জন জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাসসহ উপজেলার শীর্ষে
হ্নীলা শাহ আবুল মঞ্জুর (রাহঃ) নুরানী একাডেমীর (চালু ২০০৪ ইংরেজী) ২০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপণী পরিক্ষায় অংশ নিয়ে ৭ জন জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাসসহ উপজেলার শীর্ষে রয়েছে। এরা হচ্ছে মাইন উদ্দিন ও নুরুন্নাহারের মেয়ে রোল নং-ম-৩৪৭ জন্নাতুল মাহিয়া, সিরাজুল ইসলাম ও মমতাজ বেগমের মেয়ে রোল নং-ম-৩৪১ ইয়াসমিন আক্তার, ফকির আহমদ ও খালেদা বেগমের পুত্র রোল নং-৩৩২ গিয়াস উদ্দিন, মোঃ হোছাইন ও ফাতেমা বেগমের মেয়ে রোল নং-ম-৩৪৯ সাদিয়া আক্তার, জাহাঙ্গীর আলম ও ফাতেমা বেগমের পুত্র রোল নং-৩৩৪ মোঃ সাদেক, মাওঃ আবুল বশর ও মুনাজিয়া আক্তারের মেয়ে রোল নং-ম-৩৪৩ সুমাইয়া নুর সাদেক, আবু বক্কর ও রেহানা আক্তারের পুত্র রোল নং-৩৩০ ওয়াহিদুল ইসলাম।

শতভাগ পাস
নুরুল কবির ও মনোয়ারা বেগমের পুত্র রোল নং-৩৩১ আবদুল্লাহ আল সাইফ ৪.৩৩, ছৈয়দ আকবর ও রমিজা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৩৩ মোঃ আয়ুব ৪.২৫, জাফর আলম ও রহিমা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৩৫ সাজ্জাদ হোসেন রাফি ৩.৫০, মাওঃ নেছার আহমদ ও কুলসুমা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৩৬ মোঃ ইসমাইল ৪.০০, আবদুল জব্বার ও আনোয়ারা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৩৭ আবদুল কুদ্দুস ৩.২৫, নুর মোহাম্মদ ও ফরিদা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৩৮ মোঃ ইসমাইল ২.৬৭, মাওঃ মোঃ ছিদ্দীক ও আরেফা বেগমের পুত্র রোল নং- ৩৪০ মোঃ খুবাইর ছিদ্দীক ৪.১৭, মাওঃ মোঃ হোছাইন ও সাজেদা বেগমের মেয়ে রোল নং-ম ৩৪২ সাদিয়া আক্তার ৩.১৭, ইমান শরীফ ও মাহমুদা খাতুনের মেয়ে রোল নং-ম ৩৪৪ ইদ মুবারক ৪.৩৩, জামাল হোছাইন ও দিলআরা বেগমের মেয়ে রোল নং-ম ৩৪৫ শামিমা আক্তার ৪.২৫, আাবুল কালাম ও জোসনা আক্তারের মেয়ে রোল নং-ম ৩৪৮ শাহরিয়া কালাম রেশমা ৩.১৭, রফিক আহমদ ও মিনারা বেগমের মেয়ে রোল নং-ম ৩৫০ ফরিদা বেগম ৪.৩৩, আবুল খায়ের ও মনোয়ারা বেগমের মেয়ে রোল নং-ম ৩৪৬ আরজিয়া আক্তার ২.৮৩। উল্লেখ্য, পুরো উপজেলায় ইবতেদায়ী সমাপণী পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৯ জন। তম্মধ্যে ৭ জনই হ্নীলা শাহ আবুল মঞ্জুর (রাহঃ) নুরানী একাডেমীর শিক্ষার্থী।

গুলফরাজ-হাশেম বৃত্তি পরিক্ষা
হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম বৃত্তি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে ৬ জন ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। এরা হচ্ছে মাওঃ কামাল আহমদ ও জয়নব আক্তারের মেয়ে নাদিয়া আক্তার, আবদুল মালেক ও দিলআরা বেগমের পুত্র মোরশেদ আলম, আবদুল করিম ও জয়নব আক্তারের মেয়ে তকিয়া জন্নাত, শব্বির আহমদ ও হাসিনা বেগমের মেয়ে হালিমাতুস সাদিয়া, মোঃ সিদ্দিক ও খুরশিদা বেগমের পুত্র মোঃ লুকমান, সিরাজুল ইসলাম ও মমতাজ বেগমের মেয়ে তানজিনা আক্তার।

হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন
১৮ ডিসেম্বর লেদা ইবনে আব্বাস (রাঃ) মাদ্রাসায় অনুষ্টিত হয়েছিল হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশ কতৃক আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নিয়ে ৬০ জন প্রতিযোগির মধ্যে জামিয়া দারুসসুন্নাহ হেফজ বিভাগের ছাত্র এহছান উল্লাহ (১২) প্রথম স্থান লাভ করে। এহছান উল্লাহ হ্নীলা পুরান বাজার মোঃ সেলিম ও ফরিদা বেগমের পুত্র।

তাহফিজুল কুরআন সংস্থা
এছাড়া তাহফিজুল কুরআন সংস্থার তত্বাবধানে অনুষ্টিত হেফজ সমাপ্তকারী ছাত্রদের কেন্দ্রীয় পরিক্ষায় টেকনাফের হ্নীলা জামিয়া দারুসসুন্নাহ ৩০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। বাংলাদেশ তাহফিজুল কুরআন সংস্থার প্রধান কার্যালয় চট্রগ্রামের পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ায় এ পরিক্ষা অনুষ্টিত হয়েছিল এ পরিক্ষা। এতে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। উক্ত পরিক্ষায় টেকনাফের হ্নীলা জামিয়া দারুসসুন্নাহ’র হেফজ বিভাগের হেফজ সমাপ্তকারী ১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরা হচ্ছেন সোনা আলীর পুত্র হাফেজ মোঃ আমিন, মোঃ জলিলের পুত্র হাফেজ আনোয়ার শাহ, মাওঃ শাহেদ উল্লাহ’র পুত্র হাফেজ আবদুর রহমান, নুরুল ইসলামের পুত্র হাফেজ আনোয়ারুল ইসলাম, মুহাম্মদ রিদুয়ানের পুত্র হাফেজ মুহাম্মদ জুবাইর, ছৈয়দ আহমদের পুত্র হাফেজ মুহাম্মদ জাহেদ, নুরুল ইসলামের পুত্র হাফেজ আশেকুল ইসলাম, মৃত মঈন উদ্দিনের পুত্র হাফেজ ওমর ফারুক, নুরুল হোছাইনের পুত্র হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল আমিনের পুত্র হাফেজ মুহাম্মদ নুর, রশিদ আহমদের পুত্র হাফেজ মিজানুর রহমান। সকলেই উচ্চ মানের মার্ক পেয়ে পাস এবং ২ জন সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। যা বিগত ৩০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। পুরস্কারের জন্য বাছাইকৃত দেশ সেরা ৭ জনের মধ্যে ২ জনই হ্নীলা জামিয়া দারুসসুন্নাহ’র হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। কৃতি শিক্ষার্থী ২ জন হলেন হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়া রাবেয়া বেগম ও মাওঃ শাহেদ উল্লাহ’র পুত্র হাফেজ আবদুর রহমান। তাঁর রেজিস্ট্রেশন নং-১৩৯, মোট ৩০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর ২৮৪। দেশ সেরা ৭ জনের মধ্যে সম্মিলিত মেধা তালিকায় হাফেজ আবদুর রহমান ৩য় স্থান লাভ করেছে। আরেক জন পুর্ব পানখালী খালেদা বেগম ও নুরুল হোছাইনের পুত্র হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর রেজিস্ট্রেশন নং-১৪৫, মোট ৩০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর ২৮০। দেশ সেরা ৭ জনের মধ্যে সম্মিলিত মেধা তালিকায় হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ৬ষ্ট স্থান লাভ করে। জামিয়া দারুসসুন্নাহ’র ভারপ্রাপ্ত মুহতমিম আলহাজ্ব মাওঃ মুফতী আলী আহমদ এ জন্য মহান আল্লাহু তা’য়ালার শুকরিয়া, জামিয়ার সকল শিক্ষক বিশেষতঃ হেফজ বিভাগের শিক্ষকগণের পরিশ্রম এবং পরিচালনা কমিটির সম্মানীত সদস্যবৃন্দের আন্তরিকতা ও দুয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামীতে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা আরও বেশী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে এবং শিক্ষা-চরিত্রের উন্নয়নে সর্বমহলের আন্তরিক দু’য়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আলহাজ্ব মাওঃ মুফতী আলী আহমদ ভারপ্রাপ্ত মুহতমিমের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর শুভাকাংখী, মজলিশে শুরার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, এলাকাবাসী, সকল শিক্ষকগণের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জামিয়ার শিক্ষা-দীক্ষা ও আর্থিক (এলমী, আমলী, মালী) ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
হ্নীলা শাহ আবুল মঞ্জুর (রাহঃ) নুরানী একাডেমীর কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ : মাওঃ নুরুল হুদা, মাওঃ নুরুল হোছাইন, মাওঃ নুর মোহাম্মদ নুরানী, মাওঃ হাফেজ ফারুক, মাওঃ মনসুরুল হক, মাওঃ ইমাম হোছাইন, মাওঃ আলী আহমদ, মাস্টার নু’মানুল কবির। ২০১৭ সালের শিক্ষার্থী : শিশু শ্রেনীতে ৪৫ জন, ১ম শ্রেনীতে ৭৫ জন, ২য় শ্রেনীতে ৬০ জন, ৩য় শ্রেনীতে ৪৫ জন, ৪র্থ শ্রেনীতে ৪০ জন, ৫ম শ্রেনীতে ২১ জন, মোট ২৮৬ জন। ##

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন