১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ওয়ারেন্টের আসামিকে ছেড়ে দিলেন ওসমানীনগরের ওসি

 

Lp_1-lakh-15-hajar-taka-257x300 সিলেটের ওসমানীনগর থানার এক সময়কার আলোচিত এসআই জুবের আহমদ বর্তমানে ওসি হিসেবে এখানে তার রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই থানার সর্বস্তরের মানুষ তার অত্যাচারে এমনিতেই অতিষ্ঠ। তবে বর্তমান ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে এবং সরকারদলীয় ঊর্ধ্বমহলের আশীর্বাদে তিনি তার কর্মজীবনের ‘স্বর্ণযুগ’ পার করছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়, আবার বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিদের টাকার বিনিময়ে গ্রেফতার না করা অথবা গ্রেফতার করে ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে জুবের কামাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এসব টাকার ভাগ পান সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা। অভিযোগ আছে, জুবেরের এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীর রয়েছে প্রচ্ছন্ন মদত। আর তাতেই জুবের এত বেপরোয়া। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের পোশাক পরা এই জুবের মূলত একজন চাঁদাবাজ।
সবশেষ গত ১৭ মার্চ এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দিয়েছেন লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে। ওই মামলার আসামিসহ একাধিক সূত্র এ প্রতিনিধিকে তা নিশ্চিত করেছেন।
ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত জয়নুল্লাহর ছেলে ছালিক মিয়া জানান, ২০১০ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির অভিযোগে ২ জনকে অভিযুক্ত করে তিনি সিলেটের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ২ আসামির মধ্যে একজন নির্মল দেব ঝাড়ু জামিনে থাকলেও অপর আসামি দেবব্রত দেব শিমুল ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। গত ১৩ মার্চ শিমুলের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে ১৭ মার্চ শিমুল স্থানীয় দয়ামীর বাজারে ঘোরাফেরা করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানার এএসআই আবদুল গণির নেতৃত্বে একদল সিভিল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
কিন্তু রাত ১০টায় ছালিক মিয়া জানতে পারেন, ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওসি জুবের শিমুলকে ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি একই রাত ২টায় ঘুষের এ টাকা ভাগাভাগি করতে এএসআই আবদুল গণি ও ওসি জুবেরের মধ্যে কিছুটা মনকষাকষি হয়। পরে তাদের মনকষাকষির বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। আর এতে নতুন করে আবারও আলোচনায় আসেন জুবের।
তবে সাংবাদিকদের কাছে এএসআই আবদুল গণি ও ওসি জুবের আহমদ ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতার ও পরে ছেড়ে দেয়ার কথা স্বীকার করলেও ঘুষ গ্রহণ ও টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, টাকার বিনিময়ে নয়, স্থানীয় এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীর সপুারিশে তাকে ছাড়া হয়েছে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টাকারী হিসেবে পরিচিত জুবের আহমদ ওসমানীনগরে এসে বিরোধী দল দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার কাছে হেনস্তা হয়ে এখন বহু বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সূত্র জানায়, জুবের আহমদ ২০০৫ সালে সিলেট ডিভি সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অতিরিক্ত তোষামোদের কারণে জুবের তখন বিএনপি নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। কিন্তু এক পর্যায়ে বাড়াবাড়ির কারণে তাকে বদলি করা হয় হবিগঞ্জ ডিবিতে। জুবের আহমদ হবিগঞ্জ যাওয়ার কয়েক দিন পর অর্থাত্ ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে একটি সমাবেশে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাটি ঘটার পরই সেই সময়ের চারদলীয় জোট সরকার একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে কেবল দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় আনার নির্দেশ দিলে কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তার মধ্যে সরকারের সে নির্দেশকে উপেক্ষা করে জুবের নিরপরাধ অনেক লোককে কিবরিয়া হত্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেন।
পরে ২০০৯ সালের ৫ মার্চ তিনি ওসমানীনগর থানায় ওসি হিসেবে আবারও যোগদান করেন। এরপর থেকেই সেই জুবের খাঁটি আওয়ামী লীগার হতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নানা দমন-পীড়নসহ অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন