৩২ কোটি টাকার টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি উদ্বোধনের আগেই ফাটল!

 

নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের ‘টেকনাফ-মিয়ানমার’ সীমান্ত ট্রানজিট জেটিতে। চলতি জুলাই মাসে এই জেটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও ফাটলের কারণে তা পিছিয়ে গেছে। নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণেই প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির এমন দশা বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টেকনাফ কার্যালয় সূত্র জানায়, নাফ নদীর ওপর টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি নির্মাণ করার জন্য ২০১২-১৩ সালের দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৪ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি এ জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দুই ধাপে জেটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। জেটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় কক্সবাজারের মেসার্স উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জেটিতে বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসে নবনির্মিত জেটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বোধন পিছিয়ে গেছে।
টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া নাফ নদীর তীর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর বিওপি। তার পাশে (নাফ নদীর বুকে) নির্মাণ করা হচ্ছে জেটিটি। এই জেটিঘাঁট দিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের নাগরিকেরা এক দিনের ট্রানজিট নিয়ে দুই দেশে যাতায়াত করেন। এত দিন কাঠের জেটি দিয়ে লোকজন পারাপার করত। তবে এখন কাঠের জেটির পাশেই তৈরি হচ্ছে এই স্থায়ী পাকা জেটিটি।
গত রোববার সকালে জেটিতে গিয়ে দেখা গেছে, জেটির মেঝেতে ১০-১৫ গজ লম্বা একাধিক ফাটল। কয়েকজন শ্রমিক সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে ফাটল ঢেকে দিচ্ছেন। তারপরও ফাটল দৃশ্যমান থেকে যাচ্ছে। জেটির দুই পাশের রেলিংয়ে রং করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে সড়কবাতি। আশপাশের বাসিন্দারা জানলেন উদ্বোধনের আগেই এটি দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা আসছেন।
ওই এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সাংসদ বদির বাড়ির পাশেই এই জেটির অবস্থান। জেটিতে বড় বড় ফাটল ধরার বিষয়টি সাংসদ বদিকে জানানো হয়েছে। তিনি কী ব্যবস্থা নেন তা দেখার অপেক্ষায় আছে সবাই।
এ প্রসঙ্গে সাংসদ আবদুর রহমান বদি বলেন, নির্মাণকাজে দুর্নীতি হওয়ায় উদ্বোধনের আগে জেটিতে ফাটল ধরেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
জেটিতে ফাটল প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আতিকুল ইসলাম বলেন, জেটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। এখন জেটির স্পিনিং ও রাবার লাগানোর কাজ বাকি আছে। কিন্তু হঠাৎ করে জেটির (মূল ঢালাইয়ের) ওপরের অংশে দু-তিন ইঞ্চির ঢালাই ফেটে গেছে। সেটি এখন মেরামত করা হচ্ছে।
ঠিকাদার আতিকুল ইসলাম বলেন, এলজিইডির কাছে এখনো আড়াই কোটি টাকার বিল বকেয়া। বিল আদায় করতে ঘুষ দিতে হয়। তাই জেটির কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে এলজিইডি প্রকৌশলী আবসার উদ্দিন বলেন, জেটি নির্মাণে কোনো রকম দুর্নীতি হয়নি। প্রচণ্ড রোদে নির্মাণকাজ হওয়ায় এবং ঢালাই পাতলা হওয়ায় এ রকম ফাটল দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, জেটিতে ফাটলের বিষয়টি তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

সূত্র : প্রথম আলো

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন