অভিযোগের তদন্ত চলছে : টেকনাফ কৃষি অফিসে অনিয়মই!

অভিযোগের তদন্ত চলছে : টেকনাফ কৃষি অফিসে অনিয়মই!

বিসিআইসি’র সার ডিলারের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে কীটনাশক বিক্রেতাদেকে। এতে স্থানীয় কৃষি কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মূল সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতরা। তবে আর্থিক সুবিদায় রয়েছে কৃষি বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন টেকনাফ উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, টেকনাফ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: হাসান, মো: জামাল, মোস্তাক আহমদ ও শফিউল আলমের সহায়তায় বিএডিসি’র বীজ ডিলাররা টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে সার বিক্রয় করে যাচ্ছে। উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্্িরজ কর্পোরেশন’র (বিসিআইসি) ১০ জন মূল সার ডিলার রয়েছে। এরা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়নে ২৪ জন খুচরা সার ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রয় করে। কিন্তু এখানে দেখা যায়, বাংলাদেশ কৃৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন’র (বিএডিসি) বীজ ডিলার ও কীটনাশক ডিলারও বীজ, কীটনাশকওে পাশাপাশি অবৈধ ভাবে সার বিক্রয় করছে। নিয়ম অনুযায়ি এরা মূল সার ডিলার হতে বরাদ্দ পায় না। ফলে অবৈধ ভাবে, চোরাই সার ও নি¤œমানের সার এনে বিক্রি করায় কৃষি জমি নষ্ট, উন্নত ও উচ্চ ফলন থেকে বঞ্চিত কৃষকেরা। যার ফলে এলাকায় কৃষি কাজ বিঘিœত হচেছ। এসব অনিয়ম এভাবে চলতে থাকায় উপজেলার সার ডিলারগনও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয় গুলো টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত ভাবে জানানোর পরও কার্যত কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না জানান টেকনাফ উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন সভাপতি জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন,লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দু’এক স্থানে কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলেও তেমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেননি। এতে বাজারের অন্তত ৮৮ টি বীজ ও কীটনাশক বিক্রির দোকানে অবৈধভাবে সার বিক্রয় অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, ‘পর্যাপ্ত জনবল না থাকার পরও কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করছি। মূল সার ডিলারদের অভিযোগ গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে হোয়াইক্য ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খুচরা সার বিক্রেতা নুর আহমদ, হ্নীলা ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো, সর্তক নোটিশ ইত্যাদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা কৃষি বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গত ৩ মার্চ কক্সবাজার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালককের স্বারক নং-১৯৯ মূলে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন টেকনাফ উপজেলা কৃষি ড. ভবসিন্ধু রায়। তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ অভিযোগের আবেদনকারী টেকনাফ উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদকে শুনানী আহবান করা হয়। তবে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কতৃপক্ষকে জমা প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে দরখাস্তকারীদ্বয় জানান, যে অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জড়িত সেখানে অন্য কাউকে দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিলো। টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বার বার অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রবিবেদনও একপেশে হবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, গোটা উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৮০ জন কৃষকের জন্য ১০ জন মূল সার ডিলার ও ২৪ জন খুচরা সার ডিলার এবং ৪৬ জন কীটনাশক ও বীজ ডিলার রয়েছে। মঞ্জুরীকৃত ১৯ জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্থলে মাত্র ৬ জন, প্রথম শ্রেণীর ৪ জন কৃষি কর্মকর্তার স্থলে ২ জন , অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তাও পদও শূন্য রয়েছে। এরপরও কৃষি অফিস চলতি করোনা মহামারীতে ৫’শ কৃষককে ২ কেজি বীজও ১৫০ কৃষককে ৩০ কেজি সার, ও বীজ বিতরণ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ