“আগামী নির্বাচনে উখিয়া-টেকনাফে একটি চমকের নাম ড.হাবিবুর রহমান”

ড. হাবিবুর রহমান একজন বাংলাদেশী গবেষক যিনি কাতারের স্বাধীনতা নিয়ে গবেষণা করে বের করেছেন নতুন জাতীয় দিবস। তার কথায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় দিবস পরিবর্তন করার। ড হাবিবের পৈত্রিক নিবাস কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে।

৩১ বছর ধরে কাতারের ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন । আগে ৩ সেপ্টেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করত কাতারের জনগন। ২০০৭ পর্যন্ত দিবসটি বহাল ছিল। ড. হাবিব তাঁর গবেষণায় খুঁজে পেলেন কাতারের জাতীয় দিবস হওয়া উচিত ১৮ ডিসেম্বর। ২০০৬ সালের মে মাসে তিনি কাতার সরকারের কাছে নিজের গবেষণার ইতিবৃত্ত তুলে ধরে প্রমাণ করেন ১৮ ডিসেম্বরই কাতারের জাতীয় দিবস। তাঁর তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরের বছরই ১৮ ডিসেম্বরকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়।এ জন্য কাতারের মানুষ হাবিবের কাছে কৃতজ্ঞ।স্বাধীনতার দিবসের দিন খুব শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।.মাসখানেক আগে তাদের স্বাধীনতা দিবস পালনের সময় কাতারের শেখ (প্রধানমন্ত্রী)এক ভাষণে ডা. হাবিবুর রহমান এর কথা বলেছেন। এটা শুনে গর্বে ফুলে উঠেছিল প্রবাসী বাংলাদেশীদের বুক।

কাতারে থেকেও বাংলাদেশেই থাকেন প্রতিটি দিনই ব্যস্ততার। সকাল থেকেই অফিস। ব্ল্যাক টি তাঁর পছন্দ। প্রতি সকালে চায়ের কাপ নিয়ে কম্পিউটারে বাংলাদেশে ঢুকে যান তিনি। চোখ বুলিয়ে নেন দৈনিকগুলোয়।

তবে সেখানে থেকেও ঢাকায় গড়ে তুলেছেন একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন আমেরিকাভিত্তিক সর্ববৃহৎ কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র ‘নিউ হরাইজনস’। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার মানুষ কম্পিউটার-বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

.প্রবাসীরা শুধু কামলা দেওয়ার জন্যই বিদেশে আসে না, হাবিবুর রহমান এর মতো লোকেরা বিদেশীদের কে তাদের সত্যিকার ইতিহাস জানানোর জন্যও আসে।তারা বিদেশ থেকে শুধু রেমিটেন্স পাঠানোর জন্যও আসেনা,দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সুনাম কুড়িয়ে নেওয়ার জন্যও আসে।

ড. হাবিবুর রহমানের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বিছ্ছিন্ন দ্বীপ। শাহপরীর দ্বীপে। হাবিবুর রহমানের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে শাহপরীতে। ২০০৭ সালে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় চালু করেন তিনটি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র। এখান থেকে সাক্ষর হয়েছেন প্রায় চার হাজার নিরক্ষর ব্যক্তি।

উপকূলের এই জনপদেই ১৯৪৯ সালের ১০ জুলাই হাবিবুর রহমানের জন্ম। মা মরহুম জমিলা খাতুন, বাবা হাজি নবী হোসাইন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হাবিবুর তৃতীয়। শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাবিবুর রহমানের লেখাপড়ার শুরু। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন।

দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে শিক্ষকতায় যোগ দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে শিক্ষকতা করেন ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। সে বছরই চলে যান কানাডায়। সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ইতিহাসের সঙ্গে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সে বছরই তিনি কাতারের আমিরের সচিবালয়ে যোগদান করেন। ইতিহাস বিশেষজ্ঞ (হিস্টরিক্যাল রিসার্চ এক্সাপর্ট) ।

শাহপরীর দ্বীপের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ১০ কিলোমিটার। সমুদ্রে বিলীন হতে হতে এখন এর দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার ও প্রস্থ তিন কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। নিজের এলাকা বিলীন হতে বসায় তিনি চিন্তিত। বাঁধ দিয়ে শাহপরীর দ্বীপকে বাঁচিয়ে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে জায়গাটি বাণিজ্যিক বন্দর ছিল। পান ছিল প্রধান ফসল। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এক প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসে বাণিজ্যিক এলাকা ঘোলাপাড়াসহ বিশাল এলাকা সাগরে তলিয়ে যায়। এর পর থেকে ক্রমে সাগরের করাল গ্রাসে পড়ে একের পর এক গ্রাম। সরকার ওই এলাকার উপকূলীয় মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে একাধিকবার রক্ষাবাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করায় বিলীন হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।’’

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।