আগামী সপ্তাহে আবারো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি

রোহিঙ্গাদের রাজি করিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারো প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সব প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা স্বদেশে যেতে আপত্তি জানিয়ে মিয়ানমারে নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ করে। ফলে আটকে যায় এই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবাসন।

এদিকে প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর চক্রান্তে প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করছে তারা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সে সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার।

গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে আট হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায়। যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ওই তালিকা থেকে ৫ হাজার ৫শ জনকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র দেয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২ হাজার ২৫১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিদিন ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হবে বলে জানায় মিয়ানমার।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরুতে বাংলাদেশ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু রোহিঙ্গারা যেতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের রাজি করিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মন্নান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বাধার মুখে প্রত্যাবাসন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।