আটক নুরুলের সহযোগী কামরুলকে আটক করা হলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল

`নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকনাফে ১৩০ টাকা বেতনে কাজ করা কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলামের রয়েছে ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদ!
২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ১৩০ টাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি নিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। আট বছর পর ২০০৯ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দেয়। তবে নিজের আস্থাভাজন আরেকজনকে ওই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে জড়িয়ে পড়ে দালালি সিন্ডিকেটে। মাত্র ১৩০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করা নুরুল ইসলাম এখন ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রয়েছে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, গড়ে তুলেছে নামে-বেনামে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

তার দালালি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হলেন- কামরুল ইসলাম। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়। সে ১৫ বছর আগে টেকনাফের একটি সিএনএফ এজেন্টে সামান্য বেতনে চাকুরী করতেন। পরে নুরুল ইসলামের সিন্ডিকেটে যোগ দেন। এরপর নিজেই সিএনএফ এজেন্ট শুরু করেন।
পরে বন্দর কেন্দ্রিক নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস ও দালালির কৌশল রপ্ত, হুন্ডি ব্যবসাসহ ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। সেই থেকে অঢেল সম্পত্ত্বির মালিক হন।

টেকনাফ বন্দরের দালাল সিন্ডিকেটের প্রধান নুরুল ইসলামের কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দালালি কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব ছিলেন এই কামরুল। এই কামরুলের নেতৃত্বে পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পথে অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। সিন্ডিকেটের সহায়তায় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কাঠ, শুঁটকি, বরইয়ের আচার, মাছ ইত্যাদির আড়ালে অবৈধ পণ্য নিয়ে আসত। চক্রটির সদস্যরা টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বর্হিগমন নিয়ন্ত্রণ করত।
এছাড়াও নামে-বেনামে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও তার রয়েছে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় রয়েছে আলীশান ফ্লাট বাড়ি, জমিসহ কোটি টাকার সম্পতি।

তার ইয়াবা ব্যবসা লেনদেনের হিসাবের জন্য একাধিকবার মিয়ানমারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগের জন্য সেখানে। যা পাসপোর্ট তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সামান্য সিএনএফ কর্মচারী থেকে সে অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে যান। তাকে দুদকের মাধ্যামে তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

শুধু এখানে শেষ নয়, নুরুল ইসলামের মাধ্যমে অবৈধ পণ্যের কারবারের জন্য হুন্ডি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমন্বয় এবং চতুরতার সঙ্গে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েস কারসাজি করে থাকে এই কামরুল। অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে বেশ কয়েকটি নামে একাধিক সিএনএফ এজেন্ট গড়ে তুলেন। কক্সবাজার ও টেকনাফ কেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে তার।

সম্প্রতি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে এই কামরুল টেকনাফ থেকে অন্যত্রে পালিয়ে যায়। পরবর্তী টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কারাগারে গেলে সে আবার টেকনাফে ফিরে এসে পুরানো ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ