আত্মপ্রত্যয়ী জানবাজ এক গণমাধ্যম কর্মীর নাম ‘আকরাম হোসেন’

মানুষ অপরাধ করতে গিয়ে ক্রমান্বয়ে নিষিদ্ধ ও অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে যায়। সেই নিষিদ্ধ জগতের মানুষের সাথে সুকৌশলে সম্পর্ক করে জীবনবাজী রেখে তাদের আলোর মুখ দেখিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনাই তাঁর নেশা। অপরাধ জগতের ভয়ংকর ও দুধর্ষ মানুষ গুলো স্বাভাবিক জীবনের যখন ছোঁয়া পায়-তখনি তিনি তৃপ্তির ঢেকুর গিলতে থাকেন। নিজের অনাগত কর্মের জন্য আরো উৎসাহী হয়ে উঠেন। আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী যখন এসব পেশাদার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হিমশিম হয়ে পড়েন-তখন একজন সাধারণ মানুষ হয়ে নিষিদ্ধ ও অন্ধকার জগতের এসব অপরাধীদের সাথে তিনি দূতিয়ালি করে নির্ভয়ে জানবাজী রেখে তাঁদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে প্রাণান্ত চেষ্টা করেন।

আর যখন তিনি দেখতে পান, দূতিয়ালি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া ভয়ংকর সশস্ত্র অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যস্ত, তখনি তিনি নিজেকে একজন সফল সমন্বয়কারী হিসাবে গর্ববোধ করেন। কারণ-এই প্রক্রিয়াতে অপরাধী, রাষ্ট্র ও জনগণ সবাই খুবই উপকৃত হন। পেশা, জস,খ্যাতি কিংবা অর্থের জন্য নয়, শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ, বিবেকের তাড়না ও দেশপ্রেম থেকেই এই বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি তিনি করে থাকেন।

যাঁর কথা বলছিলাম, তিনি হলেন-কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বউজানটিয়ার মালেকপাড়ার হাজী মোহাম্মদ আমিন সিকদারের কনিষ্ঠ পুত্র এম.এম আকরাম হোসাইন। ১৯৯২ সালের ২৯ মে তাঁর জম্ম। সে হিসাবে বয়স প্রায় ২৭ বছর। চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস সি পাশ করে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন। কিন্তু ছোটকাল থেকেই সখ ছিল মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করবেন। তাই এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করার পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ডিগ্রী নিয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকেই নিজেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ফেলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত থেকে প্রাইভেট চ্যানেল বিজয় টিভিতে কাজ করেছেন-২০১৬ সাল থেকে প্রায় দু’বছর। ২০১৭ সালের শেষ দিকে এম.এম আকরাম হোসাইন যোগ দেন-দেশের অন্যতম বেসরকারি টিভি চ্যানেল-২৪ এ। অদ্যাবধি একই প্রতিষ্ঠানে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন দুঃসাহসী জানবাজ এই গণমাধ্যমকর্মী। জীবনের একাকীত্ব ঘুছিয়ে মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুমাইয়া আকতারকে জীবনসঙ্গী করেছেন প্রায় দেড় বছর আগে। বড়ভাই এডভোকেট মোকাররম হোসেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সিনিয়র সদস্য।

বিগত সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে আত্মসমর্পণকৃত ৬ টি কুখ্যাত সশস্ত্র জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন জলদস্যুর মধ্যে ৫ টি সশস্ত্র ভয়ংকর বাহিনীর ৩৭ জন জলদস্যুকে মধ্যস্থতা করে আত্মসমর্পণ করিয়েছিলেন এই দেশপ্রেমী গণমাধ্যম কর্মী, দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী এম.এম আকরাম হোসাইন। তিনি কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। মরননেশা ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফেরাতে নেমে যান আরেকটি মিশনে। যখানে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন ও রতি মহারতিরা সক্রিয়ভাবে জড়িত। সে চেষ্টাকেও সফলতার মুখ দেখিয়ে ইয়াবানগরী খ্যাত টেকনাফের ১০২ জন ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজকে স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি’র উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করান গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ হাইস্কুল মাঠে। এটা ছিল সর্বপ্রথম দেশের মাদকবাজ ও হুন্ডিবাজদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। যেটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতুহল, আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এছাড়া এই নাছোড়বান্দার মধ্যস্থতায় এই মাসের শেষদিকে আরো কয়েকশ’ ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিশ্বস্ত একটি সুত্র জানিয়েছে। একই সুত্র মতে, কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার জলদস্যুদের আরো একটি ব্যতিক্রমী আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া আগামী মাস দু’য়েকের মধ্যে এই গণমাধ্যমকর্মীর হাত ধরে হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

কুখ্যাত অপরাধীদের অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফেরানোর নেশায় মগ্ন এম.এম আকরাম হোসাইনকে সম্বর্ধিত করা হয়েছে-নিজ জম্মস্থান পেকুয়াতে। বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল উপকূলের শান্তির অগ্রদূত স্বীকৃতি পাওয়া সাংবাদিক এম.এম আকরাম হোসাইন, পেকুয়ার বর্ষসেরা সংবাদকর্মীসহ গুণীজনদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-পেকুয়া উপজেলা পরিষদের একটানা দু’বারের নির্বাচিত সফল ও বিদায়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজুু। পেকুয়া উপজেলা উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উক্ত সংর্বধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন-পেকুয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. দিদারুল করিম। দৈনিক প্রথমআলো পত্রিকার চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিনিধি এস.এম হানিফ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ড. মোঃ সানাউল্লাহ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এডভোকেট কামাল হোসেন, পেকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আযম খাঁন, পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, পেকুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি এইচ.এম নুরুল আবছার প্রমূখ। সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানটি নবীন প্রবীন গণমাধ্যমকর্মীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন- তারা হলেন-সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এফ.এফ সমুন, বিজয় টিভির প্রতিনিধি সেলিম উদ্দিন, রেজাউল করিম, শহিদুল ইসলাম হিরু, রেজাউল করিম-২, সংবাদকর্মী সাজ্জাদ প্রমুখ। পেকুয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পেশাজীবী ও বিশিষ্টজন সহ বিপুল সংখ্যক সুশীল সমাজের লোকজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পেকুয়া উপজেলা পরিষদের বিদায়ী চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু এ সংর্বধনা অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন-সাংবাদিক এম.এম আকরাম হোসাইন আগামী প্রজম্মের প্রেরণা। অপরাধীদের অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে আনতে তাঁরা সাহসী ভূমিকায় পেকুয়াবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। তাঁর দুঃসাহসী কর্মের সাফল্যে আমরা পুলকিত হই। তিনি উপকূলের নিষিদ্ধ ও অন্ধকার এলাকা হতে অপরাধীদের আলোর জগতে আনতে এবং মাদকবাজী প্রতিরোধে যে আশার প্রদীপ জ্বালাচ্ছেন সেটা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি উপকূলের জলদস্যু, ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজ ডনদের আত্মসমর্পণ ঘটিয়ে যে নজীর সৃষ্টি করেছেন, তা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিত অতিথি চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এম.এম আকরাম হোসাইন তাঁকে প্রদত্ত সম্বর্ধনা জবাবে বলেন-এ সম্বর্ধনা পাওয়ার যোগ্য আমি নই, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ থেকে এ কঠিন মিশনের কাজ করছি। তাতে যখন সফল হই, তখন নিজে তৃপ্তি পায়। দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে একাজ করি বলে ঝুঁকির বিষয়টি কাজ করার সময় আর আমার মাথায় থাকেনা। তিনি তাঁকে প্রদত্ত এ সম্বর্ধনাকে পেকুয়াবাসীর নিকট উৎসর্গ করে তাঁর পেশাগত জীবনে সফলতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে যেসব গণমাধ্যম কর্মী বর্ষসেরা প্রতিনিধি হিসেবে সম্মাননা ক্রেস পেয়েছেন-তাঁরা হলেন-চকরিয়া-পেকুয়া দৈনিক প্রথমআলো পত্রিকার প্রতিনিধি এস.এম হানিফ, বিজয় টিভি ও দৈনিক পূর্বকোণের মহেশখালী প্রতিনিধি হোবাইব সজীব। অনুষ্ঠানে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের দু’বারের সফল চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, চট্টগ্রাম মেরনসান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ সানাউল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.দিদারুল করিমসহ মোট ৮ জন গুণীজনকে এ সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।