আমরা বর্বর, আমরা জ্ঞানপাপী!!

মাহবুবা সুলতানা শিউলিঃ
ফেনীর সোনাগাজী’তে আগুণে পুড়া মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত মৃত্যুর সাথে কঠিন পাঞ্জা লড়ে সুন্দর পৃথিবীর কিছু অসুন্দর অবস্থা থেকে বাঁচতে আজ চির বিদায় নিয়েছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টার নেপথ্য কারিগর গ্রেফতারকৃত উক্ত মাদ্রাসার’ই অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মিছিল দেখে ধীক্কার জানাবো কাকে!?
মানুষ গড়ার কারিগরের এ অমানুষিক হেয় আচরণে ঘৃণা জানাই নিজেকেই। একজনের দ্বারা কলঙ্কিত হচ্ছি আমরা সবাই।

নুসরাত তার ডায়িং ডিক্লারেশনে স্পষ্ট বলে গেছে কে কে দায়ী এ নিষ্ঠুরতায় ? তারপরও কে দায়ী ব্যক্তি তা জানার জন্য, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মতো দূর্ভাগাদের অপেক্ষা করতে হয়!
হায়রে এদেশ! সত্যি সেলুকাস!!
নুসরাত চ‌লে গে‌লো ওপারে একবুক অ‌ভিমান নি‌য়ে প্রচন্ড যন্ত্রণার সাথে মরণ লড়াই করেই। অথচ ঐ নর‌পিশাচের মু‌ক্তির জন্য মি‌ছিল হ‌চ্ছে। ছি, আমরা আর কত বিবেক বিবর্জিত হবো! কতটা নীচে নামলে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে ঐ কুলাঙ্গারের স্বপক্ষে মিছিল বের করায়! এর পিছনে কলকাঠি নাড়ছে কে!!? নুসরাত কী সু‌বিচার পা‌বে? এখন শুধু সম‌য়ের অ‌পেক্ষা। ওই অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লাহ্ তো মাদ্রাসার শিক্ষক তাই হয়তো তিনি শেষ পর্যন্ত বাংলার মাটিতে ফেরেস্তা হয়ে যেতে পারেন আর নুসরাত হয়ে যেতে পারে নষ্টা চরিত্রাহীনা এ বাংলাতেই। কেন না অতীতেও এরকম হাজারো নুসরাতের বিচার চাওয়া হলে তাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কেঁদেছে!!!!!
তাই আমার অভিধানে এ ঘটনাটির নেপথ্যে জড়িত সংশ্লিষ্টদের ঘৃণা আর নিন্দা প্রকাশের উপযুক্ত কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছিনা। নুসরাতের এ জঘণ্য হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী নরপিশাচদের অতি দ্রুত সময়ে ফাঁসীতে ঝুলানো হোক। এ হত্যাকান্ডের সুবিচার হোক তাহলে অন্তত তার মা-বাবা পরিজনরা একটু স্বস্তি পাবেন আর নুসরাতের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা সবাই দোয়া করি ওপারে নুসরাত যেন শান্তিতে থাকে। হে মহান রাব্বুল আলামিন, আগুণে পুড়ে কঠিন মৃত্যু যন্ত্রণার সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করা নুসরাতকে কবুল করুন, নুসরাতকে জান্নাতে স্থান দিন।-মাহবুবা সুলতানা শিউলি
মেম্বার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।