আমাকে ফাঁসি দিন!!

– জাবেদ ইকবাল চৌধুরী॥
কিছুদিন ধরে একটা লেখা লেখব ভাবছি। কিন্তু কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছি না। এখন ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, যা না লিখলে নয়। কি বিচিত্র দেশ! একজন পেশাদার সাংবাদিক হয়ে গেলাম ইয়াবা ব্যবসায়ী! বিষয়টি নিয়ে অনেকেই হতবাক হয়েছেন। বিশেষ করে আমাকে যারা কাছ থেকে চেনেন ও জানেন। আবার ভূগৌলিক কারণে কারো কারো মনে বিশ্বাসেরও জম্ম নিয়েছে যে, আমি ইয়াবা সংশ্লিষ্ট! যাহোক আমি দু’চার লাইন লেখে চেষ্টা করবো আমার অবস্থান পরিস্কার করার। আমার লেখাকে পাঠক দু’ভাবে নিতে পারে, সে ভয়ও আছে। হইতো কেউ কেউ বলবে নিজের ঢোল নিজে পিটাচ্ছি। না লিখলে বলবে ঘটনা সত্য তাই চুপ মেরে আছি। এই উভয় সংকট সামনে নিয়ে আজকের এই লেখা।
প্রিয় পাঠক, গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমার নামটি বার বার প্রকাশিত হতে দেখে মানসিক ভাবে খুবই বিপর্যস্ত। এতে করে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছি! বলতে গেলে মানষিক যন্ত্রনায় র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছি। সীমাহীন মনোবেদনা নিয়ে প্রতিটি ক্ষন পার করছি। বলা যায়, প্রতিনিয়ত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কিন্তু কি করব বা কি করা উচিত বুঝতে পারছি না।
সীমান্ত উপজেলা টেকনফ থেকে শুরু করে জেলা শহর কক্সবাজার, এমনকি দেশ বিদেশেও আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে অনেকেই চেনেন ও জানেন। আমি টেকনাফ উপজেলাধীন পৌর এলাকার কুলালপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। পেশাগতভাবে ১৯৯১ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। বর্তমানে চ্যানেল নাইন, কালেরকন্ঠ, শীর্ষ নিউজ ডটকম গণমাধ্যমে কর্মরত আছি। এর আগে কক্সবাজার জেলা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রিকা সাগরকন্ঠ, দৈনিক কক্সবাজার, আজকের দেশ-বিদেশ ও দৈনিক সৈকত, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক পত্রিকা বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের কাগজ ও ভোরের কাগজ পত্রিকায় টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেছি। পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও এনজিও সংস্থায় চাকুরী করে দু:খে কষ্টের মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করছি। এছাড়া একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবেও সব সময় চেষ্টা করেছি অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার। নিজের অভাব কাউকে বুঝতে দিইনি। সব সময় চেষ্ট করেছি সৎভাবে জীবন যাপন করার। যে কোন ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি ছিলাম আপোষহীন ও সোচ্ছার।
কিন্তু অত্যন্ত দূঃখ ও পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সংবাদে ইয়াবা ব্যবসায়ী বা এজেন্ট হিসাবে আমার নাম ছাপা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশিত ওই তালিকায় আমার নাম দেখে আমি চরমভাবে হতবাক ও বিষ্মিত। আমার মনে হয়েছে, ইয়াবাসহ চোরাচালান ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান, লেখালেখী এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এসব বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখায় অপরাধী চক্র ও জেলা শহরে অবস্থানকারী তাদের গডফাদাররা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নামের তালিকায় আমার নামটিও যুক্ত করেছে। চক্রটি আমার সামাজিক দৃঢ় অবস্থানকে দূর্বল এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য এ কাজটি করেছে। এতে করে তিল তিল করে গড়ে তোলা আমার সততা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কালিমা লেপন করে একজন পেশাদার সংবাদকর্মী জীবনকে করা হয়েছে কলংকিত। এ ঘটনায় আমি যত না বিব্রত, তার চেয়ে বেশী ক্ষুব্ধ আমার সহকর্মীদের উপর। কারণ আমার সংবাদকর্মী বন্ধুরা কোন বাচ-বিচার না করে শুধুমাত্র কথিত তালিকার অজুহাত দিয়ে ধারাবাহিকভাবে পত্রিকায় আমার নামটি ছাপিয়ে যাচ্ছে! আমার কথা হচ্ছে, প্রশাসন প্রভাবিত হয়ে ভূল তথ্য দিয়ে ভূলভাবে তালিকা প্রনয়ন করতে পারে। সেই ভূল পথে হাটা কি আমাদের উচিত? নাকি যাচাই বাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা আমাদের দায়িত্ব?
আমি এখানে একটি ঘটনা তুলে ধরতে চাই। পেশাগত কারনে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার সংক্রান্ত একটি বস্তুনিষ্ট রিপোর্ট বিগত ২০০৯ ইং সনের মাঝামাঝি সময়ে দেশ টিভি চ্যানেলে অনইয়ার (প্রদর্শিত) হয়েছিল। এ রিপোর্টটি দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার আতিক রহমান খাঁন পূর্নিয়া ও আমি টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে যৌথ ভাবে তৈরী করেছিলাম। রিপোর্টটি প্রদর্শিত হওয়ায় তৎকালীন সময়ে রহস্যজনকভাবে এক সপ্তাহ যাবৎ টেকনাফে দেশ টিভি সম্প্রচার বন্ধ ছিল। বিষয়টি তৎকালীন টেকনাফ ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোজাম্মেল হক ও ডিজিএফআই ইনচার্জকে অবহিত করা হলে পরবর্তীতে তাদের সহযোগীতায় দেশটিভি সম্প্রচার পূনঃরায় চালু করা হয়। এছাড়া পেশাগত কারনে সীমান্তের অপরাধী চক্রের সাথে আমার সম্পর্ক কখনো মধুর ছিল না। অপরাধী ও অপরাধ জগতের দোসরদের কাছে আমি ছিলাম আতংক। তখন থেকে ইয়াবা চক্রটি আমার পিছু নেয়। এই চক্রটির সাথে জেলা শহরে অবস্থানকারী এক শীর্ষ দৈনিকের প্রতিনিধিও জড়িত! যিনি অনেক চিহিৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর গডফাদার বলে মাঠে প্রচার রয়েছে।
আমি স্পষ্ট এবং দৃঢ় কন্ঠে জানাতে চাই, প্লিজ এভাবে মিথ্যা তথ্য ছাপিয়ে আমাকে মানষিক যন্ত্রনা দেবেন না। আসুন, আপনারা টেকনাফ ভিজিট করুন। আমার বাড়ী গাড়ি, সহায় সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স কি রয়েছে আবিস্কার করুন। আমার পরিবার বা ঘনিষ্ট আতœীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত কিনা দেখুন। প্রকৃত সত্য আপনাদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরুন।
প্রিয় পাঠক, সৎভাবে জীবন যাপনের জন্য যে মানুষটির নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা, স্ত্রী সন্তানদের ঠিকমত ভরনপোষন করতে হিমশিম খাচ্ছি, এমনকি প্রতিদিনের সাংসারিক চাহিদা মেটাতে না পেরে নিজের পরিবার পরিজনকে কৌশলে এড়িয়ে থাকছি, তাকে নিয়ে এতো জঘন্য মিথ্যাচার সৃষ্টিকর্তা সইবে না। আমার বিশ্বাস প্রকৃতির বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
সব শেষে বলতে চাই, এই যন্ত্রনা থেকে আমি মু্িক্ত দিন, নয়তো আমাকে ফাঁসি দিন!

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।