ইয়াবা ব্যবসায়ি বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি

কক্সবাজার: কক্সবাজার সহ সারা দেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের সুযোগে জেলার বেশ কিছু অখ্যাত অনলাইন পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে সমাজের প্রতিষ্টিত ব্যবসায়িদের ইয়াবা সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগে এনে নিরবে চাঁদাবাজির হিড়িক পড়েছে। অনেকে ব্যক্তিগত শত্রুতাকে পূজি করে আবার অনেকে জমি জমা নিয়ে বিরুধের জের ধরে অথবা সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন অনলাইনে এ ধরনের কাজ করাচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার ক্ষেত্র বিশেষে একজনকে চাঁদা দিয়েছে খবর পেলে অন্য আরো অনেকে চাঁদা দাবী করে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। খুরুশকুল ইউনিয়নের ইসহাক কোম্পানী জানান, আমি সারা জীবন সিনএজি গাড়ী ভাড়া দেওয়া সহ তেল বেচাকেনার ব্যবসা করে আসছি। আল্লাহর রহমতে কোন প্রকার সংসার চালিয়ে জীবন যাপন করছি এখন আমার ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে কিন্তু হঠাৎ করে গত রমজানে শুনলাম একটি অখ্যাত অনলাইন পত্রিকায় নাকি পুরু খুরুশকুলের অসংখ্য মানুষের নাম দিয়ে তাদের ইয়াবা ব্যবসায়ি বানিয়ে দিয়েছে,সেখানে আমি সহ অনেক ভাল মানুষের নাম প্রকাশ করেছে যা খুবই দুঃখ জনক। পরে শুনলাম যারা এসব নিউজ করেছে তারা নাকি ফোনে একাধিক মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করেছে। অবশ্য অনেকে চাঁদাও দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এটা কোন্ নীতিমালা যে কোন তথ্য প্রমান ছাড়া যে কোন মানুষকে হঠাৎ করে ইয়াবা ব্যবসায়ি বানিয়ে দেওয়া ? একই ইউনিয়নের রাসেল বলেন,বর্তমানে সমাজে প্রতিষ্টিত মানুষজনকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটা হিড়িক পড়েছে। প্রতিদিন দেখি বিভিন্ন অনলাইনে এলাকা ভিত্তিক বেশ কিছু প্রতিষ্টিত মানুষজনের নামে নিউজ,পরে খোঁজ নিলে দেখা যায় কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে সেই নিউজ করা হয়েছে। কিন্তু এতে সেই ব্যক্তির পরিবার পরিজনের উপর কি প্রভাব পড়বে সেটা কেউ ভেবে দেখেনা। ঈদগাও সদর ইউনিয়নের ব্যবসায়ি জাহাঙ্গির আলম বলেন, এখন সব চেয়ে ভাল ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা। এখানে অনেক ব্যবসায়িকে রীতিমত হুমকি দেওয়া হয় যদি কোন ঝামেলা করে ইয়াবা ব্যবসায়ি হিসাবে নিউজ করা হবে। আর পান থেকে চুন খসলেই বিভিন্ন অখ্যাত অনলাইনে ছবি দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ি হিসাবে প্রচার করে। আবার অনেকে আছে নিজের ফেইজবুক ওয়ালে লিখে দেয়। সেটা এখন রীতিমত আতংকে পরিনত হয়েছে। আবার যারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তারাই আবার টাকা দিলে সেখানে প্রতিবাদ ছাপায় আর টাকা না দিলে আরো সংবাদ হবে বলে হুমকি দেয়। সদর উপজেলার উত্তর ডিককুল এলাকার এহসান বলেন, আমি সহ আমার পুরু পরিবারের উপর স্থানীয় কিছু মাফিয়াদের নজর পড়েছে তারা ইদানিং বিভিন্ন অনলাইনে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। এতে আমার পুরু পরিবার চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান বলেন,এখানে অনেক মানুষ আছে যারা বিদেশ থেকে এসেছে,তারা জমি কিনে বাড়িঘর করেছে। বা জমি নিয়ে কোন বিরুধ হচ্ছে অথবা সীমানা নিয়ে বিরুধ হচ্ছে তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন ভুয়া অনলাইনে প্রতিপক্ষকে ইয়াবা ব্যবসায়ি হিসাবে প্রচার করে দেয়। এতে নিরিহ মানুষজন হতভম্ব হয়ে পড়ে। ইদানিং প্রতিদিনই এরকম অভিযোগ আসছে কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের করার তেমন কিছুই থাকেনা। তবে আমি একটি কথা বলতে চাই কারা সাংবাদিক সেটার একটা মানদন্ড থাকা দরকার। আমি সম্মান রেখেই বলছি আগে খুব বাজে কাজে জড়িত ছিল এমন অনেকে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে এতে সবাই খুবই আতংকিত। চকরিয়া উপজেলা আইনজীবির সমিতির সভাপতি এড. লুৎফুল কবির বলেন, সময়ের সব চেয়ে আলোচিত বিষয় এটি,অসংখ্য ভদ্র এবং সমাজের প্রতিষ্টিত মানুষ আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত এই অভিযোগ করছে। মূলত সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে কয়েকজন প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ির নামের সাথে অসংখ্য ভাল মানুষের নাম ইচ্ছা করে লিখে দিচ্ছে, পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে বা ফোন করে টাকা দাবী করছে। আবার সেই সুযোগে পুলিশ বা কিছু আইনশৃংলখা বাহিনির অসৎ সদস্য সেই মানুষ থেকে চাঁদাদাবী করে। আরো সমস্যা হচ্ছে কোন কারনে একজনকে টাকা দিয়েছে খবর পেলে অন্য আরো অনেকে তার নামে লেখা শুরু করে এমন অবস্থা সেই মানুষটি আর ঘর থেকেই বের হতে পারে না। উখিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ বলেন,বর্তমানে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে আগের অনেক জমিদার এখন পথের ফকির আর যারা তাদের বাড়িতে কাজ করতো তারা এখন অনেকে অবস্থা সম্পন্ন এটা সময়ের ব্যবধান। অনেকে বিদেশ গিয়ে টাকা আয় করেছে অনেকে বৈধ ভাবে ব্যবসা বানিজ্য করছে। কিন্তু তাদের এখন ঘায়েল করতে খুব সোজা রাস্তা হচ্ছে ইয়াবার সাথে নাম জুড়ে দেওয়া। এভাবে বহু সমাজের ভাল মানুষ তথ্য প্রযুক্তির কারনে সম্মানহানী হচ্ছে। তবে এটাও ঠিক বিভিন্ন নিউজের কারনে বাস্তব কিছু চিত্র ও উঠে আসে। অনেক সময় দেখি ব্যক্তিগত শত্রুতাবশতঃ অনেকে টাকা দিয়ে মিথ্যা নিউজ বা নিজেই তথ্য প্রচার করছে এটা খুবই জঘন্য কাজ। সেই সুযোগে অনেকে বাড়তি সুবিধা আদায় করছে এটা ও সত্য। টেকনাফ উপরের বাজার এলাকার ব্যবসায়ি গুরা মিয়া বলেন, এখানে ইয়াবা নাম বল্লে যে কোন সাধারণ মানুষ খুবই ভয়ের মধ্যে থাকে। ফলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা খুবই সহজ। যদিও প্রশাসন দেখে শুনে কাজ করে তবুও অনেকে ভয়ে এবং সম্মানের কথা চিন্তা করে নিয়মিত টাকা দিচ্ছে। যেমন আমার ছেলে ১২ বছর পর সৌদি আরব থেকে এসেছে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে কিন্তু তাকে আমি ১ মাসের মাথায় আবার পাঠিয়ে দিয়েছি কারন এর মধ্যেই অনেকে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, একটা ভুল তথ্যের কারনে অনেকের মেয়ের তার স্বামীর বাড়ির সংসার ত্যাগ করতে হয়েছে এরকম ঘটনাও আমরা দেখেছি। আবার অনেক বাবা আত্বহত্যা করার চিন্তা করেছিল এরকম ঘটনাও দেখিছি। সরকারের চলমান মাদক বিরুধী অভিযান দরকার হলে আরো জোরদার হউক কিন্তু কোন নিরিহ মানুষ যেন হয়রানীর শিকার না হয় আর কোন সম্মানী মানুষ যেন কোন ভুল তথ্যের শিকার না হয় সেটা খেয়াল রাখা সবার দায়িত্ব। এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার কোন অভিযোগ পেলে সে যেই হউক তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।