ইয়াবা ব্যবসায়ীরা লাপাত্তা,কাপড় ও মুদির ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে তালিকাভূক্ত বাঘা বাঘা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা লাপাত্তা হয়ে গেছে টেকনাফ থেকে। কিন্তু রমজান শুরুর আগে সেই চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিশিষ্ট সমাজ সেবক, বিশিষ্ট দানবীর, কাউন্সিলর প্রাথী, মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার জন্য শাড়ি, লুঙ্গি, থামি, থ্রীপিস, সেমাই ,চিনি, চনা, দুধ, তৈল স্থানীয় লোকদের দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পাইকারী দোকানে অর্ডার করেছিল। কিন্তু অভিযান শুরুর পর থেকে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের আর দেখা পাচ্ছেন না কাপড় ও মুদির মালামাল ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি স্থানীয়রা তাদের দান খয়রাতের টাকার জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, এখন তাদের তৈরী রাজপ্রাসাদে মালিক কোনো রাজা বা রানীর দেখা পাওয়া যায়নি। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় শুধু প্রাসাদের পাহারাদারের দেখা মিলেছে। আবার কোনোটায় তা-ও মেলেছে প্রাসাদগুলোয় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। খাঁ খাঁ করছে চারদিক।

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত ও সৌদি আরবে পালিয়ে গেছে। অনেকে ট্রলারে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে আশ্রয় নিয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রণজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী একরাম, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম ওরফে কালা ও জাফর আলমসহ ২০-২৫ জনের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানে কোনো ধরনের পেশিশক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। মাদক ব্যবসায়ী বা ইয়াবার গডফাদার যতই শক্তিশালী হোক তাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মরণ নেশা ইয়াবার ব্যবসা করে টেকনাফের অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। নিজ এলাকায় তারা রাজপ্রাসাদতুল্য বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও ঢাকা চট্টগ্রামে গড়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে রাতের আঁধারে তারা পালিয়েছে। এ কারণে রাজপ্রাসাদগুলো বর্তমানে রাজা-রানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ- মাদক ব্যবসায়ীদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের শুরুতে এখানে অভিযান চালানো হলে চিহ্নিত গডফাদারদের গ্রেফতার করা যেত। পাশাপাশি কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। প্রতিদিন আলোচনায় আসছে একরাম হত্যার বিষয়টি। ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।