ঈদের বাজারে গরম মশলা দামেও গরম


অসাধু ব্যবসায়ীচক্রের দাপটে ভোক্তাশ্রেণী অসহায়

কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিভিন্ন মসলাপাতির দাম। পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র ইতোমধ্যেই মুনাফাশিকারি সিন্ডিকেটগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠার খবর প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক পূর্বকোণসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে ঈদের সময় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। অনেক প্রয়োজনীয় পণ্যে তারা ভর্তুতিও দেন, যাতে সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদ-আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এর বিপরীত দৃশ্যই দেখা যায়। ঈদ মৌসুমে মুনাফাশিকারিদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। কোনো কারণ ছাড়াই পন্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে ভোক্তাশ্রেণির পকেট কাটা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে তারা অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়ে। এবারের কুরবানির ঈদেও তারা তৎপর হয়ে উঠেছে। মসলাদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বেশি মুনাফা হাতিয়ে নিতে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠেছে এখন। এটি কোরবানীদাতাসহ স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যে উদ্বেগকর।
দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ঈদুল আজহাকে ঘিরে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে কয়েক পদের মসলার দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেশি বেড়েছে এলাচি ও জিরার দাম। গোলমরিচ, লবঙ্গ ও শুকনা মরিচের দামও আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, দেশে চাহিদা অনুযায়ী মসলার পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা। প্রসঙ্গত, প্রতিবারই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে মসলা ব্যবসায়ীদের অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ অসাধু শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তারাও অসহায়। কোরবানির ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করেই মুনাফাশিকারিচক্র ভোক্তাদের পকেট কাটছে। তারা এলাচ, রসুন, হলুদ, লবঙ্গ, বাদাম ও শুকনা মরিচের দামও বাড়াচ্ছে অযৌক্তিক ভাবে। পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের চড়া দাম তো বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায়। বাড়তির দিকে অন্যান্য খাদ্যপণ্য ও রান্নার উপকরণের দামও। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি কর্তৃপক্ষেরও কার্যকর ভূমিকা না থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে।
আমরা মনে করি, জোরদার বাজার মনিটরিং ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এখনই সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মুনাফাশিকারিরা যাতে ইচ্ছে মতো দাম না নিতে পারে, সে জন্যে বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও তা মানতে বাধ্য করতে হবে। কেউ তালিকামূল্যের বেশি দাম আদায় করলে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মসলাসামগ্রীর পাশাপাশি সব রকম ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখতেও সরকারের সুচিন্তিত উদ্যোগ থাকা দরকার।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।