ঈদ উদযাপনে ফের এলাকায় এসেছে ইয়াবা ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র তাড়া খেয়ে দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ঈদ উদযাপনে ফের এলাকায় ফিরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী । এলাকায় ফিরে পু:নরায় তাদের পুরানো ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যেতে জোর তৎপরতা ও ইয়াবা বিক্রির পাওনা টাকার হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে
বলে সূত্রে জানা গেছে। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র ধরপাকড়ের কারণে কিছু দিন ইয়াবা পাচার, কিছুতা শিথিল হলেও ফের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। একই সাথে ইয়াবা পাচার, মানবপাচার প্রতিরোধে আইন শৃংখলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
ক্রসফায়ার আতংকে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত টপ টু বটম এলাকা ছেড়ে দেশ বিদেশে পালিয়ে গেছে। পুরো উপজেলার সবখানে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অবৈধ মোটর সাইকেলের ঝনঝনানি উধাও এবং প্রভাব কমতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের কদরও সাথে সাথে বাড়তে থাকে। মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। শত শত মানুষ বলেন, এবার বুঝি ইয়াবা পুরোদমে বন্ধ হবে। আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে সরকার হার্ডলাইনে চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুদ্ধ ঘোষণা করে। তখন থেকে ইয়াবা সিন্ডিকেট রীতিমত আতংকে এলাকা ছেড়ে ভিন্ন কৌশলে ব্যবসা পরিচালনা করে। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, আসলে ইয়াবা বিরোধী প্রশাসনিক অভিযান জোরদার হওয়ায় রাগব বোয়ালদের সুযোগ আরো বেড়েছে। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বসে ফ্ল্যাট বাসায় অবস্থান করে আরো জোরে শোরে চড়া দামে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে নিরবে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করেছে। কথিত আছে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতরা এলাকা ছাড়া হলেও তাদের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী এবং আশ্রয়দাতা-প্রশ্রয়দাতা দিয়ে কতিপয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা ঠিকই জিইয়ে রাখে। ইয়াবা ব্যবসায়ী ও কতিপয় আশ্রয়দাতার তথ্যসন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন নিরীহ দেশপ্রেমিক ৩ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। শিকার ঐসদস্যদের চাকুরী স্থল পরিবর্তন হয়ে অন্য স্থানে বদলী করলে রীতিমত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ঐ আশ্রয়দাতা উচ্চ অফিসারদেরও বদলীর ক্ষমতা আছে বলে জনসমুক্ষে দম্ভোক্তি পরিদর্শন করতে থাকে।

সুকৌশলী মাদক ব্যবসায়ী নামের এসব মানবতার শত্রুুরা রাতারাতি এলাকায় ফিরে আবারও সেই চিরচেনা অবৈধ ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। আগের মত অবৈধ মোটর সাইকেলের ছড়াছড়িতে সাধারণ মানুষের চলাচলে আবারও নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। জনজীবনে অস্বস্থিকর সেই পরিস্থিতি পুনঃরায় ফিরে এসেছে। টেকনাফের শিক্ষিত সমাজ জরুরী ভিত্তিতে ইয়াবা রোধে আবারও প্রশাসনের কঠোরতার উপর জোর দাবী জানিয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে টেকনাফে ইয়াবার কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে। এতে মনে হচ্ছে, আবারও মাথা চড়া দিয়ে উঠছে ইয়াবা পাচারকারিচক্র।

গত কয়েক মাস ধরে ইয়াবা ব্যবসা রোধে বর্তমান সরকারের ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। তার আলোকে বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ উপজেলার আক্তার কামাল মেম্বার, একরামুল হক কাউন্সিলর, হ্নীলা উসমান, ইসমাইল, নুর মোহাম্মদ, জাহেদ হোসেন জাকু (৪৫) ও ফরিদুল আলম (৪৮) নিহত হন।
বর্তমানে অনেকেই আতœগোপনে থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে। আবার অনেকেই বিদেশ পাড়ি জমায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া, টেকনাফ, রামু কক্সবাজার সদরসহ আরো অনেক স্থানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়িরা এলাকায় ঈদ উদযাপন করছে। কয়েকদিন ধরে ঈদ উদযাপন করতে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি, বিভিন্ন মামলার আসামী তাদের স্ব-স্ব এলাকায় ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আবার অনেকেই এলাকায় ফিরলেও আড়ালে থেকে তাদের পুরানো ব্যবসা ইয়াবা পাচারের চেষ্টায় রয়েছে।

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের বাসিন্দা বশির আহমদ জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে টেকনাফের চিহ্নিত কিছু ইয়াবা ব্যবসায়িকে এলাকায় আসতে দেখেছেন। তার মতে কৌশলে ওই ইয়াবা পাচারকারিরা চলাফেরা করছে।

এদিকে স্থলপথে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে ইয়াবা পাচারকারিরা সাগর পথকে বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ কাজে সক্রিয় রয়েছে টেকনাফ, মহেশখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া- টেকনাফ মহেশখালিসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি সিন্ডিকেট মাছ ধরার ট্রলারে করে এই ইয়াবার চালান টেকনাফের সেন্ট মার্টিন উপকূল থেকে মহেশখালীতে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে ট্রলারে কুতুবদিয়া চ্যানেল হয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে ইয়াবা তৈরির ৩৭টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত সিংহভাগ ইয়াবা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। সমুদ্রপথেও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার হচ্ছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত বড়ুয়া জানিয়েছেন, ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ইয়াবা পাচাকারি এলাকায় ফিরে বলে শুনেছি। তাদেরকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

টেকনাফবাসী তথা জাতি আজ কলংকিত হয়ে গেছে। যুব সমাজ ধ্বংসের কিনারায় পৌছে গেছে। জাতিকে ইয়াবার করালগ্রাস থেকে মুক্ত করতে ইয়াবা বিরোধী প্রশংসনীয় প্রশাসনিক চিরুনী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ইয়াবা নির্মূলে নতুন আইন প্রনয়ণ, গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে জামিন অযোগ্য করে আগামী প্রজন্ম রক্ষায় যুগোপযোগী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় টেকনাফের ভবিষ্যতের কান্ডারী তথা নতুন প্রজন্মের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।