উখিয়ার গৃহবধূ রাবেয়া উধাও

আবদুর রহিম সেলিম, Ukhiya Pic, 16.01.2016
কক্সবাজারের উখিয়ায় এক গৃহবধূ বিয়ের ২১ দিন পর স্বামীর ঘর ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাপড়চোপড় ও স্যামসাং মোবাইলসেট সহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উখিয়া উপজেলা জুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রূপপতি গ্রামের হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে সৌদি প্রবাসী রাহমত উল্লাহ (২৫) এর সাথে গত ২৪ ডিসেম্বর হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলিরবিল গ্রামের বশির আহমদের ছেলে আবদুস সোবহানের কন্যা রাবেয়া বেগমের (১৯) ইসলামী শরীয়া মোতাবেক ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের অল্পদিনে স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে কোন ধরনের মনোমালিন্য সৃষ্টি না হলেও স্ত্রী রাবেয়া পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে অন্যজনের হাত ধরে পালিয়ে যায় বলে স্বামী রাহমত উল্লাহর আশংকা। রাহমত উল্লাহর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারী রাবেয়ার দাদা বশির আহমদ, পিতা আবদুস সোবহান ও মাতা মনোয়ারা বেগম রাবেয়াকে বাপের বাড়ীতে বেড়াতে নিয়ে যায়। বাপের বাড়িতে গিয়ে রাবেয়া তার পূর্বের এক প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। সৌদি প্রবাসী রাহমত উল্লাহ জানান, আমার কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ৪ ভরি স্বর্ণ, ৪ লক্ষ টাকার দেনমোহর, ৫০ হাজার টাকার কাপড় চোপড়, ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের স্যামসাং জি-৫ মডেলের একটি মোবাইল সহ নগদ আলমিরায় রক্ষিত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আমার অগোচরে হাতিয়ে নিয়ে ওইদিন বাপের বাড়ীতে বেড়াতে যায় রাবেয়া। পরবর্তীতে আমার স্ত্রীকে বাপের বাড়ী থেকে আনতে গেলে সে অন্যজনের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার কথা রাবেয়ার পিতা-মাতা আমাকে বলেন। এ সময় আমি কোন উপায়ান্তর না দেখে প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের নিকট দ্বারস্থ হই।
এ ব্যাপারে রাহমত উল্লাহ বাদী হয়ে গত ১৬ জানুয়ারী রাবেয়ার পিতা আবদুস সোবহানকে প্রধান আসামী করে তার স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য উখিয়া সহকারী পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ইনানীর রুহুল আমিন জানান, রাবেয়ার লোভাতুর পিতা-মাতা রাহমত উল্লাহর টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়তো তাদের কন্যাকে অন্যত্রে লুকিয়ে রেখেছে নয়তো বা রাবেয়া তার পূর্বের প্রেমিকের হাত ধরে পাড়ি দিয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই। রাহমত উল্লাহর পিতা নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে রাবেয়ার পিতা-মাতা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছে। যার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
উখিয়া থানার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল মালেক মিয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান করে রাবেয়াকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।