উখিয়ায় কর্মসৃজনের নামে চলছে লুটপাট

dor

সরওয়ার আলম শাহীন,

উখিয়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে কর্মসৃজনের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট। কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ পরিচালনা ও তদারকিতে সংশিষ্টরা পরস্পর যোগসাজসে দায়সারা ভাবে কাজ করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা নয় ছয় করে আতœসাৎ করছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রকল্প কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের কাজে অনুপস্থিত রেখে এবং মাঠে কাজ না করে সরকারী টাকা যেনতেন ভাবে আতœসাৎ ও লুটপাট করছে এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। কর্মসৃজন প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত থাকা কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন না করে অফিসে বসে এসব অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে লুটপাটের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ৩৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ কোটি ২১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গরীরদের জন্য সরকারের কোটি টাকা বরাদ্ধ আসলেও সংশিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদেরকে সপ্তাহে ১/২ দিন কাজ করার পর প্রতি সপ্তাহে ৩ দিন কাজ বন্ধ রেখে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে সরকারী অর্থ আতœসাৎ করে যাচ্ছে। একদিকে সরকারী টাকা আতœসাৎ অন্যদিকে এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না এবং সাধারণ শ্রমিকদের ঠকিয়ে কর্মসৃজনের নামে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা আতœসাৎ করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। একজন শ্রমিক দৈনিক ১৭৫ টাকা করে মজুরী পাবেন। কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করে তার প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করার কথা রয়েছে। ৩ সপ্তাহ কাজ অতিবাহিত হলেও প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজের মধ্যে ২ দিন কাজ করেছে বলে জালিয়া পালং ও হলদিয়া পালং ইউনিয়নে কাজ করা শ্রমিক আবু ছিদ্দিক ও ফারুক আহামদ জানিয়েছেন। টাকাও তাদের নগদ পরিশোধ করা হচ্ছে। ব্যাংক ও কার্ডের ব্যাপারে তারা কিছু জানেননা। প্রায় ৩ সপ্তাহ কাজ অতিবাহিত হলেও কাজের উন্নয়নের চিত্র ও প্রল্পের অস্থিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচেছ না এলাকায়। বিশেষ করে রাস্তা নির্মান করার নামে পুরানো রাস্তা গুলোর উপর শুধুমাত্র প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জুবাইর হাসান জানান, কর্মসৃজনের আওতায় বাস্তবায়নাধীন সংস্কার কাজগুলো সরেজমিন তদারকি করার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাইহানুল ইসলাম মিঞাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার কর্মসৃজনের কাজ দৃশ্যমান । তবে তার কথার সাথে এলাকায় কর্মসৃজন কাজের মিল খুজে পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বেশী অভিযোগ রয়েছে হলদিয়াপালং, জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে। উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোতে কর্মসৃজনের কোন কাজই হচ্ছেনা। শুধুমাত্র শ্রমিকের নাম দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে. এলাকায় শ্রমিক হিসেবে আত্বীয় স্বজন ও নেতাকর্মীদের নাম দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজার কমিশন দেওয়া হচ্ছে। বলতে গেলে,ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান,মেম্বার,টেক অফিসার ও ব্যাংক ম্যানেজার মিলেমিশে কথিত কর্মসৃজনের কাজ দেখিয়ে সরকারের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রকল্পের নাম দিয়ে। বিগত দিনে এ প্রকল্পে লুটপাটের ঘটনায় বেশ কয়েকবার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কর্মসৃজন প্রকল্পের অস্তিত্বু খুঁজে পায়নি। এর পরেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রসাশনের শীর্ষ পর্যায়ে ম্যানেজের মাধ্যমে এ বছরও শুরু করা হয় লুটপাটের কমৃসৃজন প্রকল্প। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতি বছর দুইবার করে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সরকার এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি পরিকল্পিত উখিয়া চাইয়ের আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে হত দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করেছে সত্যিকার অর্থে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। কোন কাজ না করে সরকারী টাকা আর্থসাৎ করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পে কোন রকম দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।