একরামের ঘরে এবার ঈদ আসেনি

নতুন জামা পরেনি দুই মেয়ে
একরামের ঘরে এবার ঈদ আসেনি
বাবা ঈদে আমাদের নতুন জামা কিনে দিতেন, বাইকে চড়িয়ে এবাড়ি-ওবাড়ি বেড়াতে নিয়ে যেতেন। সারাক্ষণ আমাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, অনেক আনন্দ হতো। বাবা আমাদের পছন্দের খাবারগুলো মাকে রান্না করতে বলতেন, রান্না শেষে সবাই একসঙ্গে খেতাম, খুব ভালো লাগত। কিন্তু এখন বাবা নেই, বড় একাকী লাগছে, পরিনি কোনো পোশাক, আমাদের ঈদও আসেনি।’ মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে গভীর আবেগে কথাগুলো বলছিল র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফ পৌরসভা কাউন্সিলর একরামুল হকের কন্যা তাহিয়াত।
গত ২৬ মে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পরিবারের কর্তা নিহতের পর একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম দুই কন্যা তাহিয়াত হক ও নাহিয়ান হককে নিয়ে চট্টগ্রামে মায়ের ভাড়া বাসায় চলে যান। এবারের ঈদও সেখানে করেছেন। তবে এই ঈদে স্ত্রী, কন্যা কারো কাছে ছিল না কোনো আনন্দ। পিতৃ শোকে সারাক্ষণ কেঁদে কেঁদে ঈদের দিন পার করেছে দুই কন্যা। পুরো পরিবারই ছিল শোকে মুহ্যমান। জানালেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।নিহত একরামের স্ত্রী মুঠোফোনে জানান, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আমার
দুই কন্যা নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। তারা পিতা হারানোর শোক ভুলতে পারছে না। কোনোভাবে কান্না থামাতে পারছি না। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এমনকি পিতার অনুপস্থিতিতে ঈদে তারা নতুন জামাকাপড়ও পরেনি। দুই কন্যাকে কোনোভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে পারছি না। জানি না তাদের ভবিষ্যৎ।’ আয়েশা বেগম জানান, আমার স্বামী ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ, কারো সঙ্গে কখনো ঝগড়া-বিবাদে জড়াতেন না।
স্বামীর ঈদের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আয়েশা বেগম বলেন, ঈদের দিনে স্বামী এলাকার জনগণকে বাড়িতে দাওয়াত করে আপ্যায়ন করতেন, পাড়ার মুরব্বিদের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করতেন, বন্ধুবান্ধবদেরও সময় দিতেন। তার প্রাণের সংগঠন আওয়ামী লীগ পরিবারের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে দাওয়াত করে সাংগঠনিক বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করতেন, পরামর্শ দিতেন। সুখে-দুঃখে সবার খবর রাখতেন।
দুই কন্যাকে সব সময় নিজের কাছে আগলে রাখতেন। পিতার প্রতি দুই কন্যা তাহিয়াত হক ও নাহিয়ান হকের ভক্তি এবং ভালোবাসা ছিল অন্যরকম। প্রতিবার ঈদে ব্যস্ততার ফাঁকে দুই কন্যাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করতেন, সময় দিতেন। সন্তানদের কাছে তাদের পিতা ছিল একজন আদর্শ মানুষ, পাশাপাশি তাদের নিকটতম বন্ধু। পিতার বাড়ি ফেরা বিলম্ব হলে মেয়েরাই ফোন করে খোঁজখবর নিত।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।