এবার মাদার তেরেসাকে আক্রমণ তসলিমা নাসরিনের

তসলিমার টুইটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মিশনারিজ অব চ্যারিটির মুখপাত্র সুনীতা কুমার।
আশরাফ ইসলাম


(প্রিয়.কম) বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবারও বিতর্কে জড়ালেন। এবার তিনি ভারতের ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচিতে অবস্থিত মাদার তেরেসা মিশনারিজ অব চ্যারিটির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা শিশু পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরাসরি আক্রমণ করলেন মাদার তেরেসাকে। কলকাতার আর্চ বিশপ থেকে শুরু করে অনেকেই তসলিমা নাসরিনের তোলা অভিযোগকে খণ্ডন করছেন।

তসলিমা নাসরিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, ‘সবাই জানে যে মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠান বাচ্চা বিক্রি করে। মাদার তেরেসা নিজেও বহু আদর্শহীন, অনৈতিক, বেআইনি, অমানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিখ্যাত মানুষ অপরাধী হলে তাকে আড়াল করার কোনো মানে হয় না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তসলিমা নাসরিন নিজের দুটি বইয়ের কথা উল্লেখ করে জানান, এ দুটি বই পড়লে মাদারের কাজ সম্পর্কে জানা যাবে।

এদিকে তসলিমা নাসরিনের এমন টুইটে ১৫ জুলাই, রবিবার কলকাতার আর্চ বিশপ টমাস ডিসুজা মন্তব্য করেন, ‘তসলিমার এ ধরনের কথার কোনো সত্যতা নেই । তসলিমার মাদার তেরেসাকে নিয়ে এমন মন্তব্যে মাদারের ভাবমূর্তি একটুও নষ্ট হবে না। নিজের কাজ দিয়েই মাদার তেরেসা চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।’

তসলিমার টুইটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মিশনারিজ অব চ্যারিটির মুখপাত্র সুনীতা কুমার। তবে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফেলিক্স রাজ তসলিমার টুইটের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি মন্তব্য করেন, ‘মাদার তেরেসার বিষয়ে কোনো কথা বলার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’

মাত্র ১৪ দিন বয়সী এক শিশুকে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে মাদার তেরেসা মিশনারিজ অব চ্যারিটির বিরুদ্ধে। আর এ ঘটনায় কর্মরত এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। ওই কেন্দ্রের আরও দুজন নারী কর্মীকেও আটক করা হয়। এ ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।

এ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, ‘মাদারকে কুলষিত করার ছক ছাড়া কিছুই না এটি।’ অন্য দলের নেতারাও মমতার কথায় সম্মতি দিয়েছেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া রবিবার পাচার হওয়া আরেকটি শিশুর খোঁজ পাওয়া গেছে।

আজ থেকে ৬৮ বছর আগে ১৯৯৭ সালে প্রয়াত মাদার তেরেসা মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

নোবেল পুরস্কারজয়ী মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠিত ওই সংস্থার বিশ্বজুড়ে অজস্র কেন্দ্রে তিন হাজারেরও বেশি সন্ন্যাসিনী যুক্ত। তারা বিশ্বের নানা প্রান্তে বহু হসপিস, স্যুপ কিচেন, কুষ্ঠ নিরাময় কেন্দ্র, স্কুল ও পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রও চালান।

প্রিয় সংবাদ

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।