কক্সবাজারে মদের বারে ঝুঁকছে এনজিও’তে কর্মরত তরুণীরা

মো:জাহেদুল ইসলাম(জাহেদ)//কক্সবাজারে ব্যাপকহারে বাড়ছে নারী মাদকসেবীদের সংখ্যা। অন্যান্য সংস্থা কিংবা এনজিও’র চাকরির সুবাধে বাড়ী থেকে বের হয় এসব ওঠতি বয়সের নারীরা। পরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিসে কর্মজীবন পার করলেও সন্ধ্যা নামার পর পরেই ভিড় জমায় পর্যটন এলাকার বিলাশ বহুল মদের বার গুলিতে। গভীর রাত পর্যন্ত নিজ পেশার বস কিংবা অন্যপেশার বিত্তশালীদের সাথে মদ্যপান করে শুরু করে মাতলামি। পাশাপাশি অর্থের লোভের সম্মুখিন হয়ে অনেক সময় মদের বোতল নিয়ে হরদম জলসার আসরে বসেন আবাসিক হোটেল কক্ষে। এই নারীদের মধ্যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত এক ওঠতি বয়সের নারী হল শহরতলীর লিংকরোড এলাকার জৈনক জেনিনা সাত্তার মুন্নি। চাকরি করে হলিডে মোড এলাকার একটি সংস্থায়।

সূত্রমতে, এই নারী হরেক রকম বিত্তশালীদের সঙ্গে প্রায় সময় মদ্যপান করে মাতলামির পাশাপাশি অশ্লীল কাজে মেতে ওঠে। এছাড়া মদ্যপানের স্টিল ছবি ও ভিডিও বর্তমানে অনেক বিত্তশালী ও স্থানীয় যুবকদের কাছে শুভা পাচ্ছে।

মদ্যপান, মাতলামি ও অশ্লীল কর্মকান্ডের ব্যাপারে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় জৈনক জেনিনা সাত্তার মুন্নির। মুন্নি বলেন, মদ খেয়ে মাতলামি করবে এটি স্বাভাবিক। তাছাড়া আমার বয়স ১৮ বছরের উপরে। আমি (মুন্নি) এখন স্বাধীন। মদপান এবং রাতে আড্ডাবাজি ব্যক্তিগত বিষয়। এই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই। মদ খাওয়ার লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চাইলে মুন্নি বলেন, নাই তবে করে নেব। লাইসেন্স ছাড়া আমাকে (মুন্নি) কেন মদ বিক্রি করে এটা যারা মদের বার চালায় তাদের জিজ্ঞেস করেন।
তবে জেনিনা সাত্তার মুন্নির পক্ষে ছাফাই গাইতে হবু স্বামী পরিচয়ে ফোন করেন ঢাকা গুলশান-১ এলাকার বিজ্ঞাপনী সংস্থা কেরিবি ইন কর্পোরেশন সত্ত্বাধিকারি বিশাল চৌধুরী। তিনি প্রথমে প্রতিবেদককে নয় থেকে নব্বই বুঝানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রতিবেদক স্ত্রীর মদ্যপানের লাইসেন্সসহ নানা বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে স্বামীর পথ থেকে সরে যান তিনি। পরে মেয়েরা মায়ের জাত হিসেবে আঙ্খা দিয়ে এইসব বিষয় মিডিয়ায় না এনে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান।
শহরের পর্যটন এলাকার মোহাম্মদ মাসুদ করিম নামের এক বার ম্যানেজার বলেন, এই তরুণী একেক সময় একেক বিত্তশালীদের সাথে নিয়ে আসেন। তাদের সম্মানে ঝামেলায় না গিয়ে চাহিদা মত বিক্রি করি। তবে খাওয়ার পর যা করে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও কর্মকর্তা বলেন, মুন্নির কারনে কক্সবাজারের আরো অহরহ মেয়ে মাদকসেবীদের কাতারে যাচ্ছে। কিন্তু কি বলব। তার দুই ভাইও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট দুইটি সংস্থায় কাজ করে। তৎমধ্যে একজন মুন্না। অপরজন সাগর। বোনের এই অশ্লীল কর্মকান্ড অবশ্যই তারা জানে। মূলত টাকার ভুত মাথায় ঢুকার কারনে এবং সহজে বিত্তশালী হওয়ার জন্য নিজের ভবিষ্যত নষ্ট করে দিচ্ছে।

এদিকে অনেকের মতে, জেনিনা সাত্তার মুন্নির ন্যায় কক্সবাজার জেলার আরো একাধিক ওঠতি বয়সের তরুণী বর্তমানে চাকরির পেছনে দৌঁড়তে গিয়ে হরদম মাদক সেবনে লিপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নানা অপকর্ম করে সুন্দর ভবিষ্যত নষ্ট করছে।

উল্লেখিত বিষয়ে ইমাম আলমগীর হোছাইন বলেন, মুসলমান হিসেবে নারীদের যেভাবে জীবন যাপন করা দরকার বর্তমানে তা শতকরা ৫ ভাগও আশা করা যাচ্ছেনা। একজন নারী মদের বারে গিয়ে মদ্যপান করে মাতলামি করবে এটা জগণ্য। তার জন্য ইহকাল পরকাল দুইটায় শেষ। তবে কক্সবাজারে এই রকম পরিবারের মেয়ে আছে এটা শুনতেই অভাক লাগে।

এদিকে লাইসেন্স বিহীন অহরহ যুবক ও তরুণীরা বর্তমানে মদের বারে গিয়ে হরদম মদ্যপান করার ব্যাপারে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সুমেন মন্ডলকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উক্ত অফিসের সূত্রমতে, লাইসেন্স বিহীন মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রায় সময় অভিযান চলে। এই অভিযান দ্রুত সময়ে আরো জুরদার করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ