কথা বললেই মেরে ফেলা হবে…র‍্যাবের হুমকি

image_201_12810fdsfdf

নারায়ণগঞ্জের নিহত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নূর হোসেন এবং র‍্যাবের ভয়েই সাধারণ মানুষ গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিতে আসছেন না।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগে করেন র‍্যাবের পরিচয়ে করে গত কয়েকদিনে তাকে বেশ কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়েছে। হুমকি দাতারা তাকে নিহত সাতজনের ব্যাপারে আর কথা বলতে বারণ করেছে৷ কথা বললে নাকি তাকে মেরে ফেলা হবে৷ শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে র‍্যাবের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকা নিয়ে অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, হুমকি দিয়ে তাকে বলা হয়েছেন আন্দোলন থামাতে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, হুমকির পর তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছেন। কিন্তু তারপরও নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ দেয়া হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি আরো বাড়তি নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা জিডি’র অভিযোগ তদন্ত করে দেখছেন।’
তদন্ত কমিটির কাছেও শহিদুল ইসলাম তাঁর এই অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার সঙ্গে দেখা করে তাঁর অভিযোগের কথা জানান।
তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের বক্তব্যের জন্য অপক্ষো করলেও, কেউ সাক্ষ্য দিতে আসেননি।
তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লা জানান, আগামী শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে তৃতীয় দফায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১২ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সাতজন সাক্ষ্য দেন। এই তদন্ত কমিটি ৯ মে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য নিয়েছে।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘র‍্যাব এবং পলাতক নূর হোসেনের ভয়ে কেউ সার্কিট হাউজে সাক্ষী দিতে আসতে সাহস পাচ্ছেন না।’ তাই তিনি বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে সিদ্ধিরগঞ্জে গণশুনানি করার আবেদন জানান।
এদিকে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি পলাতক নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়িতে অস্থাবর মালামাল ‘ক্রোক’ করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের টেকপাড়ায় নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর আগে হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজিত জনতা নূর হোসেনের অফিসে হামলা চালিয়ে তা পুড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, এই অপহরণ ও খুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৪ জুনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।