কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের আমদানি

 

castomttttt
কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের আমদানিকিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের আমদানি। শুল্ক ফাঁকির পণ্যে সয়লাব বাজার। আর এসব পণ্য সোজা চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে কিংবা খোলাবাজারে। ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

তবে বসে নেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষও। কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের অভিযানে একের পর এক ধরা পড়ছে এসব চোরাই পণ্য। আবার গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি দু’টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ডুপ্লেক্স বোর্ডের চালান আটক করে শুল্ক গোয়েন্দারা। আর গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিতে পোর্ট সিটি পলি নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের সাইনবোর্ডই উধাও করে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সিটি গেটের পোর্ট সিটি পলি অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় ১৯১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড আমদানি করে। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কয়েক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

একইভাবে প্যাক-ওয়ান নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ১৪২ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। অন্যদিকে ঢাকার ২/সি, পুরানা পল্টনের আকরাম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান মতিঝিল এক্সিম ব্যাংক থেকে এলসির (ঋণপত্র) মাধ্যমে এক লাখ ৬২ হাজার ৬৭৬ মার্কিন ডলার বা এক কোটি তিন লাখ ১৪ হাজার ৮০ টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায়, পোর্ট সিটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ একটি মামলা করেছে। প্যাক-ওয়ানের বিষয়টিও তাদের নজরদারিতে রয়েছে।

এছাড়া এ ধরনের অনিয়ম রোধে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আরো কাজ করছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে চট্টগ্রামের বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয় ঠিকমতো বন্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানাগুলো পরিদর্শন করতে পারছে না বলে চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, মূলত পুনঃ রপ্তানি শর্তে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলো বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় উৎপাদনকাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি করতে পারে। শর্ত অনুযায়ী তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিকশিল্পসহ বেশ কিছু খাত এ সুবিধার আওতায় পণ্য আমদানি করছে।

তবে আমদানি করা এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করা নিষিদ্ধ।

সরকার দেশীয় শিল্প-কারখানা সুরক্ষার স্বার্থে আইনে এমন বাধ্যবাধতা রেখেছে।

কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে সরকারের প্রাপ্য কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের কাগজশিল্পসহ বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানাগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।