টেকনাফ নতুন পল্লানপাড়া খানাখন্দে ভরা সড়কে গাড়ি চলে হেলেদুলে

গিয়াস উদ্দিন, টেকনাফ
সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে খানাখন্দের। নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে খানাখন্দের। নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় l প্রথম আলোকক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের মূল সড়কটির দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার। ভারী বৃষ্টির কারণে ২০১৩ সাল থেকে ভাঙতে শুরু করে সড়কটি। এরপর প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সড়কটিতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। ক্ষতবিক্ষত বেহাল সড়কটির কারণে নিত্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই সড়ক ব্যবহারকারী সাত গ্রামের ৪৫ হাজার বাসিন্দা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের শেষের দিকে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পিচঢালাই করা হয়। এরপর সড়কে আর সংস্কারকাজ হয়নি। সড়কটি দিয়ে সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া, বটতলি, মহেষখালীয়াপাড়া, গোদারবিল, তুলাতলি, লম্বরীপাড়া ও লেঙ্গুরবিল গ্রাম থেকে প্রতিদিন উপজেলা সদর ও পৌরসভায় যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন। ভাঙা সড়কের কারণে ভোগান্তির শেষ নেই ওই সব এলাকার মানুষের।

২১ ডিসেম্বর সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফ-বাহারছড়া সংযোগ সড়কের তিন রাস্তার মাথা থেকে বটতলি বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের সড়কটি পুরোটা খানাখন্দে ভরা। পিচঢালাই ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত । আবার কোথাও কোথাও সড়কের কোনো চিহ্ন নেই। গাড়ি চলছে হেলেদুলে।

টেকনাফ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ বলে, সড়কের গর্তে পড়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) উল্টে দুবার দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। ঝাঁকুনি আর দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

মো. আজিজুল হক নামের এক জিপচালক বলেন, এ সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ঝাঁকুনির কারণে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয় লোকজন জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা, জিপ ও ট্রাক চলাচল করে। ভাঙা সড়কের কারণে যাতায়াত ভাড়া বেড়ে গেছে।

ওই সড়ক ব্যবহারকারী বড়ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলম বলেন, গত বছরও পৌরসভার বাসস্টেশন থেকে বটতলি বাজার পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ছিল ২০ টাকা করে। এখন সেখানে রিকশায় দিনের বেলায় ৫০ ও সন্ধ্যার পর ৭০ টাকা দিতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে ওই ভাঙা অংশ পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করছেন।

সদর ইউনিয়নের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র বটতলি হাটেও যেতে হয় এই সড়ক দিয়ে। প্রতিদিনের বাজার ছাড়াও রোববার ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন কক্সবাজার, চকরিয়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, দোহাজারী, চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। কিন্তু উপজেলা সদর ও পৌরসভার ব্যস্ততম এ সড়কটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বটতলি বাজারের ব্যবসায়ী আহমদ আলী বলেন, বিকল্প হিসেবে সৈকত সড়ক দিয়ে বটতলি আসতে হলে টেকনাফ বাসস্টেশন থেকে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ বলেন, গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে এলজিইডির টেকনাফ উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।