খুটাখালীতে র‌্যাব-বন বিভাগের যৌথ অভিযানে অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ

Khutakhali
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার ৪ আগষ্ট
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বন বিভাগ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার সময় ইউনিয়নের সেগুন বাগিচা নূরানী বাজারে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এতে কেউ আটক হয় নি। প্রায় ঘন্টা ব্যাপি উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মুকাম্মেল কবির। এসময় র‌্যাব-৭ এর প্রেট্রোল ইনচার্জ মুজাফ্ফর আহমদ, খুটাখালী বিট কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, নাপিতখালী বিট কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল, বন প্রহরী নূর নবী, মনজুরুল ইসলাম, সাবেক হেডম্যান জয়নাল আবেদীন, মোহাম্মদ ছৈয়দ, হেডম্যান আশরাফ আলী, আব্দু শুক্কুর সহ ১০/১২ জন ভিলেজার উপস্থিত ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ইউনিয়নের সেগুন বাগিচা নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় ভুমিদস্যুরা বন বিভাগের জমি দখল সত্ব বিক্রি করে প্রকাশ্যে পাকা দেয়াল দিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করেন। বিষয়টি ফুলছড়ি এসিএফ, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে খুটাখালী বিট কর্মকর্তা অবহিত করেন। সর্বশেষ কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. শাহ ই আলমের কাছে অভিযোগ আকারে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষনিক বিষয়টি আমলে নিয়ে অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদের জন্য ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ডিএফওর নির্দেশ মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বন প্রহরী ও ভিলেজারেরা ইটের দেয়াল ভেঙ্গে কাঠের চালা গুড়িয়ে দেন। স্থানীয়রা জানায় বিগত কয়েকমাস পূর্বে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলাম পুর নতুন অফিস ফুটবল খেলার মাঠ এলাকার প্রবাসি মো: ইউছুপ খুটাখালীর বন বিটের আওতাধীন ৬০ কড়া জমি ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় ক্রয় করে ইউনিয়নের মাইজ পাড়ার ভুমি দস্যু হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে। জমির সাবেক দখলদার হেডম্যান নুরূল আলম বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন। জমি ক্রয়ের মাস খানেক পর গত রমজানে প্রকাশে চতুর্পাশে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করে ৭ টি দোকান ঘর তোলেন। মঙ্গলবার সকালে এসব দোকানের টিন চালার কাজ করার জন্য ৫/৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করেন। বিষয়টি খুটাখালী বন বিট কর্মকর্তা খবর পেয়ে বন প্রহরী, ভিলেজার ও র‌্যাব নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
খুটাখালী বন বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন বন বিভাগের জমি দখল করে অবৈধ এ দোকান ঘর তুলার অভিযোগে চিহ্নিত ৪ জনকে অভিযোক্ত করে গত ২৮ জুলাই চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামী করা হয়েছে ইউনিয়নের মাইজ পাড়ার নুরুল কবিরের পুত্র হুমায়ুন কবির (২৪), স্থানীয় সেগুন বাগিচা এলাকার নুরুল আলম প্রকাশ বগি (৫০), নুরুল হক (৪৫) ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর নতুন অফিসের মৃত আলী আকবরের পুত্র প্রবাসী মো: ইউছুপ (৪২)। এছাড়া আরো বেশ ক‘জন অজ্ঞাত নামা রয়েছে।
ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পর্যাক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এসব এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।