খোলামেলা পোশাকে দাপিয়েছেন, তালেবানের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালালেন

বিনোদন ডেস্ক। আরিয়ানা সাঈদ। আফগানিস্তানের জনপ্রিয় পপ-তারকা তিনি। হিজাব, বোরখা—কোনও কিছুই পরিধান করতেন না। খোলামেলা পোশাক পরে ঘোরাফেরা করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাথা উঁচু করে গান করতেন। দেশের দু’টি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গেও কাজ করেছেন। একটি গানের অনুষ্ঠানে বিচারক হয়েছেন। আফগানিস্তানের বেশিরভাগ অংশ তালেবান দখলে নিয়ে নেওয়ার পর থেকেই জীবন বদলে যায় তাঁর। প্রাণ হাতে নিয়ে কোনওক্রমে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছেন তিনি। খবর-আনন্দবাজার
আমেরিকার উদ্ধারকারী বিমানে বসে থাকার ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে অনুগামীদের চিন্তামুক্ত করেছেন। তার আগে পর্যন্ত বিনিদ্র রাতের অভিজ্ঞতা খুব তাড়াতাড়ি ভাগ করে নেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। জন্ম আফগানিস্তানের কাবুলে হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কখনও সুইৎজারল্যান্ডে কখনও লন্ডনে কাটিয়েছেন। সেই থেকেই পশ্চিমি ভাবধারায় বেড়ে ওঠা। আরিয়ানার মা ছিলের তাজিব জনগোষ্ঠীর মানুষ। দশকের পর দশক ধরে এই তাজিকরাই তালিবানদের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তুলে আসছে।
আরিয়ানা যখন আট বছরের, তখন মা-বাবার হাত ধরে পাকিস্তানের পেশোয়ারে চলে এসেছিলেন। তারপর সেখান থেকে সুইৎজারল্যান্ড। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ঝোঁক দেখে ১২ বছর বয়সেই একটি মিউজিক স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন বাবা। ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তানে প্রবেশ করেননি। ২০১১ সালে আফগানদের মধ্যে তাঁর ‘আফগান পেশারক’ গানের জনপ্রিয়তা দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার। সেই থেকে আফগানিস্তানেই। তালেবানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন পুরো দেশ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছুটে গিয়েছেন। ‘আফগানিস্তানের কণ্ঠ’ হিসাবে সমাদৃত হয়েছেন। সাহসিকতার জন্য ‘ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড’ও পেয়েছেন।
রবিবার তালেবানের দখলে কাবুল চলে আসার পর কয়েক রাত প্রাণ হাতে নিয়ে কাটিয়েছিলেন। বুধবার আমেরিকার উদ্ধারকারী বিমানে কাবুল ছাড়তে পেরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন। কাবুল থেকে দোহা এবং সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তানবুলে আপাতত রয়েছেন তিনি। তাঁর অনুপ্রেরণায় অনেক মহিলাই এগিয়ে আসার সাহস দেখিয়েছিলেন। যেমন আফগান মহিলা ফুটবল জাতীয় দলের খেলোয়াড় নাদিয়া নাদিম। সম্পর্কে তাঁরই ভাইঝি নাদিয়া। ২০১৮ সালে নিজের ম্যানেজার হাসিব সাঈদকে বিয়ে করেন আরিয়ানা। আপাতত স্বামীর সঙ্গেই দেশ ছেড়েছেন তিনি।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ