চট্টগ্রামে মাজারে ঢুকে কথিত পীর ও খাদেমকে গলাকেটে হত্যা

frw999

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, এক যুবকই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নেংটা ফকিরকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় ও বাধা দেয়ায় খুন হয়েছেন খাদেম আব্দুল কাদের।

চট্টগ্রামে দিনদুপুরে মাজারে ঢুকে কথিত পীর ও তার খাদেমকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন কথিত পীর রহমত উল্লাহ ওরফে নেংটা ফকির (৫২) ও খাদেম আব্দুল কাদের (২৫)। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পূর্ব অঞ্চল হাউজিং সোসাইটির আকবর টিলা (বাংলাবাজার) এলাকায় নেংটা ফকিরের মাজারে গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় এ ঘটনা ঘটে। জনতা ঘাতককে ধাওয়া করলে সে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রহমত উল্লাহ গত বিশ বছর ধরে আধাপাকা এক কক্ষ বিশিষ্ট ওই মাজারে বসবাস করে আসছিলেন। আর গত কয়েক বছর ধরে তার সঙ্গে বসবাস করছিলেন খাদেম আব্দুল কাদের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এক যুবকই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ওই যুবকের টার্গেট ছিল নেংটা ফকির। নেংটা ফকিরকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় ও বাধা দেয়ায় খুন হয়েছেন খাদেম আব্দুল কাদের। পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, নেংটা ফকিরের জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। তিনি অধিকাংশ সময় উলঙ্গ থাকতেন। কারো সঙ্গে তিনি তেমন একটা কথা বলতেন না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাজার বিরোধী কোনো গোষ্ঠী অথবা মাজারের টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ থেকে কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, নেংটা ফকিরের মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার গানবাজনার আসর বসতো। তার কক্ষ থেকে এনার্জি ড্রিংকের শতাধিক খালি বোতল পাওয়া গেছে। অনেকে তার এ ধরনের জীবনযাপন পছন্দ করতো না। এ কারণে কোন জঙ্গি গোষ্ঠীরও টার্গেটে পরিণত হতে পারেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জোড়া খুনের তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ঘাতক একজন। তার পরনে ছিল প্যান্ট-শার্ট। বয়স তিরিশের কোটায়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘাতককে ধাওয়া করে। সে তখন দৌড়ে পাহাড়ের দিকে ছুটতে থাকে। এ সময় ধাওয়াকারীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘাতক পালিয়ে যায়। ককটেলের স্প্লিন্টারে মুন্না নামে এক কিশোরসহ তিনজন আহত হয়। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশ একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই সিএমপির ?ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিআইডির কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।