‘চাঁদা দে নইলে মরবি, তোর সন্তানরাও মরবে’

image dtn safda1

চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর চিত্র এখন রাজধানীজুড়ে। চাঁদাবাজরা টার্গেট করে তাদের অপকর্ম চালাচ্ছে। তারা চাঁদাবাজির ধরন ও কৌশল পাল্টাচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে চাঁদাবাজদের প্রধান টার্গেট ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং ঠিকাদাররা। সাধারণত এ চার পেশায় নিয়জিতদের আয়-রোজগার অন্যদের চেয়ে বেশি। জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি এলাকায় চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চাঁদা না পেলেই তারা অ্যাকশনে যাচ্ছে, গুলি চালাচ্ছে, হামলা করছে, এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও তারা টার্গেট করছে। এসব ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজরা গ্রেফতার হচ্ছে না। উল্টো অভিযোগের মাশুল গুনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোনেই বেশিরভাগ চাঁদাবাজরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় ব্যতিক্রম ধরনের ফোন নম্বর থেকেও কল আসছে। চাঁদার দাবিতে হুমকিস্বরূপ মিষ্টির বাক্সে করে বাসায় পাঠানো হচ্ছে কাফনের কাপড়, ককটেল ও হাতবোমা। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীর মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, শাহআলী, দারুসসালাম, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গুলশান, রমনা, উত্তরা, বাড্ডা, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ীসহ আরও অনেক এলাকায় সম্প্রতি চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে।
‘চাঁদা দে নইলে মরবি। তুই মরবি, তোর সন্তানরাও মরবে। চাঁদা না দিয়া বাঁচতে পারবি না। তোর সন্তানদের উঠায়ে নিয়া মেরে ফেলব।’ এভাবেই চাঁদার জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে রাজধানীর মাতুয়াইলের ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদার সুলতান আহমেদকে। এ ব্যাপারে তিনি ডেমরা থানায় মামলাও করেছেন। পুলিশ শুক্রবার শ্যামল নামে ওই চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউ হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। ওই চিকিৎসক তার সরকারি কর্মকর্তা ভাগ্নেসহ ঘনিষ্ঠ দু-একজন ছাড়া ভয়ে আর কারও কাছে মুখ খুলছেন না। চাঁদাবাজদের সঙ্গে দেন-দরবারে সময় পার করছেন বলে ওই চিকিৎকের ঘনিষ্ঠরা জানান। একই ভাবে বনানীর একজন রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ীর কাছেও চাঁদা দাবি করেছেন খিলগাঁও এলাকার একাধিক চাঁদাবাজ।
পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে আটক ও বাইরে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চলছে ভয়ানক চাঁদাবাজি। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে নীরবে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে। জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাচ্ছে দাগি অপরাধীরা। তারাও এখন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। তাছাড়া রাজনৈতিক কিছু নেতার প্রশ্রয়েও এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। ডেমরার ভুক্তভোগী ঠিকাদার সুলতান অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরেই ১ লাখ টাকা চাঁদার জন্য শ্যামল ও তার সহযোগীরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। একবার ১৫ হাজার টাকাও দিয়েছি। পরে শ্যামল বাকি ৮৫ হাজার টাকা চাঁদার জন্য চাপ প্রয়োগসহ হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ডেমরায় আমার একটি প্রজেক্টের কাজও বন্ধ করে দেয় তারা। একই সঙ্গে আমাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এ ব্যাপারে মামলা করলে কয়েক দিনের মাথায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিছুদিন কারাগারে থেকে জামিনে বের হয়ে শ্যামল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার হুমকিতে আমার সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই। এ অবস্থায় ডেমরা থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ শ্যামল নামে ওই চাঁদাবাজকে শুক্রবার গ্রেফতার করে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।