জয়বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় চাই,সবুজের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

সবুজের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

প্রিয় নেত্রী বিদ্যানন্দিনী, আপনি জয় বাংলার একজন সার্থক ধারক ও বাহক আর মুজিবীয় জয় বাংলার সাহসী কন্ঠস্বর। আপনি অবশ্যই জানেন, “জয় বাংলা” বাঙ্গালির হৃদয় তাড়িত প্রেরণার উৎস। “জয় বাংলা” বাঙালির সংযত জীবনের মূলমন্ত্র। “জয় বাংলা” সকল অপশক্তির প্রতিক ঘৃণা আর অবহেলা।

“জয় বাংলা” স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর দেশপ্রেমিক হওয়ার এক চেতনাময়ী তেজদীপ্ত হৃদস্পন্দন। “জয় বাংলা” স্লোগানে উজ্জ্বীবিত হয়ে বাঙালি স্বপ্ন দেখে মুজিবীয় সোনার বাংলার। “জয় বাংলা” এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে তাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবলভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। এর আগে বাঙালি কখনো এত তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যাতে একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। “জয় বাংলা” স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির প্রেরণার উৎস। সফল অপারেশন শেষে বা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে জয় উদযাপন করত। ১৯৬৯ সালের ৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’, এরপর থেকে বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের স্লোগান হয়ে উঠেছিলো ‘জয় বাংলা’ । আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো এই বাংলা নামের দেশকে পাওয়ার জন্যই। আমরা খেয়াল করে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যাবতীয় প্রকাশনা, স্ট্যাম্প, পত্রিকার খবর ইত্যাদিতে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে লেখা হতো, যেমন ‘বাংলা দেশ’। তখন থেকে বাঙালির প্রাণের স্লোগান জয় বাংলা, মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান “জয় বাংলা”, এমনকি প্রাণত্যাগের সময়ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা জয় বাংলা বলেছেন, গুলির মুখে “জয় বাংলা” বলে মৃত্যুবরণ করেছেন হাসি মুখে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ তাঁর বিখ্যাত ভাষণে “জয় বাংলা” উচ্চারণ করে সমাপ্ত করেছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্বাক্ষরসঙ্গীত ছিল জয় বাংলা, বাংলার জয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মদের প্রথম বেতার ভাষণটি শেষ হয়েছিল “জয় বাংলা, জয় স্বাধীন বাংলাদেশ” স্লোগান দিয়ে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর খুনী মোশতাক ও জিয়া এই “জয় বাংলা” স্লোগানকে বাঙালির হৃদয় থেকে।মুছে দিতে চেয়েছিল। তখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যারা ধরে রেখেছিলেন তারা জয় বাংলাকে ফেলে দেননি। বাঙালির চেতনাময়ী হৃদস্পন্দন এ স্লোগানটি চিরস্মরণীয় করে রাখবার জন্য একটি ‘জয় বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপন এখন সময়ের দাবী। প্রিয় মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি চাইলেই বাঙালির প্রাণের এই দাবী আবারো ‘জয় বাংলা’ বলে এগিয়ে যাবে এটি কোটি জনতার বিশ্বাস। ইতি, (জয়দিত্য কবি) মুহাম্মদ সবুজ হোসেন প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- সবার উপরে বঙ্গবন্ধু এবং আমার প্রাণের বিদ্যাপীঠ। যুগ্ম-আহবায়ক, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা, আড্ডা ইউনিয়ন শাখা। যুগ্ম-আহবায়ক, বরুড়া সাহিত্য সংসদ।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।