টেকনাফসহ জেলার ১০৯টি বাড়ি দিচ্ছে সরকার

কক্সবাজার[]গৃহহীনদের জন্য নগদ টাকায় দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত গৃহহীনদের গৃহদান কর্মসূচির অগ্রাধিকার প্রদান দূর্যোগে ঝুঁকিহ্রাস এবং সরকারের আমার গ্রাম আমার শহর নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ি এ ঘর নির্মান করা হবে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রনালয়ের আওতাধীন গ্রামীন অবকাঠামোগত রক্ষাবেক্ষণ (টিআর) এবং অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ দ্বরা গৃহহীনদের দূযোর্গ সহায়ক বাড়ি নিমার্নের উদ্যোগ করেছে সরকার। আগামি ৩০ জুনের মধ্যে উপকােেভাগিদের বাছ্ইা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন আমরা যেহেতু বরাদ্দ পেয়েছি দেরিতে সেহেতু সময় হয়ত কিছু দিন বেশি লাগতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে উপজেলা কমিটি দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের ত্রান ও পূর্ণবাসন শাখা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনির আওতাভুক্ত টিআর ও কাবিটার বিশেষ খাতের অর্থ দ্বারা দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়ন ও দূর্যোগে নিরাপত্তা হ্রাসকল্পে গৃহহীন পরিবারের জন্য দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মানের জন্য নির্দেশিকা জারি করে সরকার। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয় যে সব দরিদ্র পরিবারের উচুঁ ভিটা আছে কিন্তু টেকসই ঘর নেই তাদের জন্য ৮শ বর্গফুট ( প্রায় ২ শতাংশ জমি) বাড়ি, একটি রান্নাঘর, টয়লেট যেটি ২কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা টিনসেট ঘর হবে। এতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সোলার প্যানেল এবং পাশে টয়লেট থাকবে যাতে রাতে মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জেলা প্রশাসনের ত্রানশাখা শাখায় মন্ত্রনালয় থেকে প্রেরিত বরাদ্দপত্র থেকে জানা যায়, প্রতিটি বাড়ির নির্মানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫’শ ৩১ টাকা। জেলার ৮ উপজেলায় ১০৯টি বাড়ি নির্মানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ৮শ’ ৭৯ টাকা। উপজেলা ভিত্তিক বাড়ি নির্মান ও বরাদ্দের পরিমান হল চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার জন্য ১২টি করে বাড়ির জন্য প্রতি উপজেলায় ৩১ লাখ ২ হাজার ৩৭২ টাকা। মহেশখালীতে ১৭টি বাড়ির জন্য ৪৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৭ টাকা। কক্সবাজার সদরের ১১ টি বাড়ির জন্য ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া রামুর , উখিয়া ও টেকনাফের জন্য ১৫টি করে বাড়ির জন্য ৩৮ লাখ ৭৭ হাজার ৯’ শ ৬৫ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদিকে যারা এ প্রকল্পের উপকারভোগি হবে তাদের নির্বাচনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ি ২ শতাংশ পরিমান জমির মালিক, জমি পাওয়া সাপেক্ষে হিজড়া, বেদে, বাউল ,আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি, গৃহহীন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, নদী ভ্ঙ্গন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে গৃহহীন, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী এবং পরিবারে উপার্জনক্ষম লোক নেই এমন লোককে উক্ত বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, আমরা শীঘ্রই উপকারভোগিদের তালিকা প্রস্তুত করে বাড়ি বরাদ্ধের কাজ শেষ করতে পারব। আমাদের কাছে বরাদ্দ এসেছে একদম শেষের দিকে। ফলে সবশেষ করতে হয়ত সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। তিনি সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি যথাযতভাবে নিরপেক্ষভাবে তালিকা তৈরি পূর্বক সম্পন্ন করা হবে বলে ও জানান। প্রকল্পটি যথাযতভাবে বাস্তবায়ণ হলে জেলার ১০৯টি সহায় সম্বলহীন পরিবার মাথা গুজার ঠাঁই পাবে পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।