নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানেরও কার্যক্রম চলছে নির্বিঘ্নে রমরমা ডেন্টাল-প্যাথলজি সেন্টার ব্যবসা

কক্সবাজারে ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ডেন্টাল ক্লিনিকের ব্যবসা খুব রমরমা। সর্বশেষ পাঁচ মাসের ব্যবধানে নতুন প্যাথলজি সেন্টার গজিয়েছে সাতটি। কয়েক বছর আগে বন্ধের নোটিস পেয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানও দিব্যি চলছে। লাইসেন্সবিহীন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নানা অনিয়মের মধ্যে চলছে জেলার ৭০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিক। সর্বশেষ ৮ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের হাসপাতাল সড়কে অভিযান চালিয়ে ছয়টি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদরের হাটবাজারে স্থাপিত হচ্ছে নতুন নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব অবৈধ ল্যাব বন্ধে গত দুই বছরে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হাজারখানেক নোটিস পাঠানো হলেও নির্বিঘ্নেই তাদের কর্মকাণ্ড চলছে।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৭০টি প্যাথলজি সেন্টারের তালিকার মধ্যে ৩৬টির লাইসেন্স নেই। ৩৩টি প্যাথলজিকে চার বছর আগে বন্ধের চূড়ান্ত নোটিস দেয়া হয়। কিন্তু সবগুলোরই কার্যক্রম এখনো চলছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলো চললেও ৮ নভেম্বরের আগে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে, বিশেষ করে হাসপাতাল সড়কে গজিয়ে উঠেছে ১২-১৩টি অনুমোদনহীন ডেন্টাল ক্লিনিক। এর মধ্যে নয়টিকে বন্ধের নোটিস পাঠিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। কিন্তু নোটিসের তোয়াক্কা করছে না তারা। গত ৬ জুলাই কালো তালিকাভুক্ত করে নোটিস দেয়া এসব ক্লিনিক হলো— হাসপাতাল সড়কের ডিজিটাল ডেন্টাল পয়েন্ট, ডেন্টাল সার্জারি, ফ্যামিলি ডেন্টাল সেন্টার, কক্স ডেন্টাল সেন্টাল, মডার্ন ডেন্টাল হাউজ, ওরাল ডেন্টাল, মুমিন রাজুধন্বন্তরি ডেন্টাল কেয়ার।

আর চার বছর আগে বন্ধের নোটিসপ্রাপ্ত প্যাথলজি সেন্টারগুলো হলো— ঈদগাও বাজারের জয় প্যাথলজি, সি হার্ট মেডিকেল সেন্টার, হাসপাতাল সড়কের ফেমাস প্যাথলজি, ঈদগাও ডিসি সড়কের ডেন্টাল কেয়ার। চকরিয়া উপজেলার কালো তালিকাভুক্ত প্যাথলজি সেন্টারগুলো হলো— হেফজখানা সড়কের সেবা ল্যাব, মা মনি ফার্মেসিসংলগ্ন মা মনি প্যাথলজি, ফজল ফার্মেসিসংলগ্ন খুটাখালী প্যাথলজি সেন্টার, ডুলাহাজারা বাজারের মজুমদার মার্কেটসংলগ্ন নিউরণ ল্যাব, জিপ স্টেশনের এসএম প্যাথলজি, লালমিয়া মার্কেটের সাজেদা ড্রাগ হাউজ, ডুলাহাজারা ল্যাব হাউজ, খুটাখালীর গ্রামীণ ল্যাব, মালুমঘাটের মেডি ল্যাব; রামুর চৌমুহনীর জননী প্যাথলজি, হাসান দন্ত চিকিৎসালয়, হাসপাতালসংলগ্ন এম রাজা দন্ত চিকিৎসালয়। উখিয়ায় কালো তালিকাভুক্ত প্যাথলজি সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে ১৩টি।

সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ চার বছর আগে বন্ধের নোটিস দিলেও এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা এক রহস্য। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুস সালাম বলেন, অবৈধ ডেন্টাল-প্যাথলজি সেন্টারের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে এবং বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।