টেকনাফের ভূমিদস্যু মোঃ আলী গং বেপরোয়া


মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ
অসহায় রহিমা খাতুনের কান্না কে শুনে। তার আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের মামলার ফাইল নিয়ে টেকনাফ মডেল থানা চত্ত্বরে পাগলের ন্যায় এদিক ওদিক ছুটতে দেখে এ প্রতিবেদক তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে, রহিমা খাতুন অজর নয়নে কেঁদে বলেন, ২০০০ সালে আদালত ও গ্রাম্য আদালতে মামলা করেও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া-১২ কানি জমিতে দখলে যেতে পাচ্ছিনা। স্থানীয় ভূমিদস্যুগং কর্তৃক এসব জায়গা জবর দখল করে বসে আছে। এর আইনগত প্রতিকার চেয়ে অসহায় রহিমা খাতুন আদালত ও থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ঘটনাটি ঘটেছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়ায় প্রায় ১২ কানি জায়গা জমির মালিকানা দাবী নিয়ে তুলাতলীর স্বামী ছৈয়দ হোছনের স্ত্রী রহিমা খাতুনগং এর সাথে ছোট হাবিব পাাড়ার মৃত আছাব উদ্দীনের পুত্র মোহাম্মদ আলী গং এর মধ্যেং মামলা পাল্টা মামলা চলে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। স্থানীয় গ্রাম্য আদালতের মালিকানা দাবীর রায় পাবার পরও ফরিয়াদী রহিমা খাতুন উক্ত জমিতে দখলে যেতে পাচ্ছেনা। কেননা স্থানীয় মোহাম্মদ আলী গং জগদ্দল পাথরের ন্যায় বসে আসে উক্ত জমিতে। গেলে প্রতিপক্ষের লোকেরা ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দিয়ে তাকে। ২০০০ সালে আদালতে ৪৩/২০০০ বাদী রহিমা খাতুন গং মামলা করলে আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে বিগত ৪/৮/১৮ ৫নং আদেশ মূলে বিবাধীর বিরুদ্ধে বাদীর পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। বাদীর মালিকানাধীন কিছু জমির বাদীর নাম ৪৩৭৯ নং নামজারী সৃজিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আদালতে পর পর ২ বার বাদীর পক্ষে আদালত রায় প্রদান করার পরও দখলে যেতে পাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে ৮/৯/১৫ সালে টেকনাফ মডেল থানায় রহিমা খাতুন নিজে বাদী হয়ে প্রতিবেশী মৃত আছাব উদ্দীনের পুত্র মোহাম্মদ আলীকে প্রদাণ আসামী করে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বাদী রহিমা খাতুন উল্লেখ করেন, আদালতের রায় অমান্য করে তফশীল বর্ণিত জমিতে অবৈধভাবে পাকা ভবন ও ঘর নির্মাণ করছে। এসব অভিযোগ করেও রহিমা খাতুন গংরা পদে পদে হয়রানী ও ভোগান্তি শিকার হয়েছে। শুধু মাত্র আশ্বাসের বানী দিয়ে বিদায় দিচ্ছে। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে রহিমা খাতুন গংরা এখন ফুতুর। নেই তাদের কোন অর্থ সম্পদ। অপর দিকে প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ আলী গংরা বিপুল অর্থ ও বিত্তের মালিক। তাদের অর্থে অনেকেই হার মানছে। শেষ পর্যন্ত রহিমা খাতুন ও নুর নাহার বেগম এ দুই বোন এর প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মোহাম্মদ আলীর পুত্র শওকত আলমকে প্রধান আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারা মোতাবেক এম,আর, মামলা করেন। মামলা নং- ৪৪২/২০১৮ইং মামলার ২য় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলায় ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারার প্রসিডিং চূড়ান্ত পূর্বক তৎ মর্মে কারণ দর্শাতে টেকনাফ থানাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। মামলার বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেছে। ২য়পক্ষগণ দুলোভের বশবর্তী হয়ে তপশীলভূক্ত জমিতে বেআইনী ভাবে জবরদখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত ১০মে/১৮ ২য়পক্ষগণ জোর জবর দখল করার উদ্দেশ্যে তপশিলভূক্ত জমিতে ওরা গেলে ১মপক্ষগণ এতে বাঁধা প্রদান করতে গেলে ২য়পক্ষের লোকজন ১মপক্ষগণকে হত্যা করার জন্য দৌড়াইয়া হত্যা করার জন্য দৌড়াইয়া আসলে এলাকাবাসীর সহায়তায় ১ম পক্ষের লোকজন কোন রকম প্রাণে রক্ষা পায়। এনিয়ে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন অনেকে। গত ১৭মে, সকাল ১১ টায় টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়ার দপ্তরে রহিমা খাতুন মামলার কপি ও’সির হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ও স্যার আমাকে ভূমি দস্যুর কালো হাত থেকে বাঁচান । মামলাটি তদন্তে দায়িত্বে নিয়োজিত টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ অফিসার বিবেকানন্দ ।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।