টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীর চেয়ে লাভবান বিভিন্ন সংস্থা যতই ডাকঢোল পেটুক না কেন এ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেনা, মূল ব্যবসায়ীরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে

yaba-
আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ:::সীমান্ত এলাকা টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীর চেয়ে বিভিন্ন সংস্থা লাভবান হচ্ছে বেশী, যতই ডাকঢোল পেটুক না কেন এ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেনা মূল ব্যবসায়ীরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আবদ্ধ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় ২০০০ সালে হাটি পা পা করে ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান আসতে শুরু করে। সুদূর মিয়ানমার হয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেন। সে সময়ে ইয়াবা ট্যাবলেটের বাংলাদেশে গোড়া পত্তন ঘটান চোরাচালানী রমজান আলী প্রকাশ একটেল রমজান, মোহাম্মদ আয়ুব প্রকাশ বাট্টা আয়ুব, আব্দুর রশিদ প্রকাশ ভেক্কু সহ ডজন খানেক ব্যক্তি। মিয়ানমার থেকে সর্বপ্রথম চালানের মূল হোতা ছিলেন আমির তাহের প্রকাশ বার্মাইয়া আমির তাহের। এদের হাত ধরে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সে সময়ে ডজন খানেক ট্যাবলেট ব্যবসায়ী হলেও বর্তমানে টেকনাফে শতকরা ৮০ জন আলালের ঘরের দুলাল হতে আরম্ভ করে হেটে খাওয়া দিনমজুর পর্যন্ত এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। সে সময়ে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ দেশের কোন ব্যক্তি এ ব্যবসা সম্পর্কে অবগত ছিলনা। সে সুযোগে এ ব্যবসা ক্রমান্বয়ে বিস্তার লাভ করে। সে সময়ে এ ট্যাবলেট গুলো এত ভয়ংকর ও লাভবান ছিল না। যখন এ ট্যাবলেট টেকনাফ হতে সমগ্র দেশে পরিচিত লাভ করে, সেবনকারীদের অতি ভোগের পণ্য হয়ে দাড়ায়, তখন এগুলোর মূল্য বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে সেবনকারীর সংখ্যা, ব্যবসায়ীর সংখ্যা বহনকারীর সংখ্যা। যখন লাভের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে তখন প্রশাসন আইন প্রয়োগকারীর সংস্থা এগুলো প্রতিরোধে নামে। সম্প্রতি সময়ে এ ট্যাবলেট গুলো ভয়ংকর আকার ধারণ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া সন্তান ট্যাবলেট খেতে না পেরে নিজের পিতা মাতাকে হত্যা করল। তখন দেশের নিচের লেভেল থেকে শুরু করে উচ্চ লেভেল পর্যন্ত শুরু হয়ে গেল ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ীদেরকে সনাক্ত করণ, আটক, জেল, ক্রসফায়ার ইত্যাদি। আদৌ কি সম্ভব হবে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ট্যাবলেট মুক্ত করতে? সচেতন মহল জানায়, ইদানীং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী, বহনকারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সকল সংস্থার সকল সদস্য কি সৎ? এই সুযোগে অনেক সংস্থা ব্যবসায় হিসেবে এটাকে বেচে নিয়েছে। যখন মিডিয়ার মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও বহনকারীর নাম ঠিকানা চলে আসে তখন শুরু হয় তাদের সনাক্তকরণের। অনেক সংস্থার অনেক অসাধু ব্যাক্তি ট্যাবলেট ব্যবসায়ীদের নামধাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার যোগার করে এদেরকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দিতে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা সু দৃড় করার মানুষে যার যা ব্যবসার ধরন আছে সে অনুযায়ী চাঁদা পৌঁছাতে থাকে। এভাবে চলছে অনেকের ব্যবসা। তারা রয়েছে জামাই আদরে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। অন্য দিকে সোর্স নামধারী ভিন্ন একটি সংস্থা বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সোর্স সেজে ট্যাবলেট ব্যবসায়ীদের নাম ঠিকানা এবং ধরিয়ে দিয়ে বিরাট লাভবান হচ্ছেন। এদেকের দেওয়া হয় সোর্স মানির পরিবর্তে আটকৃত ট্যাবলেটের তিন ভাগের এক অংশ। তারা ঐ ট্যাবলেট গুলো প্রকাশ্যে দিবালোকে মার্কেটে বিক্রি করে। ফলে ঐ সমাজটি এখন মূল ব্যবসায়ীদের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে দাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু কিছু সংস্থার লোক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে ছুটির নামে আবার অনেক সংস্থার গাড়ির চালক, হেলপার যথাস্থানে ট্যাবলেট গুলো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া যারা বড় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ীর গড ফাদার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন ধরণের খবরদারী করে নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে সৎ ব্যবসার নাম ধারণ করে সৎ পণ্যের ভিতর দিয়ে নিজে পীর সেজে হাতে তশবীহ নিয়ে মাথায় পাগড়ী বেঁধে ট্যাবলেট গুলো বহণ করে নিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্রসফায়ারের নাম শুনে বাঘা বাঘা ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী টেকনাফের বাইরে চলে গেলেও কিন্তু তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে এ ব্যবসা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তাদের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক গড়ে তুলে। এমনকি একই গাড়িতে চড়ে বন্ধু সুলভ আচরণ করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কারণে বর্তমানে টেকনাফে অনেক সংস্থার লোক যুগ যুগ ধরে টেকনাফ ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছেন না।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।