টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মামলার আসামীসহ ২জনকে হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি[] টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পানি চালাচলের পাহাড়ি ছড়া থেকে এক রোহিঙ্গাসহ ২জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদার আবুল কাশেমের ছেলে শামসুল হুদা (২৮) এবং লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ২৫৪ নং রুমের বাসিন্দা রশিদ আহমদ প্রকাশ লাল বুইজ্জার পুত্র রহিমুল্লাহ (২৩)।
১৩ জুলাই সকালে একদল কাঠুরিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের পশ্চিম ছড়ায় দুটি ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে লোকজনকে জানায়। পরে পুলিশকে খবর দেয়।
ইয়াবার গডফাদার ও হ্নীলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হুদার ছোট ভাই। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ ও রামু থানায় ইয়াবা, হত্যা ও অস্ত্রের ছয়টি মামলা রয়েছে এবং সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৈরি করা ইয়াবার তালিকায় ৭৬৭ নম্বরে তার নাম রয়েছে। ওই তালিকায় ১ হাজার ১৫১জনের নাম আছে।
অপরজন রহিম রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও মাদকের কয়েকটি মামলা রয়েছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষথেকে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও রোহিঙ্গা বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রোহিঙ্গা বস্তিসহ পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করতেন হ্নীলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হুদা। সেই সুবাদে তার ছোট ভাই শামসুল হুদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে ইয়াবার একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অধিকাংশ সময় শামসুল রাত যাপন করতেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ঘরে। তার সহযোগি রোহিঙ্গা নাগরিক রহিম উল্লাহকে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় চালাতেন। রোহিঙ্গা যুবক রহিম উল্লাহ ইয়াবা ব্যবসায়ী শামসুল হুদার সহযোগি ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শামসুল হুদা, রহিম উল্লাহসহ কয়েকজনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। আলীখালী মো. হারুন নামে একজন ২ লাখ ইয়াবা বড়ির টাকা পাওনা ছিল শামসুল হুদার কাছ থেকে। সেই সূত্র ধরে, তাদের মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ ‘ডাকাত’ আব্দুল হাকিমের সঙ্গে থেকে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
এই ব্যাপারে নিহত শামসুল হুদার ভাই নুরুল হুদা মেম্বার বলেন, আমার বাবা কাশেম হত্যা মামলার আসামীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৃত আবু বক্কর মেম্বারের পুত্র রাসেল, আবছার কামাল ও মর্জিনা মেম্বার, আলীখালীর জামাল মেম্বারের স্ত্রী খুরশিদা, পুত্র শাহ আজম, মৃত মকবুল আহমদের পুত্র নুর আলম ডাকাত ও রশিদ মিয়ার পুত্র হারুনসহ একটি শক্তিশালী চক্র মিলে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নৃশংস
ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিযুক্ত হারুন বলেন, শামসুল হুদার মত লোককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় আমি চরমভাবে মর্মাহত। এখন আমার সাথে মর্জিনা মেম্বারের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। আর টাকা পাওয়ার জের ধরে জামাল মেম্বারের ছেলেদের সঙ্গে আমার বাঘে-মহিষে সম্পর্ক চলে আসছে। আমি এই জাতীয় ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত নয়।
এই ব্যাপারে মর্জিনা আক্তার ছিদ্দিকী বলেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধীদের কারণে কোন ঘটনা ঘটলে আমাদের দায়ি করে। তবে আমি লোকজন মারফতে জানতে পেরেছি আলীখালীর জামাল মেম্বারের পুত্র আজমের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটছে। তবে রাসেলের বিষয়ে আমরা ভালো-মন্দ কিছুই জানি না।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার বলেন, সম্প্রতি অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মানুষ আতংকিত হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এসএম আতিক উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল হতে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এইটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটি পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

লেদা রোহিঙ্গা বস্তির সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ শাহজাহান মিয়া বলেন, রোহিঙ্গা বস্তির পাশ^বর্তী পাহাড়ে ছড়া থেকে এক রোহিঙ্গাসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় কোনো ধরনের ঘেরা বা সীমানা প্রাচীর না থাকায় অধিকাংশ সময় বাহিরের লোকজন আসা-যাওয়া করছে।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় অপরাধীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশেষ কিলিং স্কোয়াড মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ভাড়াটে খুনীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপকর্ম করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোয় পাহাড়ি জনপদ নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।