টেকনাফে এলাকা ভিত্তিক বিশেষ সিন্ডিকেট এখনো তৎপর


বিশেষ প্রতিনিধি:
একদিকে আত্মসমর্পণ, অন্যদিকে ইয়াবার চালান গচ্ছিত! এ রহস্যময় বিষয়টিকে ঘিরে কক্সবাজারে অভিজ্ঞ মহলে এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে। কারাগারে থাকলেও ইয়াবা সম্রাটদের এখন সুদিন যাচ্ছে। আত্মসমর্পণ করে জেল হাজতে, অথচ তারই ঘরে ইয়াবার বড় চালান জব্দ, বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।
প্রাণরক্ষার্থে পালিয়ে আতœগোপনে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক কারবারী হাছান আলী নিহত হলেও পুরো উপজেলায় তার একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার ও পালিয়ে আত্মগোপনে থাকা সালমান নামের কয়েকজন মিলে এলাকায় গড়ে উঠা মাদক কারবারীরা বরাবরই রহস্যজনক কারণে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় উক্ত এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রতিদিন দেশের প্রায় স্থানে মাদক কারবারীদের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর বন্দুক যুদ্ধে নিহত ও আহতের খবর পাওয়া যায়। এরই মাঝে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ও আত্বসমর্পন কারীদের পুর্বের সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখনো বহাল তবিয়তে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে এমন অভিযোগ শুনা যায়। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা বন্দুক যুদ্ধে নিহত হাছান আলীর স্ত্রী ইয়াছ মিন আক্তার প্রতিদিন তার স্বামীর সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ইয়াবা পাচার চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ অনেকের।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলেই জানা যায়, বন্দুক যুদ্ধে নিহত হাছান আলীর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এবং আত্মগোপনে থাকা উত্তর জালিয়াপাড়ার সালমান তার সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যদের নিয়ে গড়ে তুলেছে ১৫/২০ জনের সিন্ডিকেট। প্রতিদিন নাফনদী হয়ে বেড়িবাধঁ ক্রস করে বিশালাকারের ইয়াবার চালান পাচারের অভিযোগ রয়েছে অহরহ।
জানা যায়, সরকারের জঙ্গিবাদ, মাদক, দূর্নীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী জিরো টলারেন্সনীতির আলোকে সাড়াঁশি অভিযান শুরু হলে তালিকাভূক্ত মাদক কারবারীদের একটি অংশ বিদেশ পালিয়ে যায় আর কিছু সংখ্যক সরকারের নিকট আতœসমর্পণ করেন। ইতিমধ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পাশাপাশি অনেকে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। অনেকে পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়ে কৌশলে মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব অপকর্মের বিরোদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালালেও প্রকৃতপক্ষে এসবের তোয়াক্কা না করে এলাকা ভিত্তিক বিশেষ সিন্ডিকেট এখনো তৎপর রয়েছে। বন্দুক যুদ্ধে নিহত হাছান আলীর স্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট টেকনাফ পৌরসভার আশপাশের এলাকায় বিদ্যমান রয়েছে। তাদের বিরোদ্ধে খতিয়ে দেখার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ রইলো।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।