টেকনাফে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি কাশি জ্বর, হাসপাতালে ভিড়


নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ
গত এক সপ্তাহ ধরেই সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বেড়ে চলছে সর্দি-জ্বর-কাশি। ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপের কারণে মানুষের মধ্যে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। যাদের অধিকাংশ জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমেনিয়া।

জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীরা জানান, প্রতিটি বাড়িতে দু’একজন করে সদস্য জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আগের তুলনায় এ জ্বরের প্রকোপ অনেক বেশি। জ্বরের সঙ্গে সব শরীরের মাংসপেশী ও হাড়ের জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। কাশিতে বুকে ব্যথা হচ্ছে। অনেকের শ্বাসকষ্টও দেখা দিচ্ছে। এটি প্রাথমিকভাবে করোনার লক্ষণ ভেবে অনেকেই আইসোলশনের ভয়ে গোপনে পল্লী চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এতে ভয়ের কিছু নেই। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এ রকমটা হচ্ছে। এ ধরনের জ্বর তিন দিন পর্যন্ত থাকলে তাতে ভয়ের কিছু নেই। সাধারণ প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেলেই জ্বর সেরে যাবে। অতিরিক্ত জ্বরে মাথায় পানি ঢালতে ও শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।

পৌর শহরের বিভিন্ন ফার্মেসি মালিক ও পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বেশির ভাগ রোগীই আসছেন সর্দি, জ্বর ও কাশির ওষুধ কিনতে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের খোনকার পাড়া থেকে আসা সুফাইয়া আক্তার জানান, তিনি গত ৬ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। মূলত বৃষ্টি শেষে প্রচন্ড গরমের কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বর হচ্ছে। কখনো কখনো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পার হয়ে যায়। সে সময় খুবই ঠান্ডা লাগে। চিকিৎসক প্যারাসিটামল ও ব্যথার ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে আসা ছমিরা বেগম বলেন, জ্বরে শরীরে এমন ব্যথা আমার জীবনে কখনই দেখি নাই। পুরো শরীরে প্রচন্ড ব্যথা, কাশির কারণে বুকেও ব্যথা অনুভব হচ্ছে। দীর্ঘ ১০ দিন জ্বরে ভুগে সদ্য সুস্থতা পেলেও কাশি এখনও বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির অন্য সদস্যরা জ্বরে আক্রান্ত না হলেও পাশের বাড়ির লোকজনেরও জ্বর-সর্দি রয়েছে। জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রাদুর্ভাব বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়েনি। কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও গ্রামীণ হাটবাজার পথঘাটে মাস্কহীন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

  • কক্সবাজার সির্ভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত ডা.সাকিয়া হক বলেন, জ্বর,সর্দি -কাশি থাকলেই প্রথমে করোনা টেস্ট করিয়ে ফেলা উচিত। সাথে কোন ভাবেই দোকান থেকে মুড়ি মুড়কির মত এন্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া যাবে না। এতে রোগ ভাল হবে না এবং শরীর ও দুর্বল হয়ে পরে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

টেকনাফ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, এটি মৌসুম পরিবর্তন জনিত ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এ সময়টাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিরোধ নেই, যা করলে এই ঠান্ডাজনিত জ্বর থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, শিশুদের জন্যে বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে। ঠান্ডা থেকে যতোটা দূরে রাখা যায় এবং তাপমাত্রার সঙ্গে যেন শিশু খাপ খেয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাইরাসজনিত অসুখ থেকে মুক্তি পেতে বুকের দুধ বড় ভূমিকা রাখে। বড়দের তুলনায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে অসুখে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে যেকোনো ধরনের ওষুধ সেবন করাতে মানা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


এছাড়া প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিহিস্টাসিন খেলেই এটি ভালো হয়ে যায়। সংক্রামক হওয়ায় বাইরের ধুলো থেকে যতো দূরে থাকা যায়, ততোই ভালো। আর আক্রান্ত হলে বাইরে না বের হওয়াই ভালো।
হাঁচি ও কাশি দেওয়ার সময় রুমাল বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। তবে এ জ্বরে আতঙ্কিত না হয়ে বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া, যেমন ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দেওয়ার পরামর্শ দেন যদি জ্বর ৩ বা ৪ দিনের বেশি থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধও জানান।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ