টেকনাফে চিংড়ি প্রদর্শনী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অস্তিত্ব বিপন্নের পথে


মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায় স্থাপিত দেশের একমাত্র চিংড়ি প্রদর্শনী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অস্তিত্ব বিপন্নের পথে। ১৯৮৬ সালে টেকনাফের নাফনদী ও কায়ুকখালী খালের তীরে ২১ একর বিশাল জায়গার উপর টেকনাফ চিংড়ি প্রদর্শনী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। এ কেন্দ্রে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনীর জন্য ছয়টি ঘের, অফিস ভবন, পরিক্ষাগার, আবাসিক ভবন ও বিশ্রামাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা চিংড়ি চাষাদীর স্বার্থে নির্মাণ করা হলেও এর উদ্দেশ্য স্লান হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে – সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ একটি মৎস্য জোন হিসাবে খ্যাত। বিস্তীর্ণ নাফ নদীর তীরে প্রায় শতাধিক চিংড়িঘের রয়েছে। এসব চিংড়িঘের সমূহ সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আসছে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চিংড়ি ঘেরের মালিক -চাষীরা সুযোগ সুবিধা থেকে একেবারে বঞ্চিত। এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন ভাতা উঠাচ্ছে শুধু। কাজের কাজ বলতে কিছুই হচ্ছেনা। চিংড়ি প্রদর্শনী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলেও এর প্রতি সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। যার কারণে এ প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে স্লান হতে চলেছে। একদিকে নাফনদীর জোয়ারের তোড় অন্যদিকে কায়ুকখালী খালের পাহাড়ি ঢলের ¯্রােতে এবং অপরদিকে খাল ভরাটসহ ত্রিমূখী সমস্যার কবলে এ প্রতিষ্ঠানটি সমস্যায় জড়িত। যার কারণে আর্থিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে আসছেনা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এ প্রতিষ্ঠানের পুকুরগুলো গোপনে নিলাম দেয়ার নামে একশ্রেণী অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। চিংড়ি চাষী হ্নীলার জাফর আলম জানিয়েছেন- এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নামে আছে, কাজেই নেই এমন অবস্থা চলছে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একমাত্র চিংড়ি প্রদশর্নী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। মাত্র কয়েক বছর ধরে চিংড়ি চাষীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনের উদ্দেশ্য চিংড়ি, চাষীদের সমাগম দেখা গেলেও পরবর্তীতে তেমন একটা দেখা যায়নি। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিপন্নের পথে। নাফ নদী এবং কায়ুকখালী খালের ¯্রােতে বিপরীত খাল ভরাটের কারণে চিংড়ি প্রদর্শনীর প্রশিক্ষণ খামারের পুকুরগুলো ভেঙ্গে স্থলের সাথে একাকার হয়ে যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চল টেকনাফে এতো বড় একটি মৎস্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় চিংড়ি চাষীদের জন্য ভাগ্য পরিবর্তনের একটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটি নামে আছে কাজে নেই। আজ এমন অবস্থা চলছে এখানে। টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত মোঃ দেলোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিংড়ি প্রশিক্ষণ খামার ও প্রর্দশনী বেহাল অবস্থার সংস্কারের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটি সুরক্ষিত করতে হলে তার চর্তুদিকে বাউন্ডারী প্রতিস্থাপন করতে হবে। তিনি আরো বলেন-২০২০-২০২১ অর্থ বছরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জার পাড়া, লম্বা বিল ও মিনাবাজারে ২২০ জন, মৎস্যজীবী জেলেদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ