টেকনাফে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক

Transfermer-dtn

টেকনাফে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক পড়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়াতে শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চলতি সনে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। চুরির ঘটনায় পবিস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও ভুক্তভোগীরা ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া এলাকায় সাড়াশি অভিযান জোরদারের কথা জানিয়েছে। প্রতিবছর গরম ও বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বিদ্যুতের সরঞ্জমাদি চুরি হয়ে থাকে। শক্তিশালী চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় চক্রটি আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, চোর সিন্ডিকেটের সাথে ভাঙ্গারী বা এস্ক্রাপ ব্যবসায়ীর সাথে গভীর সখ্যতা আছে। কতিপয় এস্ক্রাপ ব্যবসায়ী পল্লী বিদ্যুতের চুরি করা মোটা সার্ভিস থার, ট্রান্সফরমার সহ মূল্যবান জিনিস পত্র পাচার করে থাকে। লাইনে বিদ্যুৎ না থাকলে, অভিনব কৌশলে বা লাইনে সমস্যা হচ্ছে মর্মে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে মুখোশধারী চোরের দল সাধারণত ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার সদর ইউনিয়নের লেংগুর বিল এলাকার রবি টাওয়ার থেকে ১০ কেভি, নতুন পল্লান পাড়া এলাকা থেকে ৫ কেভি, বাহারছড়ার নোয়াখালীয়া পাড়া থেকে ১০ কেভি, হ্নীলার হোয়াব্রাং রাস্তার মাথা এলাকা থেকে ৫ কেভি, হোয়াইক্যংয়ের নয়াপাড়া এলাকা থেকে ৫ কেভি ও লম্বাবিল প্রাইমারী স্কুল এলাকা থেকে ৫কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার চলতি সনের বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়ে গেছে। গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চোর সিন্ডিকেট টেকনাফ অফিসে মোবাইলে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা আছে বলে লাইন বন্ধ করার মাধ্যমে অভিনব পদ্ধতিতে চুরি করে। বিশেষ কায়দা অবলম্বন করে লাইনচ্যুত করে দিয়ে চুরি করে থাকে। স্থানীয় অনেকে বলছেন, পবিসের কেউ না কেউ হাত না থাকলে বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় কিভাবে চুরি করে। সচেতন মহল মনে করছেন, চোরের চুরি বিদ্যার অভাব নেই। যতই কঠিন হউক না কেন বিশেষ পন্থা অবলম্বন করে চোরেরা চুরি ঠিকই করে ফেলবে। এখানে পবিসের কেউ জড়িত থাকার প্রশ্নই আসেনা। আসলে ট্রান্সফরমার চুরি বড়ই কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাণের আশংকাতো থাকেই। তবে জঘন্য এসব চোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরণের বিপদ ঢেকে আনতে পারে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা বিষয়টি জন গুরুত্বপূর্ণ ভেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক নয়াপাড়া এলাকার মোশতাক আহমদ জানান, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়াতে বিষম কষ্ট হচ্ছে। আমাদের ট্রান্সফরমারের আওতায় চলতি এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থী গ্রাহক থাকায় সমস্যার তীব্রতা আরো বাড়ছে। হোয়াব্রাং এলাকার আব্দুল গফুর জানান, প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া সময় একদম চলেনা। বিদ্যুৎ বিহীন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। জানতে চাইলে টেকনাফ পল্লী সমিতির সহকারী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তাফা ডালি বলেন, ট্রান্সরফরমার চুরি হওয়ার সাথে সাথে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আমরা থানায় ডায়েরী করেছি। সচেতনতা বৃদ্ধি জন্য এলাকায় এলাকায় মাইকিং করেছি। গ্রাহকদের আরো বেশী সচেতন হতে হবে। চুরি হয়ে গেলে গ্রাহকদের সহযোগীতায় চোর চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সর্ম্পূণ পুলিশ প্রশাসনের উপর পড়ে। ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে ৫০% টাকা পরিশোধ করে নতুন আরেকটি সংযোজন করার বিধান আছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।