টেকনাফে দেহ ব্যবসায় ধরা, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফ সদর ইউপির নতুন পল্লন পাড়ার মো. ইউসুফের ছেলে নুরুল আবছার ও নাজিরপাড়ার আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল। দুজনেই পতিতাবৃত্তিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গত ৫ মে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সেদিন টেকনাফ পৌরসভার হোটেল রাজমহল থেকেই তাদেরকে আটক করা হয়। সেসময় ওই দুই যুবক পুলিশের কাছে তাদের পরিচয় গোপন করে অন্যের নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছে। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলায় বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। তাদের ভুয়া পরিচয় দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ও আদালতের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযুক্তরা জামিন পেতে নানাভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে । পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, টাকার লোভ দেখিয়ে ও জোর করে যুবতিদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর দায়ে চলতি বছরের ৫ মে টেকনাফ পৌরসভার ঝর্ণা চত্ত্বরের রাজ মহল নামের আবাসিক হোটেল থেকে খদ্দের ও পতিতা সহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। সেদিনই তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে মানবপাচার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু আটকের পর মোহাম্মদ রাসেল পুলিশের কাছে নিজেকে পানছড়ি পাড়া গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলে পরিচয় দেয়। সেই নামে তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলাও করে। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে নুরুল আবছারকেও আটক করে পুলিশ। কিন্তু নুরুল আবছারও সেদিন কৌশলে একই গ্রামের নুর হোছনের ছেলে নুরুল আমিন বলে নিজেকে পরিচয় দেয়। এ বিষয়ে মামলার বাদী টেকনাফ থানার এসআই মো. বাবুল বলেন, হোটেল রাজমহল আবাসিক থেকে ৫ মে পতিতাবৃত্তির দায়ে নারী- পুরুষ সহ ১২ জনকে আটক করি। সেদিন তাদের দেওয়া তথ্যমতে এজাহারে তাদের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করি। ওখানে কেউ যদি নাম ঠিকানা গোপন করে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে থাকে তবে তিনি প্রতারনা করেছেন। এদিকে আদালত সূত্র জনায় ১১ জুন ওই মামলার তিন নম্বর আসামী জামিন আবেদন করে । তবে নাম ঠিকানা ভুল থাকায় তার জামিন না মঞ্জুর করা হয়। এবিষয়ে টেকনাফ আদালত পুলিশের সাধারন নিবন্ধন কর্মকর্তা ( জিআরও) মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, মামলাটির এজাহারভুক্ত ১ নং ও ৩ নং আসামী নিজেদের নাম পরিচয় গোপন করেছে। এদের মধ্যে তিন নম্বর আসামী জামিন আবেদন করলে আবেদনের সাথে সংযুক্ত কাগজপত্র তার ভিন্ন নামের বিষয়টি নজরে আসে আদালতের। বিষয়টি খেয়াল করে এটি প্রতারনা বলে উল্লেখ করেছেন টেকনাফ আদালতের বিচারক কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন। এদিকে এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এসআই মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার দুইজন আসামী নিজেদের নাম পরিচয় গোপন করেছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গেল সপ্তাহে ওই দুই আসামী সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে আমি ধারনা করছি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন রক্ষা পেতেই তারা অন্যের নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছে। কারন তাদের অতীত কর্মকান্ডে অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমান পায়নি। তারপরও বিষয়টি আইনি সুরাহার জন্য প্রত্যেক আসামীর নাম –ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ঠ থানাতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার আদালতে সিনিয়র আইনজীবি আয়াছুর রহমান বলেন, দেহ ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা হয়। একটি অপরাধ সংঘটিত করে চার্জশিট থেকে নিজেদের নাম পরিচয় গোপন করার অপচেষ্টা থেকেই তারা অন্যের নাম ব্যবহার করেছে। এটি বড় ধরনের প্রতারণা।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।