টেকনাফে পাচারকারীর কবল থেকে রক্ষা পাওয়া আইরিনের নতুন জীবন

5cc8a9199db80da8dbedc11bb6afb4f9-IMG_20160112_132935
পাচারকারীর কবলে পড়েছিল হাতির শাবক ‘আইরিন’। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছে সে। মায়ের কোলছাড়া হয়েছে। ধকল সইছে অনেক। সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে সে এখন সুস্থ

হাতির শাবক আইরিনকে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আনার পর থেকেই সন্তানের মমতায় তাকে পরিচর্যা করেন মাহুত সত্যজিৎ​ চাকমা। ১০ জানুয়ারি দুপুরে আইরিনকে খাওয়ানোর সময় তোলা ছবি l প্রথম আলো১০ জানুয়ারি। বেলা দুইটা। রোদ থাকলেও তেমন দাপট নেই। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অনেক প্রাণী বিশ্রামে। কেউ বেষ্টনীর ভেতরে থাকার ঘরে, কেউ গাছের ছায়ায় শুয়ে-বসে। ব্যতিক্রম ‘আইরিন’। হাসপাতালের পূর্ব দিকের একটি কক্ষ থেকে হাঁক-ডাক দিচ্ছে সে। কারণ, দুপুরের খাবারের সময় হয়েছে। পার্কের কর্মী সত্যজিৎ চাকমা এসে দরজা খুলতেই ছুট। কিছু দূর গিয়ে ডাক পাড়তেই আবার ছুটে এল বেষ্টনীতে। সামনে কলার কাঁদি ধরার সঙ্গে সঙ্গে সাবাড়।
এই ‘আইরিন’ হাতির শাবক। পাচারকারীর কবলে পড়েছিল। মরতে মরতে বেঁচে গেছে সে। মায়ের কোলছাড়া হয়েছে। ধকল সইছে অনেক। সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে সে এখন সুস্থ। পার্কের কর্মী (মাহুত) সত্যজিৎ চাকমা সন্তানের মমতায় বড় করছেন তাকে।
গত বছরের ২ মার্চ টেকনাফের নাফ নদী থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দল হাতির শাবকটি উদ্ধার করে। ওই দিন রাতেই এটিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। এরপর পার্ক থেকে তার নাককরণ করা হয় ‘আইরিন’।
পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাতির বাচ্চাটি যখন পার্কে আনা হয় তখন ভীষণ খারাপ অবস্থা তার। পানি খেয়ে ও অভুক্ত থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পায়েও আঘাতের চিহ্ন। আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল তাকে বাঁচিয়ে রাখা। আমরা পেরেছি। বাচ্চাটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। প্রতিদিন ৩২ লিটার ল্যাকটোজেন থ্রি দুধ, ৫০টি কলা, ৫ কেজি কলা গাছ ও ৫ কেজি ঘাস খায় সে। বয়স ও উচ্চতা অনুপাতে খাবারের পরিমাণ সঠিক আছে। তার ওজন ১৫০ কেজি। প্রথম পর্যায়ে তাকে ২০ লিটার করে দুধ খাওয়ানো হতো। তখন বয়স ছিল আনুমানিক ছয় মাস, এখন এক বছর চার মাস।’
আইরিনকে পার্কে আনার পর থেকে ১০ মাস ধরে দেখভাল করছেন মাহুত সত্যজিৎ চাকমা। তিনি বলেন, ‘আইরিনের মা-বাবা আমি। আমাকে ছাড়া সে থাকতে পারে না। তার কারণে আমাকে রাতে পার্কের হাসপাতালে থেকে যেতে হয়। আমার গন্ধ না পেলে সে কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’ সত্যজিৎ আরও বলেন, প্রথম ৩০ থেকে ৪০ দিন আইরিন মায়ের জন্য অনেক কান্না করেছে। তার কান্না দেখে নিজেরই মায়া লেগে যায়। ধীরে ধীরে সেবাযত্ন দিয়ে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়েছে। এখন প্রতিদিন তাকে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হয়। ব্যায়াম করাতে হয় দুই বেলা।
সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক (রেঞ্জার) নুরুল হুদা বলেন, সার্কাসে ব্যবহারের জন্য পাচারকারী চক্র মিয়ানমার থেকে টেকনাফে হাতির বাচ্চাটিকে পাচার করছিল। বিজিবি খবর পেয়ে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর বাচ্চাটি বাঁচবে কি না এ নিয়ে সবার মধ্যে আশঙ্কা ছিল। তবে সঠিক পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে উঠেছে। এটিকে এভাবে বছর খানেক আলাদাভাবে পরিচর্যা করা হবে। এরপর হাতির বেষ্টনীতে দেওয়া হবে। এখন বেষ্টনীতে আরও চারটি হাতি আছে।
প্রথম আলো

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।