টেকনাফে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার লবণ

জসিম মাহমুদ []টেকনাফে আচমকা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানের লবণের মাঠ তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে লবণের মাঠ। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার লবণ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। বুধবার ভোর ৫টার সময় টানা ৩ ঘণ্টা বৃষ্টিতে পুরো উপজেলার উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াধীন লবণ ভেসে যায়।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহ পরীর দ্বীপ এলাকার লবণ চাষী ফোকান বলেন, মাঠে প্রচুর লবণ ছিল। সকালে বৃষ্টিতে সব লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া এলাকার লবণ চাষী আলী হোসেন বলেন, মাঠে প্রচুর লবণ ছিল। হঠাৎ সকালে বৃষ্টি হওয়ায় সব লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাবরাং নয়াপাড়া লবণ চাষি মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমরা ২ জন মিলে চলতি বছরে ২০ একর লবণ মাঠ করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম। হঠাৎ এ বৃষ্টির কারণে প্রায় ৮ লাখ টাকারও বেশ ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি শেষ হওয়ার পরপরই পুনরায় মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে চাষীদের। লবণ চাষীদের ভাষ্য, বৃষ্টি হলেও এবার মৌসুম ভালো থাকলে লবণ উৎপাদন করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠা যাবে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, গেল বছর লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষীরা এ বছর সহায় সম্বল বিক্রি করে নেমে পড়েছেন লবণ চাষে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সাবরাং ইউনিয়নের চাষীদের কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহম্মদ বলেন, বছরের শেষের দিকে লবণ উৎপাদন বেশি হচ্ছে, হতাৎ বৃষ্টিতে টেকনাফ উপজেলায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও লবণের উৎপাদন ভালো হবে বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, লবণ মৌসুমের শেষের দিকে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে টেকনাফ শাহ পরীর দ্বীপে ৬ বছর পর প্রায় ২ হাজার একর জমি লবণের মাঠ চাষের আওতায় আনা হয়েছে এবার। তাই লবণ উৎপাদন নিয়ে সংকটে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।