টেকনাফে মাদকরোধে প্রদীপই ভরসা

জামাল উদ্দিন ()
সুযোগ-সুবিধাভোগীদের কারণে পুরো টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকা মাদকের বিষাক্ত নীল ভাইরাস আর অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানীতে পুরো সমাজ ব্যবস্থা এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে টেকনাফকে অন্ধকারমুক্ত করতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের কর্মতৎপরতাই যথেষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু সুযোগ-সন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী মহল এই চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনা করলেও পুলিশী তৎপরতায় টেকনাফে এখন মাদক স¤্রাজ্য ভেঙ্গে পড়েছে। বড় বড় রাঘব-বোয়ালেরা ফেরারী হয়ে যাওয়ায় মাদকের অপতৎপরতা তিন চতুর্থাংশ কমেছে বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।
গত ১৯ অক্টোবর ওসি প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানে যেকোন মূল্যে টেকনাফের মাদক স¤্রাজ্য ধ্বংস করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো উপজেলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বিরোধী সাড়াঁশী অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় নিহত, অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ইয়াবা গডফাদারেরা বন-জঙ্গলে ফেরারী হয়ে পড়ে। অনেকে আতœগোপনে অবস্থান করলেও আবার অনেকে প্রাণ রক্ষার্থে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের গড়ে তোলা স্বর্ণ কমল সমুহ। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন দাবী করা হলেও মুলত টেকনাফে মাদক চোরাচালানীদের তৎপরতা কমে গেছে।
এসব অভিযানের মধ্যেও সুযোগ-সন্ধানী দালাল চক্র বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ সব অপরাধ দমনে বদ্ধ পরিকর বলে জানায়।
এদিকে টেকনাফের সচেতন মহল ও বাহিরে অবস্থান করে বিড়ম্বনার শিকার লোকজন জানান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বিরোধী অভিযানের ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসছে। টেকনাফের এই অপবাদ দূর হলে বাহিরে অবস্থানকারী টেকনাফের শিক্ষার্থী, বাসিন্দা ও প্রবাসীরা অনাকাংখিত বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে বলে মত প্রকাশ করেন। তাই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত টেকনাফে মাদকের জিরো টলারেন্স নীতির সুফল পেতে হলে টেকনাফ মডেল থানায় ওসি প্রদীপের কর্মতৎপরতা ও আলো দরকার বলে সচেতন মহল মনে করেন।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।