টেকনাফে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

১০ বছর পর টেকনাফে মানসিক ভারসাম্যহীন পিরোজপুরের সাহেদা আক্তার ছেনুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে টেকনাফ মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) এ বি এম এস দোহার উপস্থিতিতে এই মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ও মানসিক রোগীর সেচ্ছাসেবী সংঘটন মারোতের যৌথ প্রচেষ্টায় এ কাজটি করা সম্ভব হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা বলেন, দীঘ দশ বছর পর একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অনেক চেষ্টার পর এ কাজটি সফল হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতাল গেইট থেকে ছেলে ধরা সন্দেহে এক মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার সাথে কথা বললে বিভিন্ন নাম ঠিকানা দেয়। এতে বুঝা যায় ওই মহিলাটি মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। পরে টেকনাফে মানসিক রোগীদের সেচ্ছাসেবী সংঘটন মারোতসহ পুলিশ তার দেওয়া বিভিন্ন ঠিকানা যাচাই কালে পিরোজপুর জেলার জিয়া নগর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) হাবিবুর রহমান ও স্থানীয় মেম্বার মাহতাব ও রাজ্জাকের সাথে কথা হলে এ মহিলার নাম ঠিকানা পাওয়া যায়। তার নাম সাহেদা আক্তার ছিনু, স্বামী আমজাদ, প্রঙ্গা হাওলাদার বাড়ী, জিয়ানগর, পিরোজপুর। ওই মেম্বাররা বলেন, এই মহিলাটি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। দীঘ ১০ বছর আগে কোথায় হারিয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। এ খবর মহিলার পরিবার পেয়ে তার দুই সন্তান সাইফুল ও সজিবুল টেকনাফ ছুটে আসেন। মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ মডেল থানায় মা ছেলেদের দেখা হয়। একে অপরকে চিনতে পেরে এক হ্দয় বিধারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। ওসি দোহা আরও বলেন, জিয়ানগন থানার ওসি স্যার, ঐ এলাকার মেম্বার ও ছেলের সাথে কথা বলে মহিলাকে সনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে রাতেই পুলিশ কর্মকর্তা, সেচ্ছাসেবী সংঘটন মারোত ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সামনে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলাকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তবে সেচ্ছাসেবী সংঘটন মারোতের সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, আত্ম মানবতার সেবায় আমরা কাজ করছি। মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের নিয়ে আমাদের কাজ। এই সংগঠন থেকে শুরু থেকে এই পর্যন্ত ১৯ জন মানসিক রোগীকে স্ব স্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ