টেকনাফে লিচু চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে


টেকনাফে দিন দিন লিচু চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সুমিষ্ট ফল লিচুর কদর বাড়তে থাকায় সীমান্ত এই উপজেলার কৃষকরাও এই চাষের দিকে ঝুঁকছে। অল্প পুজিঁতে সঠিক পরিচর্যায় মাত্র ৪/৫ বছরের ব্যবধানে মৌসুমে গাছ প্রতি মোটাংকের টাকা আয় করা সম্ভব বলেই কৃষকরা লিচু চাষের চিন্তাভাবনা করছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু এই ফল এখন টেকনাফের হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। নিজ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমী ফল লিচু কিনতে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন,টেকনাফে উৎপাদিত লিচু এখন এখানকার চাহিদা পূরণ করছে।
প্রবীণ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়,এক সময় টেকনাফের মাটি লিচু চাষের জন্য উপযোগী ছিলনা। বিভিন্ন সময়ে এখানে কিছু কিছু এলাকায় লিচু গাছের চারা রোপণ করা হলেও তখনকার কৃষকরা মোটেও সফল হতে পারেননি। তবে বর্তমানে টেকনাফের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য বেশী উপযোগী বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকেরা। কৃষি বিভাগের লোকজন টেকনাফের পাহাড়ী এলাকার শত শত হেক্টর অনাবাদী জমিতে লিচুর আবাদের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন,পাহাড়ী জমিতে সাধারণত লিচুর ফলন ভাল হয়। লিচু চাষে সফল বেশ কয়েকজন কৃষকও একই মন্তব্য করে বলেন,খানিকটা উচু জমি লিচু চাষের জন্য উপযোগী। লিচু ছেলে-মেয়েসহ সকলের প্রিয় ফল। ফরমালিনমুক্ত সু-স্বাদু এই ফলের চাষ বাড়ানো খুবই প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষক ফখরুল ইসলাম ফারুকীসহ সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগ জানায়,টেকনাফে মাত্র ২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। স্থানীয় জাত চায়না-৩ এবং হালিপূরী লিচুর চাষ করেছেন এখানকার কৃষকরা। স্থানীয় জাতের লিচু উন্নত জাতের চেয়ে আগাম ফলন দেয়। তাই কৃষকরা মৌসুমের শুরুতে লিচু বাজারে তুলতে পারেন। এই কারণেই টেকনাফের বাজারে আগাম লিচু বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার রঙ্গিখালী এলাকার কৃষক আবুল কালাম জানান,চারা রোপনের ৪/৫ বছরের মধ্যে লিচু গাছ ফলন দেয়। গাছে মুকুল হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে লিচু খাবারের উপযোগী হয়। সাধারণত বৈশাখ মাসের শুরুতে স্থানীয় জাতের লিচু পরিপক্কতা লাভ করে। পানখালী এলাকার কৃষক ফেরদৌস জানান,আমার বাগানে ৮টি লিচু গাছ রয়েছে। প্রতি গাছে ২০হাজারেরও বেশী লিচু ধরে। মৌসুমে আমি লিচু বিক্রি করে ২লক্ষাধিক টাকা আয় করছি। স্থানীয় জাতের লিচুর চাহিদা এতই বেশী জানিয়ে এই কৃষক আরও জানান,গাছে লিচু পাকার আগেই খুচরা এবং পাইকারী বিক্রেতারা বাড়ীতে এসেই অগ্রিম টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া এলাকার সফল কৃষক আব্দুল জলিলের পুত্র আমান উল্লাহ জানান,আমাদের বাগানে ৪০টি লিচু গাছ আছে। বেশীর ভাগ গাছে লিচুর ফলন হয়েছে। অল্প পুজিঁতে মাত্র ৩/৪ বছরে লিচুর ফলন দেয় জানিয়ে ক্ষুদে এই কৃষক আরো জানান,বাজারে লিচুর চাহিদা এবং মূল্য থাকায় খুচরা-পাইকারী বিক্রেতার বাগানে এসেই লিচু নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদে এই কৃষক আবাদকৃত পাহাড়ী জমিতে আগামীতে আরো বেশী করে লিচু চাষের পরিকল্পনার কথা জানান। কৃষি অফিসের কোন সহায়তা ছাড়া লিচু চাষে সফল কাঞ্জরপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল ইত্তেফাককে জানান,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহায়তা পেলে লিচু চাষে এতদাঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকবে এবং সফলতা পাবে।
সচেতন অভিভাবক বাহাদুর শাহ তপু ও মৌলভী মো: জাহাংগীর আলম জানান,গরম কালে অন্যান্য ফলের চেয়ে লিচু ছেলে-মেয়েদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ফলে কোন ধরণের ফরমালিন-টরমালিন নেই। ভেজালমুক্ত সুমিষ্ট এই ফলের প্রতি ছেলে-মেয়েদের একটু ঝুঁক বেশী জানিয়ে তাঁরা টেকনাফ অঞ্চলে বেশী বেশী লিচু চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেন। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম জানান,মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফের পাহাড়ী এলাকার কৃষকরা লিচু চাষের দিকে ঝুঁকছে। কৃষকরা যখনই সহযোগীতা চাচ্ছেন তখনই মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম জানান,টেকনাফের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য উপযোগী। জলবায়ুগত কারণে এখানে লিুচুর আগাম ফলন পাওয়ায় যায়। তাতে কৃষকরা ভাল লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে লিচু চাষের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

More-wait-for-rain

কক্সবাজার ডেস্ক :

তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ নাগরিকদের আরও দুয়েক দিন বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষায় থাকতে হবে।আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার পূর্বাভাস দিয়েছে, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বয়ে চলা তাপপ্রবাহ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। রবি বা সোমবার বৃষ্টি হতে পারে দেশের কিছু এলাকায়। শুক্রবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল আগের দিনের মতই ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; এটাই ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ‘মৃদু’, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ‘মাঝারি’ এবং ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করেন।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, “তাপপ্রবাহ শুক্রবারও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অব্যাহত রয়েছে। রোববারের দিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপপ্রবাহ কমে আসবে।” তবে বঙ্গোপসাগরে এখনই কোনো নিম্নচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ।
ঘূর্ণিঝড় ফণী আসার আগে গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস; এ মৌসুমে এটাই দেশের সর্বোচ্চ।এদিকে রোজার মধ্যে টানা তাপপ্রবাহে নাগরিক জীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা। রোগবালাই এড়াতে খাবারে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।তারা বলছেন, তাপদাহ অব্যাহত থাকলে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ সময় যতটা সম্ভব নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রচ- তাপদাহে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। অনেকেই পানির চাহিদা মেটাতে অনিরাপদ পানি পান করেন, যার ফল হয় খারাপ। তাছাড়া গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নিম্নবিত্তের মানুষের মধ্যে পচা-বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।