টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কোহিনুর আক্তারের একান্ত সাক্ষাতকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন, নিজেদের সমস্যা দূর করে তারা শুধু সাবলম্বী হননি, তারা সন্তানদের পালন, সংসারিক কাজকর্ম এবং অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করছেন তারা। এমননি একজন নারীর কথা তুলে ধরছি আজ।
ছোট কাল থেকেই রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা এক তরুণীর নাম কোহিনুর আক্তার, পিতা সুলতান আহমদ, মাতা রহিমা সুলতানা প্রকাশ ময়না, পিতা সরকারী চাকুরী করেন, মা ছিলেন সাবেক ইউপি মেম্বার ও সাবেক সিলেকশন কমিশনার এবং টেকনাফ পৌর শহরের মাতাব্বর বংশের মেয়ে।
বর্তমানে নারীনেত্রী কোহিনুর আক্তার টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর, টেকনাফ উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি, টেকনাফ ডিজিটাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান, অনলাইন নিউজ পোর্টাল টেকনাফ নিউজ ৭১ ডটকেমর প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নারী সংগঠক ও নারীনেত্রী কোহিনুর আক্তার টেকনাফ নিউজ ৭১ ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, আমি টেকনাফ উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি সাংগঠনিকভাবে পুরো উপজেলায় রাজনৈতিক মানচিত্রে বিচরণ করছি, সে সুবাদে অলি-গলি আমার পরিচিত হয়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার নারীনেত্রী। তাদের দেয়া সম্মান ও সেবা করার মানসে আমি আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীতা করার ইচ্ছাপোষণ করছি।
আমি পারিবারিক ভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির আদর্শে বেড়ে উঠেছি, আমার রাজনৈতিক জীবনে ছোটবেলা থেকেই আমাকে প্রভাবিত করেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তাকে তো চোখে দেখার সুযোগ পাইনি। ধন্য হয়েছি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব দেখে এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করছি শেখ হাসিনাকে আইডল হিসেবে। পাশপাশি কক্সবাজার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত, জাতীয় মহিলা সংস্থার সভাপতি ও জেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি কানিজ ফাতেমা মোস্তাকের সান্নিধ্যে স্নেহ মমতা ও ভালবাসায় আমি অভিভুত হয়েছি। আমাকে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় নেত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ।
আমি এ পর্যন্ত মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। ক্ষমতা বা ভোগে নয়,ত্যাগের রাজনীতিতে আমি সক্রিয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন নগন্য কর্মী হিসাবে। শুধু আমার নিজ বাড়ির এলাকা নয়, পুরো উপজেলাকে উন্নয়ন করতে এবং মানুষের সেবা করতে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি, সম্ভবমত দলীয় বিভিন্ন কর্মসুচীতে অংশগ্রহণ করছি।
আমি দুই বছর আগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করে, পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করি, আমার বিপক্ষে প্রার্থী ছিল দুইজন। আমি বিপুল ভোট বিজয়ী হওয়ায় তারা জামানতও ফেরত পাইনি। আমাকে ভোটের মাধ্যমে টেকনাফ পৌরসভায় প্যানেল মেয়র ঘোষণা করা হয়। জনগণের ভোটের মুল্যায়ন আমি নিজ দায়িত্ব মনে করি। এ থেকে আমার হাত ধরেই বন্ধ হয় এলাকার নারী নির্যাতন, স্বাক্ষর বাণিজ্য, বিচার বাণিজ্য, ভোটার বাণিজ্য, যার কারণে লেগে যায় কাউন্সিলরদের সাথে বাকযুদ্ধ। এছাড়া গর্ভবতী,প্রসূতি, অসুখে আক্রান্ত রোগীদের কথা চিন্তা মানবসেবার মহানব্রত হিসেবে বিভিন্ন লোকজনের কাছে শেয়ারের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অপ্রাণ চেষ্টা করে টেকনাফ ডিজিটাল প্রতিষ্ঠা করেছি।
শুধু এখানে শেষ নয়, টেকনাফে উপজেলা মহিলা আ’লীগের নামে মাত্র একটি কমিটি ছিল, তাদের কার্যক্রম ছিল নিস্কিয়, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রত্যেক ইউনিয়ন ও ওর্য়াড কমিটি গঠন করেছি, এখন মহিলা আওয়ামীলীগ নারী সংগঠন যাত্রা শুরু হয়েছে নতুনভাবে। বিগত দিনে নারী নেতৃত্বে কোন পুস্পমাল্য শহীদ মিনারে দিত না। প্রথম আমি পুস্পমাল্য দিয়ে রের্কড করেছি। কেন্দ্রীয় মহিলা আ’লীগের সভাপতি সাফিয়া আপা নিজেই খুশিতে টেকনাফে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করল।
নারী নেত্রী কোহিনুর আরো বলেন,’আমি স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নারীদের মধ্যে সচেতনাবোধ সৃষ্টি, নারীর প্রতি সহিংসতা দমন ও স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা ও মহিলা আওয়ামী লীগ কে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে চাই। পাশাপাশি চান নিষ্ঠাবান সৎ নারী সংগঠক হিসেবে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে। সুযোগ পেলে তিনি ভূমিদস্যুতা ও সালিশের নামে অর্থগ্রহণের মতো বিষয়গুলো দূর করতে চান।
আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আমাদের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নে যে সব কর্মসুচী বাস্তবায়ন করেছেন তা বিগত ইতিহাসে বাংলাদেশে নেই। এখন নারীরা বিমানের পাইলট, সেনাবাহিনী, পুলিশ,ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা পেশায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের অভিনন্দন। বর্তমান সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে চলেছে। এই সরকারের বড় সাফল্য পদ্মা সেতু নির্মানে অগ্রগতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বিদ্যুৎও শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন।
বিশেষ করে কৃতজ্ঞ এ এলাকার জনপ্রিয় সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদির কাছে ও সহধর্মনি শাহিনা আপার কাছে। যাদের অনুপ্রেরনা,সহযোগিতা ও সহায়তায় অনেক দুর এগিয়ে এসেছি।
সবর্শেষে তিনি জানান- তার নেতৃত্বের উত্থান দেখে একটি কুচক্রীমহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং প্রতিন্দন্দ্বী প্রার্থী মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদে প্রার্থী
হতে না পারায় জন্য তার বিরুদ্ধে জঘন্যতম মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। যা থেকে বিঞ্জ আদালত অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

৭ thoughts on “টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কোহিনুর আক্তারের একান্ত সাক্ষাতকার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।