টেকনাফ জাহাজপুরা হতে পারে আরেক একটি সম্ভাবনাময়ী আর্কষনীয় পর্যটন জোন

indereterxবাহারছড়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফের জাহাজপুরা হতে পারে সম্ভাবনাময়ী একটি আর্কষনীয় পর্যটন জোন। এক দিকে পাহাড়, অপর দিকে বিশাল বঙ্গোপসাগর, মাঝখানে প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি গর্জন বন সম্পদ যেন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। নৈসর্গিক এ সৌন্দর্য্যে মন যেমন জুড়িয়ে যায়, তেমনি প্রাণ ভরে যায় আনন্দে। বিষাদে ভরা মনকে নিমিষেই করে দেয় উৎফুলময়। বাহারছড়া ইউনিয়নের অবহেলিত একটি জনপদের নাম জাহাজপুরা।

টেকনাফ উপজেলা শহরের অদূরে সাগর পাহাড় বেষ্টিত এ গ্রামের লোকজনের আয়ের উৎস সাগরে মৎস্য শিকার, বন জঙ্গলে কাঠ আহরণ, মোট জনসংখ্যার একতৃতীয়াংশ নিরক্ষর জনগোষ্ঠী জীবিকার তাগিদে নির্বিচারে সাগরের মৎস্য পোনা আহরণ ও বন সম্পদ উজাড় করলেও বাহারছড়ার বিশাল বন সম্পদ থেকে যায় অক্ষত। স্থানীয়রা মনে করেন, টেকনাফের অবহেলিত জনপদ জাহাজপুরায় সরকারি ভাবে মাষ্টারপ্ল্যান ভিত্তিক হোটেল-মোটেল সহ অবকাশ যাপনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে জাহাজপুরা হতে পারে কক্সবাজারের ২য় পর্যটন নগরী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন আমলে বিদেশী বণিকেরা তাদের বানিজ্যিক জাহাজ জাহাজপুরায় নৌঙর করে বিশ্রাম করত। একদিন অসাবধানতা বসতঃ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় একটি বিশাল আকার জাহাজ পুড়ে যাওয়ার পর থেকে এ স্থানের নামকরণ করা হয় জাহাজপুরা।

শীলখালী বন রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, উক্ত রেঞ্জের আওতায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর বন ভূমি রয়েছে। মোট বনভূমির অধিকাংশই জাহাজপুরা এলাকায়। গর্জন প্রজাতির মাদার ট্রি সহ অসংখ্য গাছের ভরপুর এ জাহাজপুরার এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী সংশিষ্ট বন বিভাগীয় কর্তা-ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বন সম্পদ লুটপাট ও পাচার অব্যাহত রাখছিল। এমতাবস্থায় এনজিও সংস্থা নিঃস্বর্গ উক্ত বনাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে ২০০২ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলেও এ বনাঞ্চল ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। যার ফলে একটি সম্ভাবনাময়ী পর্যটন স্পট হওয়া সত্বেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।imarttrges

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ জানান, বিশাল বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে উপকূলীয় জনপদ নিয়ে পাহাড় বেষ্ঠিত জাহাজপুরা যুগ যুগ ধরে অবহেলিত হয়ে আসছিল। সরকার এ জাহাজপুরার উপকূলীয় বন সম্পদ রক্ষা করে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুললে পর্যটন খাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাছাড়া এলাকার শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হত।

সেনাবাহিনীর হাতে গড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক জেলা সদর থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার সুবাদে বর্তমানে অহরহ পর্যটকের আনাগুনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে জাহাজপুরা।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।